ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এআই দিয়ে বিকৃত ভিডিও তৈরির অভিযোগ এমপি এম নাসেরের হজের বিমান ভাড়ার সিন্ডিকেট ভেঙেছে সরকার: বিমান পরিবহন মন্ত্রী আড়াই দশক পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে দেশ ছাড়ল বাংলাদেশ দল গর-ত্রিবেদীর বৈঠক প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান চীনের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব এআই সংস্থায় পর্যবেক্ষক হচ্ছে বাংলাদেশ গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই, জানাল পেট্রোবাংলা ৫ আগস্ট পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশ ও গণমিছিলের ঘোষণা সুজুকি বাইক ক্রেতাদের বীমা সুবিধা দিচ্ছে মেটলাইফ ও র‍্যানকন ৬ বছর পর নাথুলা পাস দিয়ে ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্য শুরু মেট্রোরেল স্টেশনে সন্দেহজনক বস্তু: মতিঝিলের ঘটনার সাথে যোগসূত্র নেই

গঙ্গা চুক্তি নবায়নে ঢাকার সঙ্গে দ্রুত আলোচনার আহ্বান ভারতের কমিটির

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি নবায়নের লক্ষ্যে আর দেরি না করে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনা শুরু করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি। বিরোধী দল কংগ্রেসের এমপি শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন এই সংসদীয় প্যানেল গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করেছে।

কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার আগেই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে এই আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে কমিটি। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানির প্রবাহ দুই দেশের মধ্যে সুষমভাবে বণ্টন করা। চুক্তিতে পানির প্রাপ্যতা অনুযায়ী দুই দেশের পানি পাওয়ার হার নির্ধারণ করা আছে এবং পানির প্রবাহ কমে গেলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রাখার বিধান রয়েছে।

চুক্তির নবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, ভারত জলবায়ু পরিবর্তন ও স্থানীয় চাহিদাসহ পরিবর্তিত নতুন বাস্তবতাকে সামনে রেখে আলোচনার কথা বলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন।

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে পানি চুক্তির পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়ায় দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এছাড়া, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষার বিষয়টি কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার জন্যও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

গঙ্গা চুক্তি নবায়নে ঢাকার সঙ্গে দ্রুত আলোচনার আহ্বান ভারতের কমিটির

আপডেট সময় : ০৭:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
print news

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি নবায়নের লক্ষ্যে আর দেরি না করে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনা শুরু করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি। বিরোধী দল কংগ্রেসের এমপি শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন এই সংসদীয় প্যানেল গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করেছে।

কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার আগেই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে এই আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে কমিটি। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানির প্রবাহ দুই দেশের মধ্যে সুষমভাবে বণ্টন করা। চুক্তিতে পানির প্রাপ্যতা অনুযায়ী দুই দেশের পানি পাওয়ার হার নির্ধারণ করা আছে এবং পানির প্রবাহ কমে গেলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রাখার বিধান রয়েছে।

চুক্তির নবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, ভারত জলবায়ু পরিবর্তন ও স্থানীয় চাহিদাসহ পরিবর্তিত নতুন বাস্তবতাকে সামনে রেখে আলোচনার কথা বলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন।

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে পানি চুক্তির পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়ায় দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এছাড়া, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষার বিষয়টি কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার জন্যও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy