ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্পেনে ঐতিহ্যবাহী ষাঁড় দৌড় উৎসবে আহত ১০ এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে মন্তব্যে সংসদে দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬: ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য ২০২৬ বিশ্বকাপ: মাঠের লড়াই ছাপিয়ে যে ১০ বিতর্ক আলোচনায় ২৫ ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে স্বাভাবিক হলো বাস চলাচল ইউজিসিতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি চেয়ারম্যানের নেইমারকে কিংবদন্তি বললেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিয়ল্যান্ড সাবেক রাষ্ট্রপতির বাড়ির রাস্তা নির্মাণে হাওরের পরিবেশ ধ্বংস: রুহুল কবির রিজভী পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

২০২৬ বিশ্বকাপ: মাঠের লড়াই ছাপিয়ে যে ১০ বিতর্ক আলোচনায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি বিতর্ক, সমালোচনা এবং নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কারণে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। নকআউট পর্বে পৌঁছানোর পর রেফারিং, ভিএআর সিদ্ধান্ত, ড্রয়ের নিয়ম, শাস্তি স্থগিত এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও ফিফার বিরুদ্ধে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে। যদিও কিছু অভিযোগের প্রমাণ নেই, তবুও ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বাস্তব উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বাছাইপর্বে প্রতিপক্ষকে কনুই মারার দায়ে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেও ফিফা তা স্থগিত করে। ফিফার শৃঙ্খলাবিধির একটি ধারা ব্যবহার করে জানানো হয়, এক বছরের পর্যবেক্ষণকালীন সময়ে একই অপরাধ না করলে শাস্তি কার্যকর হবে না, যা সমালোচকদের মতে নিয়মবহির্ভূত। এছাড়া বিশ্বকাপের আগে ফিফা নতুন ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ চালু করে এবং প্রথম পুরস্কারটি ডনাল্ড ট্রাম্পকে দেয়। এটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে কারণ ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ফিফা কাউন্সিলের অধিকাংশ সদস্য এটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

বিশ্বকাপের নকআউট সূচিতে টেনিসের মতো সিডিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে শীর্ষ দলগুলো ফাইনালের আগে একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ কম পেয়েছে। সমালোচকদের দাবি, আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো সহজ পথ পেয়েছে। অন্যদিকে, বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের হাইড্রেশন বিরতি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অনেক ফুটবলার ও কোচের মতে এটি খেলার ছন্দ নষ্ট করে, আবার সমালোচকদের অভিযোগ, এটি সম্প্রচারকারীদের বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ করে দেওয়ার কৌশল।

আর্জেন্টিনার ম্যাচে ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। মিশরের বিপক্ষে গোল বাতিল ও পেনাল্টি না দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিপক্ষরা। যদিও ফিফার রেফারি প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও ভিএআর হস্তক্ষেপ ও ব্রিল এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক ছিল। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের পর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন, যদিও ফিফা দাবি করেছে সিদ্ধান্তটি কমিটিই নিয়েছে।

অন্যান্য বিতর্কের মধ্যে রয়েছে ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচে স্কাইক্যামে বল লাগার অভিযোগ, যা ফিফা সেন্সর ডেটা দিয়ে অস্বীকার করেছে। এছাড়া ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচের সময় পরিবর্তনের চেষ্টা ও আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচে ড্রয়ের মাধ্যমে ইরানের বিদায় নিয়ে সমঝোতার অভিযোগও ফুটবল বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচে ‘সমঝোতার’ অভিযোগগ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার ৩-৩ ড্রয়ের ফলে ইরান বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। ম্যাচের শেষদিকে দুই দল আক্রমণের গতি কমিয়ে দেওয়ায় ১৯৮২ সালের কুখ্যাত ‘ডিসগ্রেস অব গিখন’- এর সঙ্গে তুলনা টানা হয়। যদিও দুই দলের কোচই কোনো ধরনের সমঝোতার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

২০২৬ বিশ্বকাপ: মাঠের লড়াই ছাপিয়ে যে ১০ বিতর্ক আলোচনায়

আপডেট সময় : ১১:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
print news

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি বিতর্ক, সমালোচনা এবং নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কারণে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। নকআউট পর্বে পৌঁছানোর পর রেফারিং, ভিএআর সিদ্ধান্ত, ড্রয়ের নিয়ম, শাস্তি স্থগিত এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও ফিফার বিরুদ্ধে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে। যদিও কিছু অভিযোগের প্রমাণ নেই, তবুও ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বাস্তব উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বাছাইপর্বে প্রতিপক্ষকে কনুই মারার দায়ে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেও ফিফা তা স্থগিত করে। ফিফার শৃঙ্খলাবিধির একটি ধারা ব্যবহার করে জানানো হয়, এক বছরের পর্যবেক্ষণকালীন সময়ে একই অপরাধ না করলে শাস্তি কার্যকর হবে না, যা সমালোচকদের মতে নিয়মবহির্ভূত। এছাড়া বিশ্বকাপের আগে ফিফা নতুন ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ চালু করে এবং প্রথম পুরস্কারটি ডনাল্ড ট্রাম্পকে দেয়। এটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে কারণ ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ফিফা কাউন্সিলের অধিকাংশ সদস্য এটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

বিশ্বকাপের নকআউট সূচিতে টেনিসের মতো সিডিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে শীর্ষ দলগুলো ফাইনালের আগে একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ কম পেয়েছে। সমালোচকদের দাবি, আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো সহজ পথ পেয়েছে। অন্যদিকে, বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের হাইড্রেশন বিরতি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অনেক ফুটবলার ও কোচের মতে এটি খেলার ছন্দ নষ্ট করে, আবার সমালোচকদের অভিযোগ, এটি সম্প্রচারকারীদের বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ করে দেওয়ার কৌশল।

আর্জেন্টিনার ম্যাচে ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। মিশরের বিপক্ষে গোল বাতিল ও পেনাল্টি না দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিপক্ষরা। যদিও ফিফার রেফারি প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও ভিএআর হস্তক্ষেপ ও ব্রিল এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক ছিল। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের পর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন, যদিও ফিফা দাবি করেছে সিদ্ধান্তটি কমিটিই নিয়েছে।

অন্যান্য বিতর্কের মধ্যে রয়েছে ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচে স্কাইক্যামে বল লাগার অভিযোগ, যা ফিফা সেন্সর ডেটা দিয়ে অস্বীকার করেছে। এছাড়া ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচের সময় পরিবর্তনের চেষ্টা ও আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচে ড্রয়ের মাধ্যমে ইরানের বিদায় নিয়ে সমঝোতার অভিযোগও ফুটবল বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচে ‘সমঝোতার’ অভিযোগগ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার ৩-৩ ড্রয়ের ফলে ইরান বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। ম্যাচের শেষদিকে দুই দল আক্রমণের গতি কমিয়ে দেওয়ায় ১৯৮২ সালের কুখ্যাত ‘ডিসগ্রেস অব গিখন’- এর সঙ্গে তুলনা টানা হয়। যদিও দুই দলের কোচই কোনো ধরনের সমঝোতার অভিযোগ অস্বীকার করেন।