ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লায় স্ত্রীকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বামী গ্রেফতার বাজিতপুর উপজেলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আরপিএমপি’র উদ্যোগে গভীর শ্রদ্ধা ও মোনাজাত ফুলবাড়ীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দেহ ব্যবসার সঙ্গে জরীত ৭জন নারী-পুরুষ আটক প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে বেরিয়ে দেখলেন রাস্তায় কুরবানির বর্জ্য, ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত সোনাগাজীতে ঈদের আনন্দে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শিক্ষার্থীর ঘরে পৌঁছালো কোরবানির মাংস ঠাকূরগাঁও জেলার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাঙ্গামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে হত্যা মামলার আসামি সহ গ্রেফতার-৪ ফরিদপুরে কোরবানির মাংস ভাগাভাগি নিয়ে ভাঙ্গায় ২ পক্ষের সংঘর্ষ আহত ৩৫

শেরপুরে জমি রেজিস্ট্রিতে চরম ভোগান্তি।

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ৩৬৮ বার পড়া হয়েছে

0-4064x3048-0-0-{}-0-12#

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মোট ২৩৬টি মৌজা নিয়ে গঠিত। প্রতিদিনই এখানে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের কার্যক্রম চলমান থাকে। আর এই জমি ক্রয়-বিক্রয়ের অন্যতম প্রধান ধাপ হলো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন। কিন্তু স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় শেরপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন গড়ে ১৩০ থেকে ১৫০টি জমির দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার চাহিদা রয়েছে। অথচ এখানে কোনো স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সপ্তাহে মাত্র দুই দিন অন্য একটি অফিস থেকে আগত সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এর ফলে সপ্তাহের পাঁচ দিনের কাজ এসে জমা হচ্ছে ওই দুই দিনে। এতে করে অফিসে তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত ভিড়, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশ। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই দিন শেষে দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীরা জানান, সময় স্বল্পতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে দলিলের স্বাক্ষরের আগেই ক্রেতার কাছ থেকে বিক্রেতা টাকা বুঝে নিচ্ছেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না হওয়ায় ক্রেতারা পড়ছেন অনিশ্চয়তায়। অনেক সময় এমন ঘটনাও ঘটছে যে, দলিল রেজিস্ট্রি না করেই ফিরে যাওয়ার পর বিক্রেতা আর জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

IMG 20260416 121849 573

ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা টাকা দিয়ে দিচ্ছি, কিন্তু দলিল হচ্ছে না। পরে বিক্রেতা যদি মত পরিবর্তন করে, তাহলে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব।”

এদিকে আবার দলিল লেখকেরাও পরছে বিপাকে, সেবা দানকারীদের সঠিক সময়ে সেবা দিতে না পেরে তাদের কর্ম অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
অনেকেই মনে করছেন এই পরিস্থিতি জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও প্রতারণার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লেখক সহ ভুক্তভোগীরা। তারা শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

শেরপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি এস এম ফেরদৌস বলেন, আমরা এই সমস্যা নিরসনের জন্য দলিল লেখকরা সবাই মিলে কর্তৃপক্ষের বরাবর আবেদন করেছি দ্রুতই এই জটিলতা নিষ্পত্তি হবে।

শেরপুরের মতো একটি ব্যস্ত উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকা শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয়, এটি সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

শেরপুরে জমি রেজিস্ট্রিতে চরম ভোগান্তি।

আপডেট সময় : ১২:২৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
print news

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মোট ২৩৬টি মৌজা নিয়ে গঠিত। প্রতিদিনই এখানে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের কার্যক্রম চলমান থাকে। আর এই জমি ক্রয়-বিক্রয়ের অন্যতম প্রধান ধাপ হলো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন। কিন্তু স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় শেরপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন গড়ে ১৩০ থেকে ১৫০টি জমির দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার চাহিদা রয়েছে। অথচ এখানে কোনো স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সপ্তাহে মাত্র দুই দিন অন্য একটি অফিস থেকে আগত সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এর ফলে সপ্তাহের পাঁচ দিনের কাজ এসে জমা হচ্ছে ওই দুই দিনে। এতে করে অফিসে তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত ভিড়, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশ। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই দিন শেষে দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীরা জানান, সময় স্বল্পতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে দলিলের স্বাক্ষরের আগেই ক্রেতার কাছ থেকে বিক্রেতা টাকা বুঝে নিচ্ছেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না হওয়ায় ক্রেতারা পড়ছেন অনিশ্চয়তায়। অনেক সময় এমন ঘটনাও ঘটছে যে, দলিল রেজিস্ট্রি না করেই ফিরে যাওয়ার পর বিক্রেতা আর জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

IMG 20260416 121849 573

ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা টাকা দিয়ে দিচ্ছি, কিন্তু দলিল হচ্ছে না। পরে বিক্রেতা যদি মত পরিবর্তন করে, তাহলে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব।”

এদিকে আবার দলিল লেখকেরাও পরছে বিপাকে, সেবা দানকারীদের সঠিক সময়ে সেবা দিতে না পেরে তাদের কর্ম অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
অনেকেই মনে করছেন এই পরিস্থিতি জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও প্রতারণার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লেখক সহ ভুক্তভোগীরা। তারা শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

শেরপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি এস এম ফেরদৌস বলেন, আমরা এই সমস্যা নিরসনের জন্য দলিল লেখকরা সবাই মিলে কর্তৃপক্ষের বরাবর আবেদন করেছি দ্রুতই এই জটিলতা নিষ্পত্তি হবে।

শেরপুরের মতো একটি ব্যস্ত উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকা শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয়, এটি সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে।