মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
- আপডেট সময় : ০২:০৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সামরিক বাহিনীর ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এবং গত ৪৮ ঘণ্টায় শনাক্ত করা লক্ষ্যবস্তুর ভিত্তিতে এই প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করা হয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম ধাপে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে ঘাঁটির কয়েকটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও গোলাবারুদের গুদামে আগুন ধরে যায়। দ্বিতীয় ধাপে বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ সামুদ্রিক নজরদারি বিমানের হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অভিযানের তৃতীয় ধাপে কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও জ্বালানি ট্যাংক ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে থাকা একটি কৌশলগত রাডার ব্যবস্থাও হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। আইআরজিসি আরও জানিয়েছে যে, তাদের সামরিক অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।
ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা এই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ডের জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো বহিরাগত শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ বা আগ্রাসন ইরান মেনে নেবে না এবং প্রয়োজন হলে প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, বাহরাইন বা কুয়েতের পক্ষ থেকে ইরানের এসব হামলার দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।



























