জালিয়াতির অভিযোগে বিপাকে বিল গেটসের মেয়ে ফিবি গেটসের স্টার্টআপ
- আপডেট সময় : ০৬:০৭:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের ২৩ বছর বয়সী মেয়ে ফিবি গেটস এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সোফিয়া কিয়ানি যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন এআই-চালিত শপিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফিয়া’ (Phia)। ২০২৫ সালের এপ্রিলে কনজ্যুমার অ্যাপ এবং ব্রাউজার এক্সটেনশন চালু করা এই প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে ‘কুকি স্টাফিং’ সংক্রান্ত গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগের মুখে পড়েছে।
ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ স্লাক বার্তা ও সোর্স কোডের উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, ফিয়া-এর ব্রাউজার এক্সটেনশনটি ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাফিলিয়েট ট্র্যাকিং কুকি বসিয়ে দিত। এর মাধ্যমে কোনো পণ্য কেনা না হলেও ফিয়া বিক্রির কৃতিত্ব দাবি করার চেষ্টা করত। এই পদ্ধতিতে নাইকি, নর্ডস্ট্রম এবং গ্যাপ-এর মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি জনসমক্ষে আসার কয়েক মাস আগেই এর প্রতিষ্ঠাতারা কুকি-প্লেসমেন্ট ফিচারের ব্যাপারে জানতেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফিবি গেটসের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং দেওয়ানি মামলার মুখোমুখি হতে হতে পারে। সাইবার ল’ ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার স্টার ক্যাশম্যানের মতে, ফেডারেল ওয়্যার জালিয়াতির ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও প্রসিকিউটরদের প্রমাণ করতে হবে যে, ফিবি গেটস জেনেশুনেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে এই স্কিমে অংশ নিয়েছিলেন। ক্যাশম্যানের মতে, এটি কোনো অবহেলাজনিত ভুল হিসেবে গণ্য হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগুলো কমিশন, চুক্তি ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের পাশাপাশি গোপনীয়তা এবং ভোক্তা-অধিকার সুরক্ষার ইস্যুতে দেওয়ানি মামলা করতে পারবে।
ফিয়া অবশ্য ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের কিছু বিষয় অস্বীকার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। স্টার ক্যাশম্যানের মতে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু করা হলেও বিচার প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু হয় না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, যদি প্রতারণার বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে ফিবি গেটস এবং তার কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লাভজনক অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিং সিস্টেম। দীর্ঘদিনের বিজ্ঞাপন গবেষক বেন এডেলম্যান এই পদ্ধতিকে ‘ফোর্সড ক্লিকস’ বা ‘জোরপূর্বক ক্লিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এটি নেটওয়ার্ক ও ব্যবসায়িক নিয়মের মৌলিক লঙ্ঘন, যা বিক্রেতাদের খরচ বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, পারফরম্যান্স-মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ রিচার্ড নিউম্যানের মতে, অ্যাফিলিয়েট চুক্তিতে কুকি স্টাফিং সাধারণত নিষিদ্ধ এবং এর ফলে কমিশন বাতিল হয়ে যায়। এই বিতর্কের বিষয়ে ফিবি গেটস ও ফিয়া কর্তৃপক্ষের মন্তব্য জানতে চেয়েছিল নিউ ইয়র্ক পোস্ট।




























