ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শারদীয় দুর্গাপূজায় টানা পাঁচদিনের ছুটি, শনিবার খোলা ব্যাংক সরকারি বাসা বরাদ্দ এখন অনলাইনে, স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ সৌদি আরবের অধিকাংশ আকাশসীমা ও বিমানবন্দর ‘অনিরাপদ’: হুথি মুখপাত্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পর্যটকদের জন্য আবারও উন্মুক্ত সাজেক যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসের নিরাপত্তা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশ ইসরাইলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সময় ওয়াকআউট করল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সেগুনবাগিচায় সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের দেয়ালে সারিবদ্ধ গাড়ির দখল সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম কেনায় শত কোটি টাকা দুর্নীতির অনুসন্ধান লালমোহনে নজরুল বর্ষ ২০২৬ উদযাপন, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুখর অনুষ্ঠান কুমিল্লার প্রত্যন্ত গ্রামেও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, গ্রেপ্তার ৩

গ্লাসগো ২০২৬: কমনওয়েলথ গেমসে সাশ্রয়ী ও টেকসই আয়োজনের নতুন মডেল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাত্র ১৮ মাসের প্রস্তুতিতে আয়োজিত গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস ভবিষ্যতের বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলোর জন্য একটি নতুন মডেল হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। রোববার প্রকাশিত 'দ্য স্টোরি সো ফার' শীর্ষক অন্তর্বর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদনে গেমসটিকে কম খরচে, টেকসই এবং কার্যকরভাবে বড় ক্রীড়া আসর আয়োজনের বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই আয়োজনে নতুন কোনো স্টেডিয়াম নির্মাণ না করে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে, যা খরচ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আয়োজনের নজির স্থাপন করেছে।

এবারের আসরে ৭৪টি দেশ ও অঞ্চল থেকে প্রায় ৩ হাজার ক্রীড়াবিদ ১০টি ক্রীড়া এবং ৬টি প্যারা ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়েছেন। মোট ২১৫টি পদক ইভেন্টে ১ হাজার ১৬৮টি পদক বিতরণ করা হয়েছে। গেমস চলাকালীন ভেন্যু, লাইভ সাইট এবং গ্লাসগো ২০২৬ ফেস্টিভ্যাল মিলিয়ে ৬ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেমস সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৫০ কোটি ভিউ হয়েছে এবং ৪ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক ১ লাখ ৫৬ হাজার ১১০ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন।

গ্লাসগো ২০২৬-এর অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল প্যারা ক্রীড়ার সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তি। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রথমবার ৬টি প্যারা ডিসিপ্লিনে ৪৭টি পদক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি ইংল্যান্ডের মার্ক সোয়ান প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে স্বর্ণ জিতে গেমসের প্রথম স্বর্ণপদক জয়ের ইতিহাস গড়েছেন।

পরিবেশবান্ধব আয়োজনেও গ্লাসগো নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। প্রতিযোগিতার সব ভেন্যু ৮ মাইলের মধ্যে অবস্থিত ছিল এবং ভেন্যুগুলোতে শতভাগ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়েছে। গেমসের ৭১ শতাংশ পরিবহন ছিল হাইব্রিড বা বৈদ্যুতিক, যার মধ্যে ৬৩ শতাংশই ছিল সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক। খাবারের মেন্যুর ৫৯ শতাংশ ছিল নিরামিষ বা উদ্ভিদভিত্তিক। এছাড়া অস্থায়ী অবকাঠামোর ৯০ শতাংশের বেশি পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে এবং ৯৯ হাজার ৪০১টি পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে ভেন্যুর ব্যানার তৈরি করা হয়েছে। কিংস ব্যাটন রিলের অংশ হিসেবে ১১১টি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ১০ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৪টি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

গ্লাসগো ২০২৬-এর প্রধান নির্বাহী ফিল ব্যাটি জানান, এই গেমস প্রমাণ করেছে যে নতুনভাবে চিন্তা করলে বড় আন্তর্জাতিক আসরও কম খরচে সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব। কমনওয়েলথ স্পোর্টের প্রধান নির্বাহী কেটি স্যাডলিয়ার বলেন, গ্লাসগো ২০২৬ ভবিষ্যতের গেমসের জন্য একটি নমনীয় ও টেকসই সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, গ্লাসগো ২০২৬-এর সম্ভাব্য ব্যয় ১৬২ দশমিক ৬ মিলিয়ন পাউন্ড, যা ২০১৪ সালের গ্লাসগো গেমসের ৫৪৩ মিলিয়ন এবং ২০২২ সালের বার্মিংহাম গেমসের ৬৮০ মিলিয়ন পাউন্ডের তুলনায় অনেক কম।

কিংস ব্যাটন রিলের অংশ হিসেবে ১৮৮টি স্থানে ১১১টি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ১৪ হাজার ৩০৪ জন স্বেচ্ছাসেবকের অংশগ্রহণে সমুদ্রে যাওয়ার আগেই ১০ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৪টি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্লাসগো ২০২৬: কমনওয়েলথ গেমসে সাশ্রয়ী ও টেকসই আয়োজনের নতুন মডেল

আপডেট সময় : ০৭:০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

মাত্র ১৮ মাসের প্রস্তুতিতে আয়োজিত গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস ভবিষ্যতের বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলোর জন্য একটি নতুন মডেল হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। রোববার প্রকাশিত 'দ্য স্টোরি সো ফার' শীর্ষক অন্তর্বর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদনে গেমসটিকে কম খরচে, টেকসই এবং কার্যকরভাবে বড় ক্রীড়া আসর আয়োজনের বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই আয়োজনে নতুন কোনো স্টেডিয়াম নির্মাণ না করে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে, যা খরচ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আয়োজনের নজির স্থাপন করেছে।

এবারের আসরে ৭৪টি দেশ ও অঞ্চল থেকে প্রায় ৩ হাজার ক্রীড়াবিদ ১০টি ক্রীড়া এবং ৬টি প্যারা ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়েছেন। মোট ২১৫টি পদক ইভেন্টে ১ হাজার ১৬৮টি পদক বিতরণ করা হয়েছে। গেমস চলাকালীন ভেন্যু, লাইভ সাইট এবং গ্লাসগো ২০২৬ ফেস্টিভ্যাল মিলিয়ে ৬ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেমস সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৫০ কোটি ভিউ হয়েছে এবং ৪ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক ১ লাখ ৫৬ হাজার ১১০ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন।

গ্লাসগো ২০২৬-এর অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল প্যারা ক্রীড়ার সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তি। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রথমবার ৬টি প্যারা ডিসিপ্লিনে ৪৭টি পদক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি ইংল্যান্ডের মার্ক সোয়ান প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে স্বর্ণ জিতে গেমসের প্রথম স্বর্ণপদক জয়ের ইতিহাস গড়েছেন।

পরিবেশবান্ধব আয়োজনেও গ্লাসগো নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। প্রতিযোগিতার সব ভেন্যু ৮ মাইলের মধ্যে অবস্থিত ছিল এবং ভেন্যুগুলোতে শতভাগ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়েছে। গেমসের ৭১ শতাংশ পরিবহন ছিল হাইব্রিড বা বৈদ্যুতিক, যার মধ্যে ৬৩ শতাংশই ছিল সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক। খাবারের মেন্যুর ৫৯ শতাংশ ছিল নিরামিষ বা উদ্ভিদভিত্তিক। এছাড়া অস্থায়ী অবকাঠামোর ৯০ শতাংশের বেশি পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে এবং ৯৯ হাজার ৪০১টি পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে ভেন্যুর ব্যানার তৈরি করা হয়েছে। কিংস ব্যাটন রিলের অংশ হিসেবে ১১১টি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ১০ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৪টি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

গ্লাসগো ২০২৬-এর প্রধান নির্বাহী ফিল ব্যাটি জানান, এই গেমস প্রমাণ করেছে যে নতুনভাবে চিন্তা করলে বড় আন্তর্জাতিক আসরও কম খরচে সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব। কমনওয়েলথ স্পোর্টের প্রধান নির্বাহী কেটি স্যাডলিয়ার বলেন, গ্লাসগো ২০২৬ ভবিষ্যতের গেমসের জন্য একটি নমনীয় ও টেকসই সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, গ্লাসগো ২০২৬-এর সম্ভাব্য ব্যয় ১৬২ দশমিক ৬ মিলিয়ন পাউন্ড, যা ২০১৪ সালের গ্লাসগো গেমসের ৫৪৩ মিলিয়ন এবং ২০২২ সালের বার্মিংহাম গেমসের ৬৮০ মিলিয়ন পাউন্ডের তুলনায় অনেক কম।

কিংস ব্যাটন রিলের অংশ হিসেবে ১৮৮টি স্থানে ১১১টি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ১৪ হাজার ৩০৪ জন স্বেচ্ছাসেবকের অংশগ্রহণে সমুদ্রে যাওয়ার আগেই ১০ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৪টি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh