ঢাকা ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রাণ গ্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরির সুযোগ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ ১১ জনের প্রাণহানি হাসিনাকে ‘অমূল্য সম্পদ’ বলা চসিক সচিবের অডিও ফাঁস কিশোরগঞ্জে ইমাম ও পুরোহিতদের সম্মানি ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ালো অস্ট্রেলিয়া, লিড মাত্র ১৫ রানের অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে অলআউট, জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য ৫৭ রান বিশ্ব রোবটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করল সেন্ট যোসেফের তিন খুদে শিক্ষার্থী রাজনৈতিক তদবিরে এলএনজি আমদানিতে বিশৃঙ্খলা, সংকটের মুখে সরবরাহ মুখের চামড়া কুঁচকে যাওয়ার কারণ ও প্রতিকারের উপায়

রাজনৈতিক তদবিরে এলএনজি আমদানিতে বিশৃঙ্খলা, সংকটের মুখে সরবরাহ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ক্রয় ও সরবরাহের ক্ষেত্রে বর্তমানে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশের দুটি ভাসমান টার্মিনালের মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে বর্তমানে কোনো এলএনজি কার্গো নেই। সোমবার কার্গো আসার কথা থাকলেও সরকারি কর্মকর্তারা তা নিশ্চিত করতে পারেননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেট্রোবাংলা সৌদি কোম্পানি আরামকোর 'আল হামরা' কার্গো থেকে গ্যাস খালাসের জন্য এক্সিলারেটকে অনুরোধ জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে এক্সিলারেট কর্তৃপক্ষ কিছুটা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানা গেছে।

পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল এবং জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি সচল থাকলেও কার্গোর অভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে এলএনজি ক্রয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে দায়ী করা হচ্ছে। সরকারের এক শীর্ষ নেতার তদবিরে সরাসরি ক্রয় নীতির (ডিপিএম) আওতায় হংকংভিত্তিক কোম্পানি জেন হু শিপিংকে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টনের এলএনজি আমদানির অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। গত সপ্তাহে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ইউনিট প্রতি ১৪ দশমিক ৯ ডলারে এই প্রস্তাব অনুমোদন করে, যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমান দর ২২ ডলার। সোমবার কার্গো আসার কথা থাকলেও শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত কোম্পানিটি কোনো কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি। স্থানীয় এজেন্ট মাহবুব হোসেনকেও বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এত কম দামে এলএনজি পাওয়ার বিষয়ে সরকারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। গত ১৫ দিনে জ্বালানি বিভাগ এভাবে ৮টি কার্গো সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় অনুমোদন দিয়েছে, যার সবকটিই রাজনৈতিক তদবিরে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, সোমবারের মধ্যে কার্গো না পাওয়া গেলে দেশ আবারও গ্যাসের মহাসংকটে পড়বে। শুক্রবার রাত থেকে ১১ ঘণ্টা টার্মিনাল বন্ধ রেখে এক্সিলারেট তাদের দুটি বয়েলার পরীক্ষা করেছে এবং জানিয়েছে যে কার্গো পেলে তারা পুরোদমে সরবরাহ শুরু করতে পারবে। বর্তমানে তাদের কাছে সোমবার পর্যন্ত সরবরাহ দেওয়ার মতো গ্যাস মজুদ আছে। এর আগে আরামকোর 'আল হামরা' কার্গোটি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার অজুহাতে সামিট গ্রুপের টার্মিনালে বার্থিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এখন জেন হু কোম্পানির কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় আরামকোর জাহাজটিকে আটকে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, অর্থনীতি বাঁচাতে আরামকোর কার্গো থেকে গ্যাস খালাস করা ছাড়া বিকল্প নেই। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী এক কার্গো এলএনজির দাম ৯৫০ কোটি টাকারও বেশি।

এদিকে টেন্ডার ছাড়া সরাসরি ক্রয় নীতিতে ১৭, ২৩, ২৭ ও ৩০ আগস্ট এবং ৬ সেপ্টেম্বর আরও ৬টি কার্গো আসার কথা থাকলেও এর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা পেট্রোবাংলা রাখেনি। জ্বালানি বিভাগ জেন হু শিপিং ছাড়াও ব্রেক কিউব এবং ম্যাক্সওয়েল নামে তিনটি কোম্পানিকে মোট ৬টি কার্গো আনার অনুমতি দিয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ১২টি কোম্পানিকে জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দেওয়া হলেও তার একটি অংশও আসেনি। এমন পরিস্থিতিতে এলএনজি আমদানিতে একই ধরনের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে শুক্রবার থেকে লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। শনিবার বিকাল ৫টায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ১০৭ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৩৭ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং ছিল ৭৭০ মেগাওয়াট।

