ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বকাপে অনন্য রেকর্ড গড়ে সেমিফাইনালে এমবাপ্পের ফ্রান্স খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ২০ গ্রাম প্লাবিত দুই দশক পর ফিলিস্তিনে সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা বিদেশে রফতানি হচ্ছে দিনাজপুরের কৃষক আনছার আলীর বাগানের আম পার্বত্য চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় সেনাবাহিনী মরক্কোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল ফ্রান্স ন্যাটো নেতাদের রিভলভার উপহার দিয়ে বিতর্কে এরদোয়ান আনচেলত্তিকে বরখাস্তের দাবি জানালেন ক্ষুব্ধ কিংবদন্তি রোমারিও সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট ফুটবল বিশ্বকাপে প্রযুক্তির ব্যবহার কেন বিতর্কিত?

ফুটবল বিশ্বকাপে প্রযুক্তির ব্যবহার কেন বিতর্কিত?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বিশ্বকাপ ফুটবলে রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত কমানোর লক্ষ্যে ফিফা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছিল। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর), সেমি-অটোমেটেড অফসাইড এবং স্মার্ট বলের মতো প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল খেলাকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করা। ফিফার রেফারিং প্রধান ইতালির পিয়েরলুইজি কলিনার মতে, এসব প্রযুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য হলো মানবিক ভুল কমিয়ে আনা। তবে প্রযুক্তির এই অতি ব্যবহার ফুটবলীয় আবেগ কমিয়ে এটিকে অনেক ক্ষেত্রে যান্ত্রিক করে তুলছে বলে মনে করছেন অনেকে।

প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে মাঠ, গ্যালারি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। ভিডিও পর্যালোচনার ধীরগতি খেলার স্বাভাবিক আনন্দ ও গতিকে ব্যাহত করছে। কোনো খেলোয়াড় গোল করার পর তাৎক্ষণিক উল্লাস করার পরিবর্তে ভিএআর ও অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তির পর্যালোচনার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে দর্শকদের। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফলে ফুটবল খেলার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হচ্ছে, যা অনেক সময় ক্রিকেট খেলার মতো বিরতি তৈরি করছে।

সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্ক সবচেয়ে বেশি। খেলোয়াড়ের শরীরের অতি সূক্ষ্ম অংশ, যেমন জুতোর অগ্রভাগ বা চুলের সামান্য স্পর্শকেও অফসাইড হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যা খেলার ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলছে। এছাড়া প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে অনেক সময় ভুল অ্যানিমেশন গ্রাফিকস প্রদর্শিত হয়, যা দর্শকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়।

ভিএআর প্রযুক্তির কারণে মাঠের রেফারিদের নিজস্ব কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খর্ব হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক সময় রেফারিরা স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভিএআর টিমের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। একই ধরনের ঘটনায় বিভিন্ন ম্যাচে ভিএআর-এর ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা বা হস্তক্ষেপ না করার প্রবণতা প্রযুক্তির নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিতর্কিত এসব সিদ্ধান্তের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ফলাফল বদলে যাচ্ছে, যা খেলোয়াড় ও কোচদের মধ্যে হতাশা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তৈরি করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফুটবল বিশ্বকাপে প্রযুক্তির ব্যবহার কেন বিতর্কিত?

আপডেট সময় : ১০:৩৪:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
print news

বিশ্বকাপ ফুটবলে রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত কমানোর লক্ষ্যে ফিফা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছিল। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর), সেমি-অটোমেটেড অফসাইড এবং স্মার্ট বলের মতো প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল খেলাকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করা। ফিফার রেফারিং প্রধান ইতালির পিয়েরলুইজি কলিনার মতে, এসব প্রযুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য হলো মানবিক ভুল কমিয়ে আনা। তবে প্রযুক্তির এই অতি ব্যবহার ফুটবলীয় আবেগ কমিয়ে এটিকে অনেক ক্ষেত্রে যান্ত্রিক করে তুলছে বলে মনে করছেন অনেকে।

প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে মাঠ, গ্যালারি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। ভিডিও পর্যালোচনার ধীরগতি খেলার স্বাভাবিক আনন্দ ও গতিকে ব্যাহত করছে। কোনো খেলোয়াড় গোল করার পর তাৎক্ষণিক উল্লাস করার পরিবর্তে ভিএআর ও অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তির পর্যালোচনার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে দর্শকদের। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফলে ফুটবল খেলার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হচ্ছে, যা অনেক সময় ক্রিকেট খেলার মতো বিরতি তৈরি করছে।

সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্ক সবচেয়ে বেশি। খেলোয়াড়ের শরীরের অতি সূক্ষ্ম অংশ, যেমন জুতোর অগ্রভাগ বা চুলের সামান্য স্পর্শকেও অফসাইড হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যা খেলার ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলছে। এছাড়া প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে অনেক সময় ভুল অ্যানিমেশন গ্রাফিকস প্রদর্শিত হয়, যা দর্শকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়।

ভিএআর প্রযুক্তির কারণে মাঠের রেফারিদের নিজস্ব কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খর্ব হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক সময় রেফারিরা স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভিএআর টিমের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। একই ধরনের ঘটনায় বিভিন্ন ম্যাচে ভিএআর-এর ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা বা হস্তক্ষেপ না করার প্রবণতা প্রযুক্তির নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিতর্কিত এসব সিদ্ধান্তের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ফলাফল বদলে যাচ্ছে, যা খেলোয়াড় ও কোচদের মধ্যে হতাশা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তৈরি করছে।