ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালের পথে জুড বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ফুটবল: মাঠের সবুজ ঘাস আর কোটি মানুষের আবেগের গল্প মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি ইরানের বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রী, ৪০ কিলোমিটার মানবপ্রাচীরে উষ্ণ অভ্যর্থনা ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি: রেকর্ড অতি ভারী বর্ষণ দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়াল আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম কমালো বাজুস

ফুটবল: মাঠের সবুজ ঘাস আর কোটি মানুষের আবেগের গল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

পৃথিবীর নানা প্রান্তে মানুষ নিজের বিশ্বাসের জায়গায় ছুটে যায়, কেউ মসজিদে, কেউ গির্জায় কিংবা মন্দিরে। কিন্তু ফুটবল এমন এক জায়গা যেখানে কোনো ধর্মগ্রন্থ বা উপাসনালয় নেই, আছে কেবল একটি সবুজ মাঠ, একটি বল, দুটি গোলপোস্ট আর বুকভরা বিশ্বাস। ফুটবল মানুষের কাছে কেবল একটি খেলা নয়, বরং পরিচয় ও আবেগের এক বিশাল ক্ষেত্র।

বিশ্বের আর কোনো খেলার এমন ক্ষমতা নেই যে মানুষের যুক্তিকে ছাপিয়ে আবেগ তৈরি করতে পারে। একটি গোলের জন্য মানুষ প্রার্থনা করে, প্রিয় দলের জার্সি পরে, এমনকি সৌভাগ্যের তাবিজ সঙ্গে রাখে। বিজ্ঞান দিয়ে সব সময় এর ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়, তবে আবেগ দিয়ে এর গভীরতা বোঝা যায়।

ব্রাজিলে ফুটবলকে মানুষের দ্বিতীয় ভাষা বলা হয়। রিও ডি জেনেইরোর বস্তি থেকে সাও পাওলোর ব্যস্ত রাস্তা পর্যন্ত ফুটবল জীবন বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখায়। পেলের দেশ, গারিঞ্চা, জিকো বা রোনালদোদের দেশ মনে করে ফুটবল তাদের জাতীয় পরিচয়ের অংশ। পাঁচটি বিশ্বকাপ ট্রফি তাদের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক, আর মারাকানার কান্না তাদের ইতিহাসের অংশ। আর্জেন্টিনায় দিয়েগো ম্যারাডোনা কেবল কিংবদন্তি নন, তিনি আবেগের নাম। ২০২২ সালে লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ ওঠার পর লাখো মানুষের কান্না ছিল তিন দশকের অপেক্ষার অবসান এবং একটি জাতির দীর্ঘশ্বাসের মুক্তি।

মরক্কো দেখিয়েছে ফুটবল দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের স্বপ্ন হয়ে উঠতে পারে। প্রতিটি জয় সেখানে আত্মমর্যাদার জয় হিসেবে ধরা দেয়। ইংল্যান্ডে ফুটবল শত বছরের ক্লাব সংস্কৃতি ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লালিত ভালোবাসা। ‘ফুটবল ইজ কামিং হোম’ স্লোগানের মাঝে লুকিয়ে আছে অর্ধশতাব্দীর ব্যর্থতা, আশা আর অটুট বিশ্বাস।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সরাসরি না খেললেও উত্তেজনার কমতি থাকে না। দেশের ছাদে ছাদে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি বা প্রিয় দলের পতাকা ওড়ে। গ্রামের মেঠোপথ থেকে রাজধানীর উড়ালসেতু—সবখানে ফুটবলের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে চারপাশ। রাতভর খেলা দেখা, পরদিন চায়ের দোকানে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ আর জয়-পরাজয়ে হাসি-কান্না মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। বাবা ছেলেকে অফসাইডের নিয়ম শেখান, দাদা শোনান পেলে-ম্যারাডোনার গল্প। একটি গোল পুরো পাড়াকে জাগিয়ে তোলে, যা ফুটবলের বিস্ময়কর শক্তির বহিঃপ্রকাশ।

ফুটবলের এই শক্তি ৯০ মিনিটের খেলায় সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি ভাষা, ধর্ম, বর্ণ ও রাজনীতির বিভাজন ঘুচিয়ে মানুষকে একত্র করে। স্টেডিয়ামে পাশে থাকা মানুষটি কোন ধর্মের বা পেশার তা জানার প্রয়োজন পড়ে না, গোলের পর অজানাকে জড়িয়ে ধরার অনুভূতিই মুখ্য হয়ে ওঠে। বিশ্বকাপের ৩৯ দিনে কোটি মানুষ একই গল্পের অংশ হয়।

ফুটবল ধর্ম নয়, কিন্তু মানুষের আবেগকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলে এটি স্বপ্ন দেখায়। বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি বাজার পর গ্যালারি ফাঁকা হয়, ট্রফি চলে যায় নতুন চ্যাম্পিয়নের হাতে। কিন্তু মানুষের বিশ্বাস শেষ হয় না। একটি শিশু আবার বল নিয়ে মাঠে নামে, কেউ নতুন জার্সি কেনে, কেউ দেয়ালে প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি টাঙিয়ে রাখে। এভাবেই চার বছরের নতুন অপেক্ষা শুরু হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফুটবল: মাঠের সবুজ ঘাস আর কোটি মানুষের আবেগের গল্প

