মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনা ফ্রি করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৩:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর অশ্বিনী কুমার ইনস্টিটিউট মাঠে ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো সমাজের অসহায়, নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক পরিবারগুলোকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় নিয়ে আসা। গৌরনদী উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ৬০০ পরিবারকে কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও যোগ্য পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সরকারের আর্থিক পরিকল্পনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় যে বাজেট কার্যকর ছিল, তাতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ ছিল না। তবে নতুন অর্থবছরের বাজেটে এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। এই বরাদ্দের ভিত্তিতে আগামী এক বছরের মধ্যে সারা দেশে ৪১ লাখ পরিবারের হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে গড়ে প্রতিটি উপজেলায় প্রায় সাত হাজার পরিবার উপকৃত হবে।
নারীর শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নারী-পুরুষ উভয়ের সমান অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় চালু হওয়া দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার উদ্যোগকে সম্প্রসারণ করে মেয়েদের স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি মেধাবীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও থাকবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী নারীই একটি শক্তিশালী পরিবার ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি। ফ্যামিলি কার্ড কেবল একটি সহায়তা নয়, এটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি উদ্যোগ।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং শত শত ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল নগরীর উদ্দেশে গৌরনদী ত্যাগ করেন।

























