ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরশুরামে বিএনপি নেতার অ্যাম্বুলেন্সে মিললো ১১৭ বোতল ভারতীয় মদ সহ গ্রেফতার-২ ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের অভিযানে ইয়াবা সহ আটক-৫ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা পদক পেলেন আদাবর থানার ওসি জাহিদ ইসলাম রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা পলাশ গুলিবিদ্ধ ১ সপ্তাহের পর মারা গিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইয়াবা সহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার রংপুরে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি ও প্রক্সি চক্রের ৬ জন সদস্য আটক করেছেন মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ রাজশাহীতে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে চুরির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত-১ পরীমনির কাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতা মূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার চৌদ্দগ্রামে দাড়িয়ে থাকা ট্রাকের পিছনে বাসের ধাক্কায় নিহত-১, আহত-৫ নরসিংদীতে মোবাইল কোর্টের সাঁড়াশি অভিযান অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান জরিমানা ও সিলগালা

ঈদগাঁওতে অগ্নিকাণ্ড অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

জাওয়ান উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ মার্চ ২০২৫ ১৭৭ বার পড়া হয়েছে

ঈদগাঁওতে অগ্নিকাণ্ড অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

জাওয়ান উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি

কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২১ টি বাসা বাড়ি ও ৮/১০ টি দোকানপাট পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পহেলা মার্চ গভীর রাতে বাজারের মাছ বাজার ও সংলগ্ন কলোনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে প্রাথমিকভাবে অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা ব্যাপী চলেছে এ অগ্নিকাণ্ড। নজরুল কলোনির একটি বাসার গ্যাস থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। রাত সাড়ে তিনটার পর শুরু হলেও সকাল সাতটার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে অগ্নি। অগ্নির লেলিহান শিখা থেকে রক্ষা পায়নি রমিজের মোটর বাইক, জীবন্ত নারীকেল, নিম ও বড়ই গাছও। পুড়ে গেছে বিপুল সংখ্যক ব্রয়লার মুরগি, তরি- তরকারি, কাঁচা ও শুকনো মাছ রাখার নানা যন্ত্রপাতি। যেগুলো পবিত্র মাহে রামাদান উপলক্ষে মজুদ করা হয়েছিল। উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস না থাকায় এবং বাজারে নিত্য যানজট হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা অনেক বেশি ছিল।
পুড়ে যাওয়া নজরুল কলোনির মালিক নজরুল ইসলাম জানান, তার কলোনিতে একটি অফিস ঘর সহ ১০ টি বাসা বাড়ির সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তার পার্শ্ববর্তী রশিদ আহমদের মালিকানাধীন কলোনির ১১টি ভাড়া বাসাও পুড়ে যায়। সব মিলিয়ে তিনি ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা এতে ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে জানান। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রশাসনের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা দাবি করেন।

মাছ বাজার ভাই ভাই একথা সমিতির সভাপতি শওকত আলম জানান, গভীর রাতে মোবাইলে লাইভে অগ্নিকাণ্ড দেখে তিনি দ্রুত মাছ বাজারে আসেন। উপস্থিত লোকদের নিয়ে ড্রেনের পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। শত চেষ্টা করেও মাছ বাজারের পশ্চিমাংশ তারা রক্ষা করতে পারেননি।
তিনি আরো জানান, অগ্নিকাণ্ডে বৈদ্যুতিক মিটার, ভালব, ব্যারেল, আইপিএস, বাস্কেট, ককসীট, চেয়ার, টুল, তক্তা ও গাছ পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে।

মুরগি দোকানদার জাহাঙ্গীর আলম জানান, দেশি, সোনালী, লাল ও ব্রয়লার মুরগী মিলে তার দোকানের ছয়শ মুরগি পড়ে গেছে। জীবন্ত অনেক মুরগি লুটপাট হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মধ্যে মুরগি, শুটকি, কাঁচা মাছ, তরকারি, মুদি ও মাছ কাটার দোকান ছিল।

ভুক্তভোগী দোকানদারদের মধ্যে ইসলাম, রমিজ, মৃদুল, রূপয়, সুজন, সুমন ও দিল মোহাম্মদ প্রমুখ রয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানী আবু তাহের জানান, রমজান উপলক্ষে ভাড়া বাসায় রাখা ২০-২৫ হাজার টাকার কোমল পানীয় সহ বাসার সবকিছু পুড়ে গেছে।

ফিস কাটার সুজন দাস জানান, দোকানের চাল পুড়ে যাওয়ায় পাঁচ /ছয় হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মাছ কাটা শ্রমিক সুমন দাসও তার দোকানের জিনিসপত্র পুড়ে গেছে বলে জানায়।
তবে তারা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুনঃনির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছিল।
তরকারি দোকানদার জয়নাল, শাহজাহান ও ইউসুপ (বাপ্পি) অগ্নিকান্ডে তাদের কাঁচামাল মাল পুড়ে যায় বলে জানায়।
সকাল ৯ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ ও বাজার সভাপতি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উপস্থিত হন।
অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের পরপরই জালালাবাদ চেয়ারম্যান ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার স্থানীয়দের সহায়তায় অগ্নি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

ঈদগাঁওতে অগ্নিকাণ্ড অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট সময় : ০৯:০০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ মার্চ ২০২৫
print news

জাওয়ান উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি

কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২১ টি বাসা বাড়ি ও ৮/১০ টি দোকানপাট পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পহেলা মার্চ গভীর রাতে বাজারের মাছ বাজার ও সংলগ্ন কলোনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে প্রাথমিকভাবে অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা ব্যাপী চলেছে এ অগ্নিকাণ্ড। নজরুল কলোনির একটি বাসার গ্যাস থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। রাত সাড়ে তিনটার পর শুরু হলেও সকাল সাতটার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে অগ্নি। অগ্নির লেলিহান শিখা থেকে রক্ষা পায়নি রমিজের মোটর বাইক, জীবন্ত নারীকেল, নিম ও বড়ই গাছও। পুড়ে গেছে বিপুল সংখ্যক ব্রয়লার মুরগি, তরি- তরকারি, কাঁচা ও শুকনো মাছ রাখার নানা যন্ত্রপাতি। যেগুলো পবিত্র মাহে রামাদান উপলক্ষে মজুদ করা হয়েছিল। উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস না থাকায় এবং বাজারে নিত্য যানজট হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা অনেক বেশি ছিল।
পুড়ে যাওয়া নজরুল কলোনির মালিক নজরুল ইসলাম জানান, তার কলোনিতে একটি অফিস ঘর সহ ১০ টি বাসা বাড়ির সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তার পার্শ্ববর্তী রশিদ আহমদের মালিকানাধীন কলোনির ১১টি ভাড়া বাসাও পুড়ে যায়। সব মিলিয়ে তিনি ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা এতে ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে জানান। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রশাসনের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা দাবি করেন।

মাছ বাজার ভাই ভাই একথা সমিতির সভাপতি শওকত আলম জানান, গভীর রাতে মোবাইলে লাইভে অগ্নিকাণ্ড দেখে তিনি দ্রুত মাছ বাজারে আসেন। উপস্থিত লোকদের নিয়ে ড্রেনের পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। শত চেষ্টা করেও মাছ বাজারের পশ্চিমাংশ তারা রক্ষা করতে পারেননি।
তিনি আরো জানান, অগ্নিকাণ্ডে বৈদ্যুতিক মিটার, ভালব, ব্যারেল, আইপিএস, বাস্কেট, ককসীট, চেয়ার, টুল, তক্তা ও গাছ পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে।

মুরগি দোকানদার জাহাঙ্গীর আলম জানান, দেশি, সোনালী, লাল ও ব্রয়লার মুরগী মিলে তার দোকানের ছয়শ মুরগি পড়ে গেছে। জীবন্ত অনেক মুরগি লুটপাট হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মধ্যে মুরগি, শুটকি, কাঁচা মাছ, তরকারি, মুদি ও মাছ কাটার দোকান ছিল।

ভুক্তভোগী দোকানদারদের মধ্যে ইসলাম, রমিজ, মৃদুল, রূপয়, সুজন, সুমন ও দিল মোহাম্মদ প্রমুখ রয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানী আবু তাহের জানান, রমজান উপলক্ষে ভাড়া বাসায় রাখা ২০-২৫ হাজার টাকার কোমল পানীয় সহ বাসার সবকিছু পুড়ে গেছে।

ফিস কাটার সুজন দাস জানান, দোকানের চাল পুড়ে যাওয়ায় পাঁচ /ছয় হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মাছ কাটা শ্রমিক সুমন দাসও তার দোকানের জিনিসপত্র পুড়ে গেছে বলে জানায়।
তবে তারা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুনঃনির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছিল।
তরকারি দোকানদার জয়নাল, শাহজাহান ও ইউসুপ (বাপ্পি) অগ্নিকান্ডে তাদের কাঁচামাল মাল পুড়ে যায় বলে জানায়।
সকাল ৯ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ ও বাজার সভাপতি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উপস্থিত হন।
অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের পরপরই জালালাবাদ চেয়ারম্যান ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার স্থানীয়দের সহায়তায় অগ্নি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন।