ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সিরাজুল ইসলাম আপসহীন ছিলেন: মির্জা ফখরুল বুদ্ধিজীবী ও স্বৈরাচারের সখ্য: ক্ষমতার মোহে সততার বিসর্জন জামায়াতের প্রদর্শনীতে মুজিব আছে কিন্তু জিয়া নেই, ব্যাখ্যায় বিতর্ক সাভারে বিএনপি নেতাকে কাফনের কাপড় ও গুলি পাঠিয়ে হত্যার হুমকি গাজীপুরে ১১ লাখ টাকার বিদেশি মদসহ আটক ২ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মানবিকতার সঙ্গে সেবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল পেমেন্টে জালনোটের ঝুঁকি কমবে, সাশ্রয় হবে অর্থ: গভর্নর সিএমএসএমই খাতে ঋণপ্রবাহে বড় ধস, বিপাকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সন্তানের অভিভাবকত্ব পেতে আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা শোনালেন চার মা মনোয়ারুলের মৃত্যু: পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ, পীরগাছায় থানা ঘেরাও

ফুটবল জার্সির ওজন আসলে কতটা, যা বহন করেন ফুটবলাররা?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ফুটবলার যখন গায়ে জার্সি জড়ান, তখন তিনি কেবল একটি পোশাক পরেন না, বরং বহন করেন একটি দেশের ইতিহাস। এই জার্সির বুকের ওপর থাকা ছোট্ট প্রতীকটি জাতির পরিচয় বহন করে। এর রঙের ভেতর লুকিয়ে থাকে স্বাধীনতার গল্প, যুদ্ধের ক্ষত, উপনিবেশ থেকে মুক্তির স্মৃতি এবং পৃথিবীর সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষা। প্রতিটি জার্সির সাথে জড়িয়ে থাকে কয়েক প্রজন্মের দীর্ঘ অপেক্ষা।

ব্রাজিলের হলুদ জার্সির দিকে তাকালে পেলে, গারিঞ্চা, জিকো, রোমারিও কিংবা রোনালদোদের মুখ ভেসে ওঠে। এই রঙের সাথে মিশে আছে সাম্বার ছন্দ, মারাকানার কান্না এবং পাঁচটি বিশ্বকাপ জয়ের উল্লাস। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা স্ট্রাইপের জার্সিতে বেঁচে আছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০১৪ সালের অপূর্ণতা এবং ২০২২ সালে লিওনেল মেসির হাত ধরে বিশ্বকাপ জয়ের পর একটি দেশের আনন্দের কান্না—সবই এই জার্সির সাথে যুক্ত।

প্রতিটি দেশের জার্সির পেছনেই রয়েছে হাজারো গল্প। কোথাও রয়েছে যুদ্ধ, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষার ইতিহাস। একজন শিশু যখন উঠানে বল নিয়ে খেলে, সে স্বপ্ন দেখে একদিন দেশের জার্সি পরবে, জাতীয় সংগীতের সময় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। এই পথচলায় সে কাদামাঠ পেরোয়, ভাঙা বুট পরে অনুশীলন করে এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করে। ড্রেসিংরুমে নিজের নাম ও নম্বর লেখা জার্সিটি দেখার মুহূর্তটি একজন ফুটবলারের জন্য পরম প্রাপ্তির। ক্লাব ফুটবল খ্যাতি ও অর্থ দিলেও, জাতীয় দল দেয় দেশের হয়ে দাঁড়ানোর অধিকার, যা অর্থ দিয়ে কেনা সম্ভব নয়।

জাতীয় সংগীতের সময় এগারোজন ফুটবলার যখন পাশাপাশি দাঁড়ান, তখন তাদের সামনে কেবল মাঠ থাকে না, থাকে পুরো একটি দেশ। হাজার কিলোমিটার দূরের কোনো গ্রামে টেলিভিশনের সামনে বসে থাকা শিশু, হাসপাতালে রোগীর পাশে ম্যাচ দেখা মানুষ কিংবা প্রবাসে পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ—সবাই সেই এগারোজনের সাথে খেলেন। একটি গোল কিংবা একটি ভুল পাস কেবল মাঠের ঘটনা নয়, তা কোটি মানুষের আবেগ ও জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।

শেষ বাঁশির পর ঘামে ভেজা জার্সিতে একজন ফুটবলার যখন মাঠ ছাড়েন, তখন জয় কিংবা পরাজয়ের ভারে জার্সিটি আরও ভারী মনে হয়। রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সামাজিক অবস্থান ভিন্ন হলেও, জাতীয় দলের জার্সির রঙ মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলে। এক প্রজন্মের হাত থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে জার্সি পৌঁছালেও এর ওজন বদলায় না। এই ওজন কোনো দাঁড়িপাল্লায় মাপা যায় না; এর ওজন একটি দেশের ইতিহাস, যুদ্ধের স্মৃতি, মায়ের প্রার্থনা এবং কোটি মানুষের স্বপ্নের সমান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

ফুটবল জার্সির ওজন আসলে কতটা, যা বহন করেন ফুটবলাররা?

আপডেট সময় : ১১:৩৪:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
print news

ফুটবলার যখন গায়ে জার্সি জড়ান, তখন তিনি কেবল একটি পোশাক পরেন না, বরং বহন করেন একটি দেশের ইতিহাস। এই জার্সির বুকের ওপর থাকা ছোট্ট প্রতীকটি জাতির পরিচয় বহন করে। এর রঙের ভেতর লুকিয়ে থাকে স্বাধীনতার গল্প, যুদ্ধের ক্ষত, উপনিবেশ থেকে মুক্তির স্মৃতি এবং পৃথিবীর সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষা। প্রতিটি জার্সির সাথে জড়িয়ে থাকে কয়েক প্রজন্মের দীর্ঘ অপেক্ষা।

ব্রাজিলের হলুদ জার্সির দিকে তাকালে পেলে, গারিঞ্চা, জিকো, রোমারিও কিংবা রোনালদোদের মুখ ভেসে ওঠে। এই রঙের সাথে মিশে আছে সাম্বার ছন্দ, মারাকানার কান্না এবং পাঁচটি বিশ্বকাপ জয়ের উল্লাস। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা স্ট্রাইপের জার্সিতে বেঁচে আছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০১৪ সালের অপূর্ণতা এবং ২০২২ সালে লিওনেল মেসির হাত ধরে বিশ্বকাপ জয়ের পর একটি দেশের আনন্দের কান্না—সবই এই জার্সির সাথে যুক্ত।

প্রতিটি দেশের জার্সির পেছনেই রয়েছে হাজারো গল্প। কোথাও রয়েছে যুদ্ধ, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষার ইতিহাস। একজন শিশু যখন উঠানে বল নিয়ে খেলে, সে স্বপ্ন দেখে একদিন দেশের জার্সি পরবে, জাতীয় সংগীতের সময় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। এই পথচলায় সে কাদামাঠ পেরোয়, ভাঙা বুট পরে অনুশীলন করে এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করে। ড্রেসিংরুমে নিজের নাম ও নম্বর লেখা জার্সিটি দেখার মুহূর্তটি একজন ফুটবলারের জন্য পরম প্রাপ্তির। ক্লাব ফুটবল খ্যাতি ও অর্থ দিলেও, জাতীয় দল দেয় দেশের হয়ে দাঁড়ানোর অধিকার, যা অর্থ দিয়ে কেনা সম্ভব নয়।

জাতীয় সংগীতের সময় এগারোজন ফুটবলার যখন পাশাপাশি দাঁড়ান, তখন তাদের সামনে কেবল মাঠ থাকে না, থাকে পুরো একটি দেশ। হাজার কিলোমিটার দূরের কোনো গ্রামে টেলিভিশনের সামনে বসে থাকা শিশু, হাসপাতালে রোগীর পাশে ম্যাচ দেখা মানুষ কিংবা প্রবাসে পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ—সবাই সেই এগারোজনের সাথে খেলেন। একটি গোল কিংবা একটি ভুল পাস কেবল মাঠের ঘটনা নয়, তা কোটি মানুষের আবেগ ও জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।

শেষ বাঁশির পর ঘামে ভেজা জার্সিতে একজন ফুটবলার যখন মাঠ ছাড়েন, তখন জয় কিংবা পরাজয়ের ভারে জার্সিটি আরও ভারী মনে হয়। রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সামাজিক অবস্থান ভিন্ন হলেও, জাতীয় দলের জার্সির রঙ মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলে। এক প্রজন্মের হাত থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে জার্সি পৌঁছালেও এর ওজন বদলায় না। এই ওজন কোনো দাঁড়িপাল্লায় মাপা যায় না; এর ওজন একটি দেশের ইতিহাস, যুদ্ধের স্মৃতি, মায়ের প্রার্থনা এবং কোটি মানুষের স্বপ্নের সমান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor