ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিলেটে পুলিশের অভিযানে ইয়াবা সহ আটক ১ আমজাদ হাটে টপসয়েল রক্ষা ও অবৈধ মাটি কাটা প্রতিরোধে অভিযান ফেনীতে স্কুল ছাত্রকে পিটিয়ে আহত মাধবপুরে ২ কোটি টাকার ভারতীয় ঔষুধ ও ফুচকা জব্দ অবশেষে সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হল বড় প্রক্রিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন যাত্রাপুরে দিনব্যাপী দুর্গম চরাঞ্চলে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, উপকৃত ৫ শতাধিক মানুষ তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং নওগাঁয় ৩ বছরের শিশু সহ একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা মৌলভীবাজার বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ওয়াইফাই সার্ভিস কর্মীর মৃত্যু অবশেষে ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুরে তৈরি হচ্ছে সংসদ সদস্যর অফিস

অবশেষে সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হল বড় প্রক্রিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন

মোঃ রাব্বি হাসান, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মোঃ রাব্বি হাসান,
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই পাওয়ার প্ল্যান্টের সচল থাকা সর্বশেষ ইউনিটটিও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে প্ল্যান্টের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরনো এই কেন্দ্রে গত কয়েক বছর ধরেই পর্যায়ক্রমে বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২ নম্বর ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সংস্কারের জন্য ২০২০ সাল থেকে অচল হয়ে পড়ে আছে। কর্তৃপক্ষ ১ ও ৩ নম্বর ইউনিট দিয়ে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করে আসছিল। বিগত কয়েক বছরে দেখা যায়, এই কেন্দ্রটিতে ত্রুটির ঘটনা এখন নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি এবং অক্টোবর মাসেও বয়লারের লিকেজ, পাইপ বা টিউব ফেটে যাওয়া এবং টারবাইনের সেন্সর নষ্ট হওয়ার মতো ঘটনায় কেন্দ্রটির উৎপাদন কয়েক দফা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

৩ নম্বর ইউনিটে ইতিপূর্বেই সমস্যা দেখা দিয়েছিল এবং ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে পুরো প্ল্যান্টটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনহীন অবস্থায় রয়েছে। উত্তরের জেলাগুলোতে যখন সেচ ও গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ে এমন বিপর্যয় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে গভীর দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করেছে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটের ত্রুটি সারিয়ে তোলার জন্য প্রকৌশলীরা কাজ শুরু করেছেন। তবে ঠিক কত সময়ের মধ্যে এটি পুনরায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে পারবে তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা ব্যবহার করে এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় বলে এটি উত্তরবঙ্গের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বারবার যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে কেন্দ্রটির সক্ষমতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ও বিশেষজ্ঞ মহলে নানাবিধ প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিভ্রাটের শঙ্কা কাটছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ত্রুটি মেরামত করে ১ নম্বর ইউনিটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

অবশেষে সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হল বড় প্রক্রিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন

আপডেট সময় : ১১:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
print news

মোঃ রাব্বি হাসান,
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই পাওয়ার প্ল্যান্টের সচল থাকা সর্বশেষ ইউনিটটিও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে প্ল্যান্টের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরনো এই কেন্দ্রে গত কয়েক বছর ধরেই পর্যায়ক্রমে বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২ নম্বর ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সংস্কারের জন্য ২০২০ সাল থেকে অচল হয়ে পড়ে আছে। কর্তৃপক্ষ ১ ও ৩ নম্বর ইউনিট দিয়ে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করে আসছিল। বিগত কয়েক বছরে দেখা যায়, এই কেন্দ্রটিতে ত্রুটির ঘটনা এখন নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি এবং অক্টোবর মাসেও বয়লারের লিকেজ, পাইপ বা টিউব ফেটে যাওয়া এবং টারবাইনের সেন্সর নষ্ট হওয়ার মতো ঘটনায় কেন্দ্রটির উৎপাদন কয়েক দফা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

৩ নম্বর ইউনিটে ইতিপূর্বেই সমস্যা দেখা দিয়েছিল এবং ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে পুরো প্ল্যান্টটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনহীন অবস্থায় রয়েছে। উত্তরের জেলাগুলোতে যখন সেচ ও গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ে এমন বিপর্যয় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে গভীর দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করেছে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটের ত্রুটি সারিয়ে তোলার জন্য প্রকৌশলীরা কাজ শুরু করেছেন। তবে ঠিক কত সময়ের মধ্যে এটি পুনরায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে পারবে তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা ব্যবহার করে এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় বলে এটি উত্তরবঙ্গের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বারবার যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে কেন্দ্রটির সক্ষমতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ও বিশেষজ্ঞ মহলে নানাবিধ প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিভ্রাটের শঙ্কা কাটছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ত্রুটি মেরামত করে ১ নম্বর ইউনিটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।