ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দিনেই ১৩৩ রানে অলআউট পাকিস্তান
- আপডেট সময় : ০২:৪৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

কোচ ও দলে ব্যাপক পরিবর্তন এনেও ভাগ্য বদলাতে পারল না পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনেই মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে সফরকারীরা। এজবাস্টনে টসে জিতে পাকিস্তানকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর স্বাগতিক পেসারদের তোপের মুখে মাত্র ৩৩.৫ ওভারেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস।
সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে পরাজয়ের পর পাকিস্তান দলে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার চালানো হয়েছিল। সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দলে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা পাঁচ খেলোয়াড়ের মধ্যে তিনজনের এই ম্যাচেই টেস্ট অভিষেক ঘটে। তবে মাঠের বাইরে এত সব পরিবর্তনের পরও বাইশ গজে পাকিস্তানের পুরোনো ব্যাটিং ব্যর্থতার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ইংলিশ পেসারদের আগ্রাসী বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। দলীয় মাত্র ৪৮ রানেই প্রথম ৫ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে তারা। প্রথম সারির পাঁচ ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। পুরো ইনিংসে ১১ জন ব্যাটসম্যানের মধ্যে মাত্র তিনজন দুই অঙ্কের রান করতে সক্ষম হন। দীর্ঘ দেড় বছর পর টেস্ট দলে ফেরা সাইম আইয়ুব ওলি রবিনসনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে শূন্য রানেই বিদায় নেন। এরপর আজান আওয়াইস, আবদুল্লাহ শফিক এবং অধিনায়ক শান মাসুদও দ্রুত সাজঘরের পথ ধরেন। জশ টংয়ের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম।
দলের এমন বিপর্যয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করার চেষ্টা করেন সৌদ শাকিল। ৪৭ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৪৩ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। এর আগে লর্ডস টেস্টেও তিনি দলের পক্ষে লড়াই করে ৯৭ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন। তবে সৌদ শাকিলকে জশ টং বোল্ড করার পর পাকিস্তানের ইনিংসের লেজ দ্রুতই গুটিয়ে যায়। শেষ দিকে মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলী মিলে ২৬ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন, যা ছিল পাকিস্তানের ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি। এই জুটির কল্যাণেই শেষ পর্যন্ত কোনোমতে ১৩৩ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে পাকিস্তান।
ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন জশ টং। তিনি ৪২ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ওলি রবিনসন ১৫ রানে ৩টি এবং জোফরা আর্চার ২৫ রানে ৩টি উইকেট নেন। রবিনসনের জন্য এই ম্যাচটি ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়। সাইম আইয়ুবকে আউট করার মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ১০০তম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
এই নিয়ে টানা পাঁচ টেস্ট ইনিংসে ২০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার লজ্জার রেকর্ড গড়ল পাকিস্তান, যার মধ্যে শেষ তিন ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ছিল ১৫০ রানেরও কম। এর আগে হেডিংলিতে ইনিংস ব্যবধানে এবং লর্ডসে ১৯৪ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। ম্যাচের আগে বাবর আজম মাঠের বাইরের আলোচনা ভুলে খেলায় মনোযোগী হওয়ার কথা বললেও, এজবাস্টনের প্রথম ইনিংসের পারফরম্যান্স বলছে যে কোচ কিংবা খেলোয়াড় বদলালেও পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা এখনও কাটেনি।




























