ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটির পরিকল্পনা সরকারের কিশোরগঞ্জে পুলিশের কাছে পানির বাড়তি দাম নিল ম্যাক টেস্ট শপ নেগেটিভ বিষয় দর্শক বেশি দেখে: অপু বিশ্বাস ইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে যাচ্ছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ স্মৃতির অপেক্ষায় আজও প্রহর গুনছি চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ও ভূমিধসের শঙ্কা আগারগাঁওয়ে ভাইরাল মিজানের হোটেল আবারও উচ্ছেদ, সরানো হলো রান্নার সরঞ্জাম রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা

জুলাই বিপ্লবের দুই বছর: রক্তে লেখা বিজয়ের স্মরণে দেশ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৪:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আজ ৫ আগস্ট, জুলাই বিপ্লবীদের ভাষায় ‘৩৬ জুলাই’। দুই বছর আগে এই দিনে ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেড় দশকের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছিল। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত সেই ঐতিহাসিক বিজয় আজ স্মরণ করছে গোটা দেশ। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন ও শহীদপরিবারকে সংবর্ধনা দেওয়ার মতো নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। অনেকে একে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, ‘বর্ষা বিপ্লব’ কিংবা ‘দুনিয়া কাঁপানো জুলাই বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করছেন। যদিও প্রেক্ষাপট ভিন্ন, তবুও এই আন্দোলন অনেকের কাছে রাশিয়ার অক্টোবর বিপ্লবের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। তবে স্মরণের পাশাপাশি জনমনে একটি প্রশ্নও সামনে আসছে—জুলাইয়ের স্বপ্নের বাংলাদেশ কি মানুষ পাচ্ছে?

বিশিষ্টজনদের মতে, মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে এমন আন্দোলনের পরিণতি বিরল। শত শত প্রাণের আত্মত্যাগের ঘটনা বিশ্ববিবেককে যেমন নাড়া দিয়েছে, তেমনি দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় সরকারকে উৎখাত করে নির্বাসনে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বাণীতে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের বিজয়। তিনি শহীদপরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ১৯৭১ সালে ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ।

বিপ্লবে প্রাণ হারানো অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই চেতনাপরিপন্থি কাজ আল্লাহ সহ্য করবেন না। এদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, একটি শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত জুলাই গণ-আন্দোলন অসমাপ্ত।

সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন এবং বেলা ১১টায় বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশনের মিনিপোলগুলোতে আন্দোলনের আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিদেশে অবস্থিত দূতাবাসগুলোতেও থাকবে বিশেষ আয়োজন। সরকারি-বেসরকারি জাদুঘর ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো আজ জনসাধারণের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল, কারাগার ও শিশু পরিবারগুলোতে প্রীতিভোজের আয়োজন রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকেও পৃথক আলোচনা সভা ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই বিপ্লবের দুই বছর: রক্তে লেখা বিজয়ের স্মরণে দেশ

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

আজ ৫ আগস্ট, জুলাই বিপ্লবীদের ভাষায় ‘৩৬ জুলাই’। দুই বছর আগে এই দিনে ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেড় দশকের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছিল। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত সেই ঐতিহাসিক বিজয় আজ স্মরণ করছে গোটা দেশ। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন ও শহীদপরিবারকে সংবর্ধনা দেওয়ার মতো নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। অনেকে একে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, ‘বর্ষা বিপ্লব’ কিংবা ‘দুনিয়া কাঁপানো জুলাই বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করছেন। যদিও প্রেক্ষাপট ভিন্ন, তবুও এই আন্দোলন অনেকের কাছে রাশিয়ার অক্টোবর বিপ্লবের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। তবে স্মরণের পাশাপাশি জনমনে একটি প্রশ্নও সামনে আসছে—জুলাইয়ের স্বপ্নের বাংলাদেশ কি মানুষ পাচ্ছে?

বিশিষ্টজনদের মতে, মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে এমন আন্দোলনের পরিণতি বিরল। শত শত প্রাণের আত্মত্যাগের ঘটনা বিশ্ববিবেককে যেমন নাড়া দিয়েছে, তেমনি দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় সরকারকে উৎখাত করে নির্বাসনে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বাণীতে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের বিজয়। তিনি শহীদপরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ১৯৭১ সালে ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ।

বিপ্লবে প্রাণ হারানো অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই চেতনাপরিপন্থি কাজ আল্লাহ সহ্য করবেন না। এদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, একটি শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত জুলাই গণ-আন্দোলন অসমাপ্ত।

সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন এবং বেলা ১১টায় বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশনের মিনিপোলগুলোতে আন্দোলনের আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিদেশে অবস্থিত দূতাবাসগুলোতেও থাকবে বিশেষ আয়োজন। সরকারি-বেসরকারি জাদুঘর ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো আজ জনসাধারণের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল, কারাগার ও শিশু পরিবারগুলোতে প্রীতিভোজের আয়োজন রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকেও পৃথক আলোচনা সভা ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor