ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বগুড়ায় সাত মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০৬ জনের প্রাণহানি ওমানের ওপর বোমা হামলার হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে কুড়িগ্রামে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শেরপুর হাসপাতালে দালাল আটক, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় পুলিশে সোপর্দ রংপুরে সাংবাদিকদের থানায় ঢুকতে গলায় আইডি কার্ড ঝোলানোর নির্দেশ বগুড়ায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল আরডিএ অবশেষে বৈধতা পাচ্ছে ঢাকা জেলা পরিষদের অবৈধ ২০ তলা ভবন রাজবাড়ীতে মেয়াদোত্তীর্ণ শিশু পণ্য বিক্রি, ম্যানেজারকে কারাদণ্ড ও জরিমানা বরিশালে সংরক্ষিত এলাকায় অনুমোদনহীন বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ সাঁতারু আতিকুর রহমানের ঝুলিতে ৩৩০ পদক, পেলেন ফেডারেশনের দায়িত্ব

গোপালপুর নয়াপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
  • আপডেট সময় : ০৮:০২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

রংপুরের বদরগঞ্জের গোপালপুর নয়াপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নম্র, ভদ্র ও দানশীল হিসেবে পরিচিত আশরাফুলকে কে বা কারা এভাবে খুন করল, তা বুঝে উঠতে পারছেন না গ্রামবাসী।

আজ (১৪ নভেম্বর) শুক্রবার দুপুরে পুরো গ্রাম নিস্তব্ধ। বাড়ির দরজায় নির্বাক বসে আছেন বাবা আব্দুর রশিদ। মা এছরা খাতুন শয্যাশায়ী। ঘরের ভেতর স্ত্রী লাকী বেগমের আহাজারিতে ভারী পরিবেশ।

জানা গেছে, আশরাফুলের কোনো ভাই নেই, ৪ বোন আছে। বাবা ছোট ব্যবসায়ী ছিলেন। শৈশব থেকে বাবার সঙ্গে কাঁচামাল ব্যবসায় যুক্ত হন আশরাফুল। তাঁর ১টি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে (১৩) ও ৫ বছরের ছেলে রয়েছে।

গ্রামের নুর আলম জানান, ছোট থেকে সংগ্রাম করে সম্পদ করেছেন আশরাফুল। মঙ্গলবার রাতেই প্রবাসী বন্ধু জরেজ ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় যান। পরদিনই শুনি তাঁকে ২৬ টুকরা করা হয়েছে।

আশরাফুলের স্ত্রী লাকী বেগম জানান, বিদেশ যাওয়ার জন্য আমার স্বামীর কাছে ১০ লাখ টাকা চেয়েছিলেন জরেজ। মঙ্গলবার তিনিই আমার স্বামীকে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে ফোন করলে স্বামীর ফোন ধরেন জরেজ। বলেন, আপনার স্বামী ফোন রেখে কালেকশনে গেছে। আমার স্বামীকে উনিই খুন করেছেন। আমি কঠোর শাস্তি চাই।

বাবা আব্দুর রশিদ জানান, মঙ্গলবার বিকেলে আমাকে হাসপাতালে দেখতে আসে আশরাফুল। সঙ্গে ছিল জরেজ। আমি বলেছিলাম, আমাকে হাসপাতালে রেখে ঢাকায় যাইও না। কিন্তু জরেজ খুব তাগাদা দিচ্ছিল ঢাকায় যাওয়ার। জরেজকে ধরলেই খুনের রহস্য বের হবে।

এদিকে আশরাফুলকে দাফনের জন্য মাদ্রাসা–মসজিদের পাশেই কবর খোঁড়া হয়েছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত রিপোর্ট লেখা পযর্ন্ত লাশ বাড়িতে পৌঁছায়নি।

সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন জানান, কাঁচামালের বড় ব্যবসায়ী ছিলেন আশরাফুল। ২ ঈদে গরিব মানুষের মধ্যে শাড়ি–লুঙ্গি ও খাবার বিতরণ করতেন। কোরবানির ঈদে গরু কিনে মাংস দিতেন। তাঁর কোনো শত্রু ছিল না। ঢাকায় কেন তাঁকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, বুঝতে পারছি না।

বদরগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম আতিকুর রহমান জানান, খুনের ঘটনা ঢাকায়, মামলা হবে ঢাকায়। আমরা ১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনেছি। ঢাকা ডিবির টিম তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। আমরা সহযোগিতা করছি।

উল্লেখ্য, হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সামনে ড্রাম থেকে ২৬ টুকরা অবস্থায় আশরাফুল হকের লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

গোপালপুর নয়াপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া

আপডেট সময় : ০৮:০২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

রংপুরের বদরগঞ্জের গোপালপুর নয়াপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নম্র, ভদ্র ও দানশীল হিসেবে পরিচিত আশরাফুলকে কে বা কারা এভাবে খুন করল, তা বুঝে উঠতে পারছেন না গ্রামবাসী।

আজ (১৪ নভেম্বর) শুক্রবার দুপুরে পুরো গ্রাম নিস্তব্ধ। বাড়ির দরজায় নির্বাক বসে আছেন বাবা আব্দুর রশিদ। মা এছরা খাতুন শয্যাশায়ী। ঘরের ভেতর স্ত্রী লাকী বেগমের আহাজারিতে ভারী পরিবেশ।

জানা গেছে, আশরাফুলের কোনো ভাই নেই, ৪ বোন আছে। বাবা ছোট ব্যবসায়ী ছিলেন। শৈশব থেকে বাবার সঙ্গে কাঁচামাল ব্যবসায় যুক্ত হন আশরাফুল। তাঁর ১টি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে (১৩) ও ৫ বছরের ছেলে রয়েছে।

গ্রামের নুর আলম জানান, ছোট থেকে সংগ্রাম করে সম্পদ করেছেন আশরাফুল। মঙ্গলবার রাতেই প্রবাসী বন্ধু জরেজ ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় যান। পরদিনই শুনি তাঁকে ২৬ টুকরা করা হয়েছে।

আশরাফুলের স্ত্রী লাকী বেগম জানান, বিদেশ যাওয়ার জন্য আমার স্বামীর কাছে ১০ লাখ টাকা চেয়েছিলেন জরেজ। মঙ্গলবার তিনিই আমার স্বামীকে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে ফোন করলে স্বামীর ফোন ধরেন জরেজ। বলেন, আপনার স্বামী ফোন রেখে কালেকশনে গেছে। আমার স্বামীকে উনিই খুন করেছেন। আমি কঠোর শাস্তি চাই।

বাবা আব্দুর রশিদ জানান, মঙ্গলবার বিকেলে আমাকে হাসপাতালে দেখতে আসে আশরাফুল। সঙ্গে ছিল জরেজ। আমি বলেছিলাম, আমাকে হাসপাতালে রেখে ঢাকায় যাইও না। কিন্তু জরেজ খুব তাগাদা দিচ্ছিল ঢাকায় যাওয়ার। জরেজকে ধরলেই খুনের রহস্য বের হবে।

এদিকে আশরাফুলকে দাফনের জন্য মাদ্রাসা–মসজিদের পাশেই কবর খোঁড়া হয়েছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত রিপোর্ট লেখা পযর্ন্ত লাশ বাড়িতে পৌঁছায়নি।

সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন জানান, কাঁচামালের বড় ব্যবসায়ী ছিলেন আশরাফুল। ২ ঈদে গরিব মানুষের মধ্যে শাড়ি–লুঙ্গি ও খাবার বিতরণ করতেন। কোরবানির ঈদে গরু কিনে মাংস দিতেন। তাঁর কোনো শত্রু ছিল না। ঢাকায় কেন তাঁকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, বুঝতে পারছি না।

বদরগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম আতিকুর রহমান জানান, খুনের ঘটনা ঢাকায়, মামলা হবে ঢাকায়। আমরা ১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনেছি। ঢাকা ডিবির টিম তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। আমরা সহযোগিতা করছি।

উল্লেখ্য, হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সামনে ড্রাম থেকে ২৬ টুকরা অবস্থায় আশরাফুল হকের লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।