ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাঙামাটিতে সন্তানকে বাঁচিয়ে ডুবে গেলেন বাবা, ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়া চলছে: চিফ প্রসিকিউটর ঢাবির ফজলুল হক হলে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ গ্যাস সংকটে ২৬ দিন ধরে বন্ধ ময়মনসিংহের বিদ্যুৎকেন্দ্র জনগণের স্বস্তির জন্য কাজ করছে বর্তমান সরকার: রুহুল কবির রিজভী বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ৪ বিভাগে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস কুবিতে নতুন দুই সহকারী প্রক্টর নিয়োগ শ্রীপুরের জঙ্গলে ১২টি ঘোড়ার দেহাবশেষ, মাংস চুরির অভিযোগ টানা বৃষ্টিতে আবারও জলজটে স্থবির চট্টগ্রাম মহানগরী বাংলাদেশের কাছে হারের পর ৩৮ লাখ টাকা জরিমানার শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া

চট্টগ্রামে ‘পুলিশ পরিচয়ে সন্ত্রাসী হামলা জিম্মি করে নগদ অর্থ লুট মামলা গ্রহণে পুলিশের অনীহা

ফখরুল আলম সাজু ক্রাইম রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫ ২৭৯ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামে ‘পুলিশ পরিচয়ে সন্ত্রাসী হামলা জিম্মি করে নগদ অর্থ লুট মামলা গ্রহণে পুলিশের অনীহা

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফখরুল আলম সাজু ক্রাইম রিপোর্টার:

চট্টগ্রাম, ৯ জুলাই ২০২৫ চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবরশাহ থানাধীন সিডিএ আ/এ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল সন্ত্রাসীহামলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্তরা বাসায় ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ অর্থসহ ঘরের মালামাল লুট করে নেয়।

ভুক্তভোগী রুমানা শারমিন জানান, ঘটনার দিন বিকেলে দুইজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে তাদের বাসায় প্রবেশ করেন। তারা দাবি করেন, রুমানার স্বামী আমির আশরাফ সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন এবং তাকে কিছু প্রশ্নের জন্য থানায় নিয়ে যেতে হবে। যদিও রুমানা তাদের বারবার জানিয়ে দেন যে, তার স্বামী এখনও বিদেশে অবস্থান করছেন, অভিযুক্তরা তা অস্বীকার করে এবং নিজেদের কাছে রেকর্ড থাকার কথা বলেন।

পরবর্তীতে আরও কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে পরিবারটিকে জিম্মি করে এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। একটি আলমারি ভেঙে ৫ লক্ষ টাকা লুটের অভিযোগ করেন রুমানা শারমিন।

ঘটনার পরপরই আকবরশাহ থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশের পক্ষ থেকে সহযোগিতার পরিবর্তে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “পুলিশ আমাদের জানায়, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী সালাউদ্দিন আহমেদের ঘনিষ্ঠ। এক কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গ্রহণ করা হবে না। বরং আমাদের এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই আবাসিক এলাকা ও আশপাশের এলাকায় এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র পুলিশ বা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আকবরশাহ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ নগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সংঘটিত এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

চট্টগ্রামে ‘পুলিশ পরিচয়ে সন্ত্রাসী হামলা জিম্মি করে নগদ অর্থ লুট মামলা গ্রহণে পুলিশের অনীহা

আপডেট সময় : ০১:০৬:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

ফখরুল আলম সাজু ক্রাইম রিপোর্টার:

চট্টগ্রাম, ৯ জুলাই ২০২৫ চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবরশাহ থানাধীন সিডিএ আ/এ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল সন্ত্রাসীহামলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্তরা বাসায় ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ অর্থসহ ঘরের মালামাল লুট করে নেয়।

ভুক্তভোগী রুমানা শারমিন জানান, ঘটনার দিন বিকেলে দুইজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে তাদের বাসায় প্রবেশ করেন। তারা দাবি করেন, রুমানার স্বামী আমির আশরাফ সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন এবং তাকে কিছু প্রশ্নের জন্য থানায় নিয়ে যেতে হবে। যদিও রুমানা তাদের বারবার জানিয়ে দেন যে, তার স্বামী এখনও বিদেশে অবস্থান করছেন, অভিযুক্তরা তা অস্বীকার করে এবং নিজেদের কাছে রেকর্ড থাকার কথা বলেন।

পরবর্তীতে আরও কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে পরিবারটিকে জিম্মি করে এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। একটি আলমারি ভেঙে ৫ লক্ষ টাকা লুটের অভিযোগ করেন রুমানা শারমিন।

ঘটনার পরপরই আকবরশাহ থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশের পক্ষ থেকে সহযোগিতার পরিবর্তে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “পুলিশ আমাদের জানায়, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী সালাউদ্দিন আহমেদের ঘনিষ্ঠ। এক কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গ্রহণ করা হবে না। বরং আমাদের এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই আবাসিক এলাকা ও আশপাশের এলাকায় এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র পুলিশ বা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আকবরশাহ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ নগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সংঘটিত এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।