ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাইযোদ্ধা মিতুর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রভাষক সেজে এইচএসসি খাতা মূল্যায়ন: শোকজ পেল গ্রিনহিল কলেজ মোহাম্মদপুরে নির্মাণাধীন ভবনে পানি দেওয়ার সময় পড়ে নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু সাবেক নৌপ্রধান মাহবুব আলী খানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, দেশ-বিদেশে নানা কর্মসূচি হকি রাঙাতে তিন স্তরে বিদেশি কোচ নিয়োগ দিল ফেডারেশন স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের সুযোগ নেই বললেন মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন বিএনপি নেতাদের ডাকে হাসিনা পালায়নি, দাবি সাদিকুর রহমানের রিপাবলিক বাংলা ছাড়লেন বিতর্কিত সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচারের প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর শাহবাগের মামলায় নতুন ধারার শান্তা-মেহেদীসহ ৬ জন কারাগারে

গুম প্রতিরোধে নতুন আইন: সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও কোটি টাকা জরিমানা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইনটির খসড়া সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল।

মানবাধিকার, ব্যক্তি-স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত এই আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।

আইনটিতে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় বিভিন্ন বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। তদন্তের অগ্রগতি এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানার অধিকারও ভুক্তভোগীদের জন্য স্বীকৃত হয়েছে। এছাড়া, সরকারি আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে রাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

আইনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে রয়েছে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও ব্যয় নির্বাহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর গুম সনদ প্রদান ও উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। এছাড়া, মামলা তদন্ত ও বিচারকার্য সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ ১২০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন এই আইনে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে গুমের ফলে যদি মৃত্যু ঘটে, লাশ পাওয়া যায়, অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তবে অপরাধীর জন্য মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২০: ০৪আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ১৭

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

গুম প্রতিরোধে নতুন আইন: সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও কোটি টাকা জরিমানা

আপডেট সময় : ১২:৫৫:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
print news

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইনটির খসড়া সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল।

মানবাধিকার, ব্যক্তি-স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত এই আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।

আইনটিতে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় বিভিন্ন বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। তদন্তের অগ্রগতি এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানার অধিকারও ভুক্তভোগীদের জন্য স্বীকৃত হয়েছে। এছাড়া, সরকারি আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে রাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

আইনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে রয়েছে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও ব্যয় নির্বাহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর গুম সনদ প্রদান ও উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। এছাড়া, মামলা তদন্ত ও বিচারকার্য সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ ১২০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন এই আইনে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে গুমের ফলে যদি মৃত্যু ঘটে, লাশ পাওয়া যায়, অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তবে অপরাধীর জন্য মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২০: ০৪আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ১৭

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh