ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

নারী ও শিশু ধর্ষণ: আতঙ্কে দেশ, প্রশ্নের মুখে মানবতা

মাহের আহমেদ, সম্পাদক ও প্রকাশক
  • আপডেট সময় : ১০:০৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ১১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




গত কয়েক বছরে বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা; বিচারহীনতায় বাড়ছে জনমনে ক্ষোভ

বাংলাদেশ আজ এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষ গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিদিন সংবাদমাধ্যম খুললেই কোথাও না কোথাও ধর্ষণ, গণধর্ষণ কিংবা শিশু নির্যাতনের সংবাদ দেখা যায়। এসব ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে নয়, পুরো সমাজকে আতঙ্কিত করে তুলছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—আজ আর কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না, তার সন্তান নিরাপদ। স্কুল, রাস্তা, কর্মস্থল, এমনকি ঘরের আশপাশেও অনিরাপত্তা তৈরি হয়েছে। সমাজের বিবেক যেন ধীরে ধীরে অসাড় হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে নারী ও শিশু নির্যাতনের হাজার হাজার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বাস্তব সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ সামাজিক লজ্জা ও বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেক পরিবার মুখ খুলতেই ভয় পায়।

ধর্ষণ শুধু একটি অপরাধ নয়; এটি মানবতা, নৈতিকতা ও সভ্যতার বিরুদ্ধে নির্মম আঘাত। একজন ধর্ষক শুধু একজন নারী বা শিশুর শরীর নয়, তার আত্মসম্মান, ভবিষ্যৎ এবং পুরো পরিবারের মানসিক শান্তিকে ধ্বংস করে দেয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো বিচারহীনতার সংস্কৃতি। বহু মামলার বিচার বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। কোনো কোনো ঘটনায় প্রতিবাদ হয়, সংবাদ হয়, তারপর ধীরে ধীরে সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ভুক্তভোগীর জীবন আর কখনো স্বাভাবিক হয় না।

আজ দেশের মানুষ কিছু কঠিন প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়—
কেন একটি শিশুও নিরাপদ নয়?
কেন ধর্ষকের মনে আইনের ভয় নেই?
কেন বিচার পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়?
কেন অপরাধীরা প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যায়?
আজ সময় এসেছে শুধু আবেগ নয়, বাস্তব পরিবর্তনের দাবি তোলার।
চলবে…
পরবর্তী পর্বে: “ধর্ষণের পেছনে দায়ী কে? সমাজ, নৈতিক অবক্ষয় নাকি বিচারহীনতা?”

মাহের আহমেদ
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক যখন সময়

সূত্র:
১. বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ – নারী ও শিশু নির্যাতন বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন
২. আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK) – মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন
৩. বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

নারী ও শিশু ধর্ষণ: আতঙ্কে দেশ, প্রশ্নের মুখে মানবতা

আপডেট সময় : ১০:০৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

গত কয়েক বছরে বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা; বিচারহীনতায় বাড়ছে জনমনে ক্ষোভ

বাংলাদেশ আজ এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষ গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিদিন সংবাদমাধ্যম খুললেই কোথাও না কোথাও ধর্ষণ, গণধর্ষণ কিংবা শিশু নির্যাতনের সংবাদ দেখা যায়। এসব ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে নয়, পুরো সমাজকে আতঙ্কিত করে তুলছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—আজ আর কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না, তার সন্তান নিরাপদ। স্কুল, রাস্তা, কর্মস্থল, এমনকি ঘরের আশপাশেও অনিরাপত্তা তৈরি হয়েছে। সমাজের বিবেক যেন ধীরে ধীরে অসাড় হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে নারী ও শিশু নির্যাতনের হাজার হাজার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বাস্তব সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ সামাজিক লজ্জা ও বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেক পরিবার মুখ খুলতেই ভয় পায়।

ধর্ষণ শুধু একটি অপরাধ নয়; এটি মানবতা, নৈতিকতা ও সভ্যতার বিরুদ্ধে নির্মম আঘাত। একজন ধর্ষক শুধু একজন নারী বা শিশুর শরীর নয়, তার আত্মসম্মান, ভবিষ্যৎ এবং পুরো পরিবারের মানসিক শান্তিকে ধ্বংস করে দেয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো বিচারহীনতার সংস্কৃতি। বহু মামলার বিচার বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। কোনো কোনো ঘটনায় প্রতিবাদ হয়, সংবাদ হয়, তারপর ধীরে ধীরে সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ভুক্তভোগীর জীবন আর কখনো স্বাভাবিক হয় না।

আজ দেশের মানুষ কিছু কঠিন প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়—
কেন একটি শিশুও নিরাপদ নয়?
কেন ধর্ষকের মনে আইনের ভয় নেই?
কেন বিচার পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়?
কেন অপরাধীরা প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যায়?
আজ সময় এসেছে শুধু আবেগ নয়, বাস্তব পরিবর্তনের দাবি তোলার।
চলবে…
পরবর্তী পর্বে: “ধর্ষণের পেছনে দায়ী কে? সমাজ, নৈতিক অবক্ষয় নাকি বিচারহীনতা?”

মাহের আহমেদ
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক যখন সময়

সূত্র:
১. বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ – নারী ও শিশু নির্যাতন বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন
২. আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK) – মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন
৩. বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন