২৫ ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে স্বাভাবিক হলো বাস চলাচল
- আপডেট সময় : ১১:১৯:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী থেকে দেশের সব রুটের বাস চলাচল ২৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় শুরু হয়েছে। রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতানৈক্যের জেরে সোমবার রাত আটটা থেকে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক দফা বৈঠকের পর মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার দিনভর সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। দূরপাল্লার যাত্রীদের বিকল্প পথের সন্ধান করতে হয়, অনেকে বাধ্য হয়ে যাত্রা বাতিল করেন। বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, কোনো বাস ছেড়ে যাচ্ছে না এবং দূরপাল্লার বাসের কাউন্টারগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক যাত্রী বিষয়টি না জেনে কাউন্টারে এসে ফিরে গেছেন।
মূলত জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। সোমবার বিকেলে শ্রমিকনেতারা জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি উঠলেও কমিটি না থাকায় জেলা প্রশাসক নিজেই নির্বাচনী কমিটি করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। শ্রমিকেরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও পরে বাস চলাচল বন্ধের ঘটনা ঘটে।
এই বিরোধ মূলত শ্রমিকনেতা রফিকুল ইসলাম (পাখি) ও মোমিনুল ইসলাম (মোমিন) পক্ষের মধ্যে চলছিল। সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসক রাজশাহী নগর পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার নূর আলম সিদ্দিকীকে দায়িত্ব দেন। মঙ্গলবার পুলিশের এই কর্মকর্তা দুই পক্ষের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, মোমিন পক্ষের দাবি অনুযায়ী নির্বাচনী কমিটিতে নজরুল ইসলাম (হেলাল) থাকবেন না। জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে দুই পক্ষের তিনজন করে ছয়জন এবং প্রশাসনের তিনজন সদস্য থাকবেন। এই সিদ্ধান্তে উভয় পক্ষ সম্মত হওয়ার পর সন্ধ্যায় বাস চালানোর ঘোষণা আসে।
শ্রমিকনেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, তারা বাস চালানোর পক্ষে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি হোক তা চান না। তবে লিটন আলী নামের এক ব্যক্তি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বাস চালাতে বাধা দিচ্ছিলেন। মোমিনের দাবি, লিটন আলী জামায়াতের অনুসারী এবং তিনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। অন্যদিকে, লিটন আলী দাবি করেন যে তিনি শ্রমিকদের স্বার্থে কথা বলছেন এবং নির্বাচনী কমিটিতে মালিক সমিতির কেউ থাকবে না, শুধু শ্রমিক ও প্রশাসন থাকবে—এই শর্তে তিনি সম্মত হয়েছেন। রাতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পুনরায় বৈঠকের কথা রয়েছে বলে জানান লিটন আলী।

