আপডেট সময় : ০২:১৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
print news

পৃথিবীর নানা প্রান্তে মানুষ নিজের বিশ্বাসের জায়গায় ছুটে যায়, কেউ মসজিদে, কেউ গির্জায় কিংবা মন্দিরে। কিন্তু ফুটবল এমন এক জায়গা যেখানে কোনো ধর্মগ্রন্থ বা উপাসনালয় নেই, আছে কেবল একটি সবুজ মাঠ, একটি বল, দুটি গোলপোস্ট আর বুকভরা বিশ্বাস। ফুটবল মানুষের কাছে কেবল একটি খেলা নয়, বরং পরিচয় ও আবেগের এক বিশাল ক্ষেত্র।

বিশ্বের আর কোনো খেলার এমন ক্ষমতা নেই যে মানুষের যুক্তিকে ছাপিয়ে আবেগ তৈরি করতে পারে। একটি গোলের জন্য মানুষ প্রার্থনা করে, প্রিয় দলের জার্সি পরে, এমনকি সৌভাগ্যের তাবিজ সঙ্গে রাখে। বিজ্ঞান দিয়ে সব সময় এর ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়, তবে আবেগ দিয়ে এর গভীরতা বোঝা যায়।

ব্রাজিলে ফুটবলকে মানুষের দ্বিতীয় ভাষা বলা হয়। রিও ডি জেনেইরোর বস্তি থেকে সাও পাওলোর ব্যস্ত রাস্তা পর্যন্ত ফুটবল জীবন বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখায়। পেলের দেশ, গারিঞ্চা, জিকো বা রোনালদোদের দেশ মনে করে ফুটবল তাদের জাতীয় পরিচয়ের অংশ। পাঁচটি বিশ্বকাপ ট্রফি তাদের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক, আর মারাকানার কান্না তাদের ইতিহাসের অংশ। আর্জেন্টিনায় দিয়েগো ম্যারাডোনা কেবল কিংবদন্তি নন, তিনি আবেগের নাম। ২০২২ সালে লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ ওঠার পর লাখো মানুষের কান্না ছিল তিন দশকের অপেক্ষার অবসান এবং একটি জাতির দীর্ঘশ্বাসের মুক্তি।

মরক্কো দেখিয়েছে ফুটবল দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের স্বপ্ন হয়ে উঠতে পারে। প্রতিটি জয় সেখানে আত্মমর্যাদার জয় হিসেবে ধরা দেয়। ইংল্যান্ডে ফুটবল শত বছরের ক্লাব সংস্কৃতি ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লালিত ভালোবাসা। ‘ফুটবল ইজ কামিং হোম’ স্লোগানের মাঝে লুকিয়ে আছে অর্ধশতাব্দীর ব্যর্থতা, আশা আর অটুট বিশ্বাস।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সরাসরি না খেললেও উত্তেজনার কমতি থাকে না। দেশের ছাদে ছাদে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি বা প্রিয় দলের পতাকা ওড়ে। গ্রামের মেঠোপথ থেকে রাজধানীর উড়ালসেতু—সবখানে ফুটবলের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে চারপাশ। রাতভর খেলা দেখা, পরদিন চায়ের দোকানে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ আর জয়-পরাজয়ে হাসি-কান্না মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। বাবা ছেলেকে অফসাইডের নিয়ম শেখান, দাদা শোনান পেলে-ম্যারাডোনার গল্প। একটি গোল পুরো পাড়াকে জাগিয়ে তোলে, যা ফুটবলের বিস্ময়কর শক্তির বহিঃপ্রকাশ।

ফুটবলের এই শক্তি ৯০ মিনিটের খেলায় সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি ভাষা, ধর্ম, বর্ণ ও রাজনীতির বিভাজন ঘুচিয়ে মানুষকে একত্র করে। স্টেডিয়ামে পাশে থাকা মানুষটি কোন ধর্মের বা পেশার তা জানার প্রয়োজন পড়ে না, গোলের পর অজানাকে জড়িয়ে ধরার অনুভূতিই মুখ্য হয়ে ওঠে। বিশ্বকাপের ৩৯ দিনে কোটি মানুষ একই গল্পের অংশ হয়।

ফুটবল ধর্ম নয়, কিন্তু মানুষের আবেগকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলে এটি স্বপ্ন দেখায়। বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি বাজার পর গ্যালারি ফাঁকা হয়, ট্রফি চলে যায় নতুন চ্যাম্পিয়নের হাতে। কিন্তু মানুষের বিশ্বাস শেষ হয় না। একটি শিশু আবার বল নিয়ে মাঠে নামে, কেউ নতুন জার্সি কেনে, কেউ দেয়ালে প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি টাঙিয়ে রাখে। এভাবেই চার বছরের নতুন অপেক্ষা শুরু হয়।