বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা: কোটি টাকার পণ্য নষ্টের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
- আপডেট সময় : ০২:০৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের ৩ নম্বর গেটের সামনের পাঁচটি শেডে হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় কোটি কোটি টাকার আমদানিকৃত মালামাল তলিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আমদানিকারকরা তাদের পণ্য নিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্দরের অবকাঠামো ও শেড ইয়ার্ড নির্মিত হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম নাজুক অবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার কথা জানিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। এছাড়া বীমা সুবিধা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণও পান না। পানি নিষ্কাশনের জন্য অতীতে কমিটি গঠন করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা দেখা যায়নি।
বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী আব্দুল অলিম জানান, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পণ্য পরিবহন ও চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। বন্দরের ভাড়া প্রতিবছর বাড়ানো হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের কোনো ভূমিকা নেই। অপরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো নির্মাণের ফলে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, এই বন্দর থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করলেও এর দুর্দশা নিরসনে কোনো দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বছরের পর বছর ধরে চলা এই অব্যবস্থাপনা ব্যবসায়ীদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। তবে অবিরাম বৃষ্টির কারণে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে কিছু শেডে মালামাল ভিজে নষ্ট হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৃষ্টি থামলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে।
গত বছরের বর্ষার সময় কমিটির লোকজনের তৎপরতা ২/১ দিন দেখা গেলেও পরে এ নিয়ে আর কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি।বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী আব্দুল অলিম বলেন, বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে।





























