মেঘনা তীরে অবৈধ হোটেল, সরকারি অনুমতির তোয়াক্কা নেই

- আপডেট সময় : ১০:৪৬:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাট এলাকায় মেঘনা নদী ও এর তীরবর্তী সরকারি জায়গা দখল করে দুটি হোটেল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে 'জলবিলাস' নামে একটি হোটেল প্রায় এক বছর ধরে কোনো ধরনের সরকারি ছাড়পত্র বা অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। একই এলাকায় 'হাওয়া বদল' নামে আরও একটি বড় পরিসরের হোটেলের নির্মাণকাজ চলছে।
স্থানীয় অটোরিকশাচালক ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় এক বছর আগে 'জলবিলাস' হোটেলটি চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করেন, যাদের মধ্যে তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই বেশি। হোটেলটির একাধিক অংশীদারের মধ্যে স্থানীয় দুলাল পাটওয়ারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে হোটেলে গিয়ে মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি এবং কর্মচারীরাও তাদের যোগাযোগের নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে, গ্যাংওয়ের উত্তর পাশে নির্মাণাধীন 'হাওয়া বদল' হোটেলটির বিষয়েও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। তারা জানান, এটিও নদীর জায়গা দখল করেই করা হচ্ছে। নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম দেওয়ান দাবি করেন, তিনি শুধু নির্মাণকাজের তদারকি করছেন এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলো ইঞ্জিনিয়ার আল-আলিম ও অ্যাডভোকেট ইমরান দেখছেন। অংশীদারদের একজন অ্যাডভোকেট আল-আমিন দাবি করেছেন, জমিটি তাদের পূর্বপুরুষদের এবং নদীর কোনো অংশ দখল করা হয়নি। তিনি জানান, বৈধ কাগজপত্রের কাজ চলমান রয়েছে।
ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম সরকার জানান, 'জলবিলাস' হোটেলটির ট্রেড লাইসেন্স আছে কি না তা তিনি নিশ্চিত নন, তবে 'হাওয়া বদল' হোটেল কর্তৃপক্ষ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে, যা এখনো অনুমোদিত হয়নি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চাঁদপুরের বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান স্পষ্ট করেছেন যে, ষাটনল লঞ্চঘাট এলাকায় হোটেল নির্মাণের জন্য কোনো আবেদন বা অনুমতি দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা তৈরির সুযোগ নেই। স্থানীয় প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিলে বিআইডব্লিউটিএ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে নদী ও সরকারি জায়গা দখল করে এসব স্থাপনা নির্মাণ চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি, যা নদী দখলের প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





























