বরিশালে সংরক্ষিত এলাকায় অনুমোদনহীন বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৫:৪২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র জর্ডান রোড এলাকায় একটি ডেভেলপার কোম্পানি কোনো বৈধ অনুমোদন বা প্ল্যান পাস ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। ইতোমধ্যেই ভবনটির প্রথম তলার কাজ শেষ করে দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ চলছে। বরিশাল সার্কিট হাউস সংলগ্ন এই সংরক্ষিত এলাকায় কীভাবে এমন অনুমোদনহীন ভবন নির্মিত হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে যে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) কতিপয় অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে ‘গ্রিন সিটি’ নামের ওই কোম্পানিটি এই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিসিসি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, এই ভবনের জন্য কোনো প্ল্যান পাস করা হয়নি। বিষয়টি জানার পর বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
জমির মালিক সালমা জাহান অভিযোগ করেছেন, তার প্রয়াত স্বামী মোস্তফা রফিক আহম্মেদ খান গ্রিন সিটির সঙ্গে চুক্তি করলেও কোম্পানিটি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। তার স্বামী স্ট্রোক করে ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মারা যান। সালমা জাহানের দাবি, তার অগোচরে কোম্পানির কর্মকর্তারা বণ্টন চুক্তিনামায় তাদের বঞ্চিত করেছেন। তিনি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করতে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান। তিনি বলেন, 'আমি ডেভেলপার কোম্পানির কাছে প্ল্যান দেখতে চেয়েছিলাম এবং তাদের সাইনবোর্ড লাগাতে বলেছিলাম। কিন্তু পরে জানতে পারি কোনো প্ল্যান ছাড়াই বহুতল ভবন করছে কোম্পানিটি।'
বিসিসির প্ল্যান শাখার স্থপতি সাইদুর রহমান লুসান জানান, গ্রিন সিটি কোনো আবেদন করেনি। মোস্তফা রফিক আহম্মেদ খান ৯ তলার জন্য আবেদন করলেও তার মৃত্যুর পর তা অনুমোদন হয়নি। এছাড়া সার্কিট হাউস সংলগ্ন এলাকায় বিসিসির নতুন আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ দ্বিতল ভবন নির্মাণের বিধান রয়েছে। স্থপতি লুসান আরও জানান, তাদের স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া প্ল্যান দেখিয়ে কোম্পানিটি কাজ করছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, নগরীর কনফিডেন্স ডিজাইনারের পরিচালক রিমন সিটি করপোরেশনের কতিপয় কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া প্ল্যান তৈরি করে দিয়েছেন। এতে বিসিসির সহকারী প্ল্যানার লোকমান হোসেন এবং রোড ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ, সালাউদ্দীন, বাবু ও ইমরানের যোগসাজশ থাকার অভিযোগ রয়েছে। সহকারী প্ল্যানার লোকমান হোসেন তার সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও মালিক পক্ষের সাথে মিটিংয়ের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। রোড ইন্সপেক্টর বাবু বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। গ্রিন সিটির এমডি ইউসুফ কাজীকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
























