ময়মনসিংহে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মিলল নিখোঁজ যুবকের মরদেহ

- আপডেট সময় : ১১:৩২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহে সাত দিন ধরে নিখোঁজ সোহেল মিয়া (২৬) নামের এক যুবকের বিচ্ছিন্ন মাথা ও দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত পৌনে নয়টার দিকে ময়মনসিংহ সদরের পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়ার ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সোহেল মিয়া ওই এলাকার নূরুল ইসলাম ও জুলেখা বেগম দম্পতির তৃতীয় সন্তান এবং গাছ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
নিহত যুবকের স্বজনদের ভাষ্যমতে, গত ১৬ জুলাই রাত আটটার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে সোহেল নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় বুধবার সকালে তাঁর বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। সোহেলের শ্বশুর আলাল উদ্দিন জানান, নিখোঁজের দিন সোহেলের ভগ্নিপতি সেলিম মিয়া কাজের কথা বলে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। গাছ কাটার কাজ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ ছিল এবং সেলিম মিয়া তাঁকে মারধরও করতেন। মঙ্গলবার সেলিম মিয়া এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
মরদেহটি উদ্ধারের ঘটনাটি ঘটে অম্বিকাগঞ্জ কলেজের একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের স্থান নির্বাচনের সময়। কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা জায়গা মাপজোখ করার সময় উৎকট দুর্গন্ধ পান। ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহবুবুল আলম জানান, বেলা পৌনে তিনটার দিকে সীমানাপ্রাচীর ভাঙা ও দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তাঁরা মানুষের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশরাফুল করিম জানান, পিবিআইয়ের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে এবং পরিবারের সদস্যদের দেওয়া পোশাক দেখে মরদেহটি নিখোঁজ সোহেলের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মাথাটি ঘাসের ওপর পাওয়া গেলেও শরীরের বাকি অংশ পাশের নরম মাটিতে কয়েক ফুট গভীরে পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো প্রাণী গর্ত থেকে মাথাটি টেনে তুলেছিল। ঘটনাস্থল থেকে দুটি গ্লাভসও উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


























