ঢাকা ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে কুড়িগ্রামে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শেরপুর হাসপাতালে দালাল আটক, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় পুলিশে সোপর্দ রংপুরে সাংবাদিকদের থানায় ঢুকতে গলায় আইডি কার্ড ঝোলানোর নির্দেশ বগুড়ায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল আরডিএ অবশেষে বৈধতা পাচ্ছে ঢাকা জেলা পরিষদের অবৈধ ২০ তলা ভবন রাজবাড়ীতে মেয়াদোত্তীর্ণ শিশু পণ্য বিক্রি, ম্যানেজারকে কারাদণ্ড ও জরিমানা বরিশালে সংরক্ষিত এলাকায় অনুমোদনহীন বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ সাঁতারু আতিকুর রহমানের ঝুলিতে ৩৩০ পদক, পেলেন ফেডারেশনের দায়িত্ব উপসাগরীয় দেশগুলোর আস্থার সংকটে মার্কিন নিরাপত্তা ছাতা দেবীগঞ্জে স্মার্টফোন ও মাদককে ‘লাল কার্ড’ দেখাল শতাধিক শিক্ষার্থী

ফেনীতে মিথ্যা ধর্ষণের চেষ্টা মামলা সকল আসামী বেকসুর খালাস পেলেন

ফখরুল আলম সাজু
  • আপডেট সময় : ১১:৪০:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮৪ বার পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":2},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফখরুল আলম সাজু

ফেনী জেলা ফুলগাজী উপজেলা আমজাদ হাট ইউনিয়ন উত্তর ধর্মপুর গ্রামে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকাবাসী মিথ্যা মামলা শিকার হচ্ছেন, স্থানীয় বাসিন্দা কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির নামে পরিচিত, সে সবসময় মিথ্যা মামলা দিয়ে গরীব অসহায় মানুষের নামে বেনামে মামলাবাজি করে আসছিলো।

কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির উত্তর ধর্মপুর গ্রামের মসজিদের জায়গা জমি সূত্র ধরে গ্রামের সাধারণ মানুষের প্রতি অন্যায় অত্যাচার করে আসছে এবং তার বিরুদ্ধে কোন কথা বললে সে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন।

সূত্রে জানা যায় যে, মিথ্যা ধর্ষণের চেষ্টা মামলার শিকার হয়েছিল স্থানীয় কিছু গরীব গ্রামবাসী, কিন্তু আদালত দীর্ঘ ৩ বছর পর মিথ্যা ধর্ষণের চেষ্টা মামলা থেকে আদালত বেকসুর খালাস দিয়েছেন সকল আসামীদের।

২০২৩ সালে কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির গং বাদী হাজেরা আক্তারকে সাজানো মিথ্যা ঘটনা দেখিয়ে সাইফুল ইসলাম, মো:নেজাম উদ্দিন, আবদুল কাইয়ুম ও আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে ফেনীর নারীশিশু আদালতে কমপ্লেন ১৪২/২৩ইং পরবর্তীতে নারী শিশু ১৬৩/২৩ ইং মামলা দায়ের করেন।

আদালত ফেনীর পুলিশ ভিকটিম সাপোর্টারের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন, তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে ১০/৩০ ধারায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত উক্ত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।

কিন্তু আসামীদের গ্রেফতারী পরোয়ানা আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় যাওয়ার আগেই ওয়ারেন্ট কপির ফটোকপি দিয়ে ফেনী র‌্যাব অফিসের জনৈক কর্মকর্তার মাধ্যমে ফেনী আদালতের গেইট থেকে সাইফুল ইসলামকে র‌্যাব গ্রেফতার করেন, সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার পর ফেনী র‌্যাব অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়, গ্রেফতার পর শতাধিক এলাকাবাসী মহিপাল র‌্যাব অফিসে উপস্থিত হন।

কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির কর্তৃক আদালতে ওয়ারেন্ট কপি থানায় যাওয়ার আগেই ওয়ারেন্ট কপির ফটোকপি দিয়ে ফেনী আদালতের গেইট থেকে সাইফুল ইসলামকে র‌্যাব’কে দিয়ে গ্রেফতার বিষয়টি ফেনীর পুলিশ সুপার ও র‌্যাব কর্মকর্তার মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

এক পর্যায় তৎকালীন ফেনীর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ওয়ারেন্ট জি আরও কোট থেকে দ্রুত থানায় পাঠান এবং সাইফুল ইসলামকে ফুলগাজী থানায় হস্তান্তর করতে নির্দেশনা দেন, তখন ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম, সাইফুল ইসলামকে ফুলগাজী থানার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়।

২১ দিন পর সাইফুল ইসলাম নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে জামিনে মুক্তি পায়, অত্র ধর্ষণ চেষ্টা মামলার ১ বছর পর একিই বাদী হাজেরা আক্তারের সহিত কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির গং তাঁর ভাই আবদুর রহমানের স্ত্রী মনোয়ারা আক্তার মনি ছাগলনাইয়া শহীদ মিনারের দক্ষিণ পাশে ভাড়া বাসায় আপোষে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে, এবং মিথ্যা প্রচার করেন হাজেরা আক্তারকে গণধর্ষণ করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় উত্তর ধর্মপুর গ্রামের এলাকাবাসী ৭জন গরীব অসহায় মানুষের বিরুদ্ধে ছাগলনাইয়া থানায় সাজানো গণধর্ষণের মামলা রুজু করে, এবং আসামীগন দীর্ঘ ১বছর কারাভোগের পরে সিআইডি ফরেনসিক পরীক্ষার পাঠানো হয়, কিন্তু পরর্বতী সিআইডি ফরেনসিক পরিক্ষায় রিপোর্টে আসামীদের ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে ধর্ষণ মিথ্যা প্রমানিত হলে তদন্তে কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবিরকে ধর্ষণের মুল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করে, এলাকা থেকে তদন্ত অফিসার গ্রেফতার করলে সেখানে কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবিরের লোকজন পুলিশের উপর হামলা করে এবং পুলিশের হ্যান্ডকাপ নিয়ে পালিয়ে যায়, কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির পালিয়ে যাওয়ার জন্য সাহায্য কারিদের ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে গ্রেফতার করা এবং তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য যে দুটি মামলা করা হয়েছে কোনটিতেই বাদী হাজেরা বেগমের পিতা ও স্বামীর আত্মীয় স্বজন স্বাক্ষী ছিলোনা, স্বাক্ষী ছিলো কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির ও তাঁর লোকজন।

কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির গং ও বাদী হাজেরা আক্তার কর্তৃক সাজানো ধর্ষণ চেষ্টা মামলা থেকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন ফেনীর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত।

আদালত গণধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টা মামলার সকল বিষয় বারংবার শুনানি শেষে অদ্য ০৮ই জানুয়ারী খালাসের আদেশ প্রদান করেন আদালত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

ফেনীতে মিথ্যা ধর্ষণের চেষ্টা মামলা সকল আসামী বেকসুর খালাস পেলেন

আপডেট সময় : ১১:৪০:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

ফখরুল আলম সাজু

ফেনী জেলা ফুলগাজী উপজেলা আমজাদ হাট ইউনিয়ন উত্তর ধর্মপুর গ্রামে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকাবাসী মিথ্যা মামলা শিকার হচ্ছেন, স্থানীয় বাসিন্দা কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির নামে পরিচিত, সে সবসময় মিথ্যা মামলা দিয়ে গরীব অসহায় মানুষের নামে বেনামে মামলাবাজি করে আসছিলো।

কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির উত্তর ধর্মপুর গ্রামের মসজিদের জায়গা জমি সূত্র ধরে গ্রামের সাধারণ মানুষের প্রতি অন্যায় অত্যাচার করে আসছে এবং তার বিরুদ্ধে কোন কথা বললে সে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন।

সূত্রে জানা যায় যে, মিথ্যা ধর্ষণের চেষ্টা মামলার শিকার হয়েছিল স্থানীয় কিছু গরীব গ্রামবাসী, কিন্তু আদালত দীর্ঘ ৩ বছর পর মিথ্যা ধর্ষণের চেষ্টা মামলা থেকে আদালত বেকসুর খালাস দিয়েছেন সকল আসামীদের।

২০২৩ সালে কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির গং বাদী হাজেরা আক্তারকে সাজানো মিথ্যা ঘটনা দেখিয়ে সাইফুল ইসলাম, মো:নেজাম উদ্দিন, আবদুল কাইয়ুম ও আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে ফেনীর নারীশিশু আদালতে কমপ্লেন ১৪২/২৩ইং পরবর্তীতে নারী শিশু ১৬৩/২৩ ইং মামলা দায়ের করেন।

আদালত ফেনীর পুলিশ ভিকটিম সাপোর্টারের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন, তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে ১০/৩০ ধারায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত উক্ত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।

কিন্তু আসামীদের গ্রেফতারী পরোয়ানা আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় যাওয়ার আগেই ওয়ারেন্ট কপির ফটোকপি দিয়ে ফেনী র‌্যাব অফিসের জনৈক কর্মকর্তার মাধ্যমে ফেনী আদালতের গেইট থেকে সাইফুল ইসলামকে র‌্যাব গ্রেফতার করেন, সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার পর ফেনী র‌্যাব অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়, গ্রেফতার পর শতাধিক এলাকাবাসী মহিপাল র‌্যাব অফিসে উপস্থিত হন।

কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির কর্তৃক আদালতে ওয়ারেন্ট কপি থানায় যাওয়ার আগেই ওয়ারেন্ট কপির ফটোকপি দিয়ে ফেনী আদালতের গেইট থেকে সাইফুল ইসলামকে র‌্যাব’কে দিয়ে গ্রেফতার বিষয়টি ফেনীর পুলিশ সুপার ও র‌্যাব কর্মকর্তার মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

এক পর্যায় তৎকালীন ফেনীর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ওয়ারেন্ট জি আরও কোট থেকে দ্রুত থানায় পাঠান এবং সাইফুল ইসলামকে ফুলগাজী থানায় হস্তান্তর করতে নির্দেশনা দেন, তখন ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম, সাইফুল ইসলামকে ফুলগাজী থানার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়।

২১ দিন পর সাইফুল ইসলাম নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে জামিনে মুক্তি পায়, অত্র ধর্ষণ চেষ্টা মামলার ১ বছর পর একিই বাদী হাজেরা আক্তারের সহিত কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির গং তাঁর ভাই আবদুর রহমানের স্ত্রী মনোয়ারা আক্তার মনি ছাগলনাইয়া শহীদ মিনারের দক্ষিণ পাশে ভাড়া বাসায় আপোষে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে, এবং মিথ্যা প্রচার করেন হাজেরা আক্তারকে গণধর্ষণ করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় উত্তর ধর্মপুর গ্রামের এলাকাবাসী ৭জন গরীব অসহায় মানুষের বিরুদ্ধে ছাগলনাইয়া থানায় সাজানো গণধর্ষণের মামলা রুজু করে, এবং আসামীগন দীর্ঘ ১বছর কারাভোগের পরে সিআইডি ফরেনসিক পরীক্ষার পাঠানো হয়, কিন্তু পরর্বতী সিআইডি ফরেনসিক পরিক্ষায় রিপোর্টে আসামীদের ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে ধর্ষণ মিথ্যা প্রমানিত হলে তদন্তে কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবিরকে ধর্ষণের মুল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করে, এলাকা থেকে তদন্ত অফিসার গ্রেফতার করলে সেখানে কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবিরের লোকজন পুলিশের উপর হামলা করে এবং পুলিশের হ্যান্ডকাপ নিয়ে পালিয়ে যায়, কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির পালিয়ে যাওয়ার জন্য সাহায্য কারিদের ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে গ্রেফতার করা এবং তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য যে দুটি মামলা করা হয়েছে কোনটিতেই বাদী হাজেরা বেগমের পিতা ও স্বামীর আত্মীয় স্বজন স্বাক্ষী ছিলোনা, স্বাক্ষী ছিলো কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির ও তাঁর লোকজন।

কবির আহম্মদ ওরফে জাল কবির গং ও বাদী হাজেরা আক্তার কর্তৃক সাজানো ধর্ষণ চেষ্টা মামলা থেকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন ফেনীর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত।

আদালত গণধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টা মামলার সকল বিষয় বারংবার শুনানি শেষে অদ্য ০৮ই জানুয়ারী খালাসের আদেশ প্রদান করেন আদালত।