ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, চাঁদপুরে ভূমি অফিসের কর্মচারী বরখাস্ত রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানালেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সাতক্ষীরায় দেড় লক্ষাধিক দিয়াশলাই কাঠিতে তৈরি দুর্গা প্রতিমা সৌদিতে চার দফা হামলার দাবি হুতিদের, লক্ষ্যবস্তু বিমানবন্দর ও আরামকো জনগণের স্বার্থে আবু সাঈদের মতো জীবন দেব: জামায়াত এমপি বেলাল ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়, রাসেলকে খালাস হাইকোর্টের রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হামলা, যাত্রী টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত ও অগ্নিকাণ্ড হুতি হামলার জেরে রিয়াদে আতঙ্ক, বন্ধ বিমানবন্দর ও স্কুল ল্যাপটপের অবস্থান জেনেও উদ্ধার করতে পারছে না পুলিশ

আসামে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভারতের আসামে বন্যা পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত এবং নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে চলতি বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ) জানিয়েছে, নতুন করে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন শিবসাগর জেলার এবং একজন গোলাঘাট জেলার বাসিন্দা।

বন্যার কারণে বর্তমানে তিন লাখেরও বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও, বিশ্বনাথ এবং কামরূপ মহানগর। এর মধ্যে চরাইদেও জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬১ জন মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। এছাড়া শিবসাগর জেলায় ৮৪ হাজার ৬০০ জন এবং জোরহাট জেলায় প্রায় ৪৯ হাজার ৯১১ জন মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে সাতটি জেলার মোট ২১টি রাজস্ব সার্কেল এবং ৫৫১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে ২১ হাজার ৫২৩ হেক্টর কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে হাজার হাজার মানুষ বর্তমানে ৭১টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে ১৬ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ অবস্থান করছেন। এছাড়া ৩০টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে আরও ৭২ হাজারের বেশি মানুষকে খাদ্য ও জরুরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এএসডিএমএ-এর তথ্যমতে, প্রবল স্রোতে ১১ হাজারের বেশি পশু ভেসে গেছে এবং আরও প্রায় ১৭ হাজার গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম এবং গবাদিপশুর চিকিৎসার জন্য ভেটেরিনারি দল কাজ করছে। নদীর বাঁধ, সড়ক এবং সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া কামরূপ মহানগর জেলায় নদীর বন্যার পাশাপাশি নগর বন্যারও সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে পদুমবাড়ি এবং জু রোড এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) সতর্ক করেছে যে, আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত আসাম, অরুণাচল প্রদেশ এবং নাগাল্যান্ডে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তিনসুকিয়া জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, নতুন করে ভারী বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়বে এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হবে। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

আসামে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮

আপডেট সময় : ০৩:১৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

ভারতের আসামে বন্যা পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত এবং নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে চলতি বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ) জানিয়েছে, নতুন করে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন শিবসাগর জেলার এবং একজন গোলাঘাট জেলার বাসিন্দা।

বন্যার কারণে বর্তমানে তিন লাখেরও বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও, বিশ্বনাথ এবং কামরূপ মহানগর। এর মধ্যে চরাইদেও জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬১ জন মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। এছাড়া শিবসাগর জেলায় ৮৪ হাজার ৬০০ জন এবং জোরহাট জেলায় প্রায় ৪৯ হাজার ৯১১ জন মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে সাতটি জেলার মোট ২১টি রাজস্ব সার্কেল এবং ৫৫১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে ২১ হাজার ৫২৩ হেক্টর কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে হাজার হাজার মানুষ বর্তমানে ৭১টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে ১৬ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ অবস্থান করছেন। এছাড়া ৩০টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে আরও ৭২ হাজারের বেশি মানুষকে খাদ্য ও জরুরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এএসডিএমএ-এর তথ্যমতে, প্রবল স্রোতে ১১ হাজারের বেশি পশু ভেসে গেছে এবং আরও প্রায় ১৭ হাজার গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম এবং গবাদিপশুর চিকিৎসার জন্য ভেটেরিনারি দল কাজ করছে। নদীর বাঁধ, সড়ক এবং সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া কামরূপ মহানগর জেলায় নদীর বন্যার পাশাপাশি নগর বন্যারও সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে পদুমবাড়ি এবং জু রোড এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) সতর্ক করেছে যে, আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত আসাম, অরুণাচল প্রদেশ এবং নাগাল্যান্ডে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তিনসুকিয়া জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, নতুন করে ভারী বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়বে এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হবে। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin