ইরানের সামনে আলোচনার শেষ সুযোগ, হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ০৯:১৯:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশগুলোর অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরানের সামনে এখন 'শিরশ্ছেদের আগে শেষ সুযোগ' রয়েছে এবং একটি ভালো চুক্তিতে সই করার জন্য এটিই তাদের চূড়ান্ত সুযোগ।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। গত ৩ আগস্ট ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীতে তেহরান বলছে, তারা আলোচনার পরিবর্তে ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, দুই দেশের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়াকে আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, এই নৌপথ খুব শিগগিরই, এমনকি আগামী দিনেই খুলে যেতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি বাস্তবায়নে আরও সময় লাগতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান প্রকাশ্যে আলোচনা অস্বীকার করলেও পর্দার আড়ালে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে। তিনি ইরানকে দ্বিমুখী নীতির জন্য অভিযুক্ত করে বলেন, কোনো চুক্তি বা সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সংঘাত চলছে। যুদ্ধের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা বজায় রেখেছে। সম্প্রতি ট্রাম্পের অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে; গত সপ্তাহে তিনি কঠোর হামলার হুমকি দিলেও শনিবার চুক্তির একটি কাঠামো তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এদিকে ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজের পাশে বিস্ফোরণের ঘটনাও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যদিও ক্রুরা নিরাপদ ছিলেন।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান ও মিত্র দেশগুলো তাকে বড় ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সংঘাত হতে পারত। তবে ইরানের গণমাধ্যম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী; ইরান তার কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ দাবি করলেও পশ্চিমা দেশগুলো তা মানতে নারাজ। এই পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং তেহরানের আলোচনার অস্বীকার সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

