জানা যায়, জ্বালানি বিভাগ জেন হু শিপিং, ব্রেক কিউব এবং ম্যাক্সওয়েল নামে তিনটি কোম্পানিকে টেন্ডার ছাড়া দুটি করে মোট ছয়টি কার্গো আনার অনুমতি দিয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে টেন্ডার ছাড়া সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় ১২টি কোম্পানিকে জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দিয়েছিল জ্বালানি বিভাগ। সেই অনুমোদনের এক ছটাক তেল গত ৬ মাসে আসেনি। এমনকি দুটি কোম্পানি ছাড়া কেউ পারফরম্যান্স গ্যারান্টিও দিতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে আবারও টেন্ডারবিহীন এলএনজি আনার অনুমতি দেওয়া হলো। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদিত ১-২টি কোম্পানি সরব আছে। তারা এলএনজি ঠিক সময়ে দিতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজনৈতিক তদবিরে এলএনজি আমদানিতে বিশৃঙ্খলা, সংকটের মুখে সরবরাহ

আপডেট সময় : ১০:১৩:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ক্রয় ও সরবরাহের ক্ষেত্রে বর্তমানে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশের দুটি ভাসমান টার্মিনালের মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে বর্তমানে কোনো এলএনজি কার্গো নেই। সোমবার কার্গো আসার কথা থাকলেও সরকারি কর্মকর্তারা তা নিশ্চিত করতে পারেননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেট্রোবাংলা সৌদি কোম্পানি আরামকোর 'আল হামরা' কার্গো থেকে গ্যাস খালাসের জন্য এক্সিলারেটকে অনুরোধ জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে এক্সিলারেট কর্তৃপক্ষ কিছুটা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানা গেছে।

পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল এবং জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি সচল থাকলেও কার্গোর অভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে এলএনজি ক্রয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে দায়ী করা হচ্ছে। সরকারের এক শীর্ষ নেতার তদবিরে সরাসরি ক্রয় নীতির (ডিপিএম) আওতায় হংকংভিত্তিক কোম্পানি জেন হু শিপিংকে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টনের এলএনজি আমদানির অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। গত সপ্তাহে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ইউনিট প্রতি ১৪ দশমিক ৯ ডলারে এই প্রস্তাব অনুমোদন করে, যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমান দর ২২ ডলার। সোমবার কার্গো আসার কথা থাকলেও শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত কোম্পানিটি কোনো কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি। স্থানীয় এজেন্ট মাহবুব হোসেনকেও বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এত কম দামে এলএনজি পাওয়ার বিষয়ে সরকারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। গত ১৫ দিনে জ্বালানি বিভাগ এভাবে ৮টি কার্গো সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় অনুমোদন দিয়েছে, যার সবকটিই রাজনৈতিক তদবিরে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, সোমবারের মধ্যে কার্গো না পাওয়া গেলে দেশ আবারও গ্যাসের মহাসংকটে পড়বে। শুক্রবার রাত থেকে ১১ ঘণ্টা টার্মিনাল বন্ধ রেখে এক্সিলারেট তাদের দুটি বয়েলার পরীক্ষা করেছে এবং জানিয়েছে যে কার্গো পেলে তারা পুরোদমে সরবরাহ শুরু করতে পারবে। বর্তমানে তাদের কাছে সোমবার পর্যন্ত সরবরাহ দেওয়ার মতো গ্যাস মজুদ আছে। এর আগে আরামকোর 'আল হামরা' কার্গোটি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার অজুহাতে সামিট গ্রুপের টার্মিনালে বার্থিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এখন জেন হু কোম্পানির কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় আরামকোর জাহাজটিকে আটকে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, অর্থনীতি বাঁচাতে আরামকোর কার্গো থেকে গ্যাস খালাস করা ছাড়া বিকল্প নেই। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী এক কার্গো এলএনজির দাম ৯৫০ কোটি টাকারও বেশি।

এদিকে টেন্ডার ছাড়া সরাসরি ক্রয় নীতিতে ১৭, ২৩, ২৭ ও ৩০ আগস্ট এবং ৬ সেপ্টেম্বর আরও ৬টি কার্গো আসার কথা থাকলেও এর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা পেট্রোবাংলা রাখেনি। জ্বালানি বিভাগ জেন হু শিপিং ছাড়াও ব্রেক কিউব এবং ম্যাক্সওয়েল নামে তিনটি কোম্পানিকে মোট ৬টি কার্গো আনার অনুমতি দিয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ১২টি কোম্পানিকে জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দেওয়া হলেও তার একটি অংশও আসেনি। এমন পরিস্থিতিতে এলএনজি আমদানিতে একই ধরনের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে শুক্রবার থেকে লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। শনিবার বিকাল ৫টায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ১০৭ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৩৭ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং ছিল ৭৭০ মেগাওয়াট।

জানা যায়, জ্বালানি বিভাগ জেন হু শিপিং, ব্রেক কিউব এবং ম্যাক্সওয়েল নামে তিনটি কোম্পানিকে টেন্ডার ছাড়া দুটি করে মোট ছয়টি কার্গো আনার অনুমতি দিয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে টেন্ডার ছাড়া সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় ১২টি কোম্পানিকে জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দিয়েছিল জ্বালানি বিভাগ। সেই অনুমোদনের এক ছটাক তেল গত ৬ মাসে আসেনি। এমনকি দুটি কোম্পানি ছাড়া কেউ পারফরম্যান্স গ্যারান্টিও দিতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে আবারও টেন্ডারবিহীন এলএনজি আনার অনুমতি দেওয়া হলো। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদিত ১-২টি কোম্পানি সরব আছে। তারা এলএনজি ঠিক সময়ে দিতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor