থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বারে অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জনের মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের জনপ্রিয় চাতুচাক জেলায় অবস্থিত ‘রং বিয়ার না লাত ফ্রাও’ নামক একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাতে ঘটা এই দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুল। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও ৬০ জনের বেশি মানুষ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে একজন গাড়িচালক প্রথম বারে আগুন দেখতে পেয়ে জরুরি সেবায় খবর দেন। মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে বারের প্রবেশপথ আগুনে ঘিরে ফেলায় ভেতরে থাকা মানুষজন আটকা পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মঞ্চের কাছাকাছি অংশে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো ভবন ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
প্রধানমন্ত্রী অনুতিন জানান, আগুন লাগার সময় মঞ্চে থাকা এক সংগীতশিল্পীর দাবি অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক কাট-আউট সুইচে আগুন লাগার পরপরই বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয়। ধোঁয়া ও আগুন থেকে বাঁচতে অনেকেই ভবনের পেছনের অংশে থাকা টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যেখান থেকেই অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দমকল বাহিনী প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতদের মধ্যে নয়জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী রয়েছেন।
ব্যাংককের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক সুরিয়াচাই রাভিওয়ান জানান, প্রাথমিক তদন্তে অধিকাংশের মৃত্যুর কারণ ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া মোটরসাইকেল আরোহী সুরিন জাইহার্ন অন্তত পাঁচজনকে বের হতে সহায়তা করেছেন। এদিকে ব্যাংককের গভর্নর চ্যাচার্ট সিত্তিপুন্ট জানান, বারের ছাদে ব্যবহৃত দাহ্য সজ্জাসামগ্রীর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি বহির্গমন পথের কাছেও আসবাবপত্র থাকায় অনেকে বের হতে পারেননি।
থাইল্যান্ডে এর আগেও বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। চার বছর আগে ব্যাংককের দক্ষিণের একটি শহরে ২২ জন এবং ২০০৯ সালে রাজধানীর একটি নাইটক্লাবে ৬৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। বারবার এমন ঘটনার পরও অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিধি বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।


























