ঢাকা ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মগবাজারে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা: চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যুতে নিহতের সংখ্যা ২ হালিশহরে মমতার গাড়িতে হামলা, চোর স্লোগান ও বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল ট্রাম্পের সঙ্গে বিপজ্জনক খেলায় মেতেছেন নেতানিয়াহু ইলিয়াস কাঞ্চনের বাসায় সুচন্দা ও চম্পা, আড্ডায় ফিরল সোনালি স্মৃতি শিশুশ্রম বন্ধে দারিদ্র্য বিমোচন ও শিক্ষার নিশ্চয়তা জরুরি শেয়ারবাজারের সংকট উত্তরণে জরুরি কাঠামোগত সংস্কার দেওবন্দ মাদ্রাসায় গঙ্গার পানি ছিটানোর ঘোষণা হিন্দুত্ববাদী দলের সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত এমএ কাশেম বাংলাদেশের বিতর্কিত রাষ্ট্রপতিদের ইতিহাস: মোশতাক থেকে সাহাবুদ্দিন লোকসানের ঝুঁকি নিয়েই দুই রুটে ফের ফ্লাইট চালু করল বিমান

নাসার মহাকাশ অভিযানে নেতৃত্বে বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী লামীয়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে নতুন এক অভিযানে নামছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি এবং সৌরজগতের বাইরের নতুন গ্রহের সন্ধানে প্রস্তুত করা হয়েছে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকল্পে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী লামীয়া আশরাফ মওলা। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি কলেজের হুইটিন অবজারভেটরিতে জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে ২০২১ সালে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের গবেষণা দলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এবার নাসার নতুন প্রজন্মের রোমান স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পে নেতৃত্ব দিয়ে মহাকাশ গবেষণায় বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন তিনি।

বিজ্ঞানীদের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, মহাবিশ্বের মোট ভর ও শক্তির মাত্র ৫ শতাংশ দৃশ্যমান বস্তু—যেমন গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যাস ও ধুলিকণা। বাকি ৯৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির সঙ্গে সম্পর্কিত, যার প্রকৃত স্বরূপ এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে পুরোপুরি অজানা। মহাবিশ্ব কীভাবে তৈরি হয়েছে, কীভাবে এর সম্প্রসারণ ঘটছে এবং ভবিষ্যতে এর গতিপথ কী হতে পারে—এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে রোমান টেলিস্কোপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় রোমান টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত হবে, যার মাধ্যমে একই সময়ে মহাকাশের বিশাল অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট সন্ধান করা। মহাকর্ষীয় মাইক্রোলেন্সিংসহ বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে দূরবর্তী নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা এমন গ্রহ শনাক্ত করা হবে, যেগুলো প্রচলিত পদ্ধতিতে খুঁজে পাওয়া কঠিন। লামীয়া আশরাফ মওলা জানান, রোমান স্পেস টেলিস্কোপ শুধু ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির রহস্য অনুসন্ধানেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; মহাবিশ্বে কত ধরনের গ্রহ রয়েছে এবং কীভাবে এসব গ্রহের সৃষ্টি ও বিকাশ ঘটেছে, সে সম্পর্কেও নতুন তথ্য দেবে। এর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান আরও বিস্তৃত হবে। তিনি মনে করেন, প্রয়োজনীয় সুযোগ, গবেষণা অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা গেলে বাংলাদেশ থেকেও ভবিষ্যতে আরও বেশি বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে অবস্থিত গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে রোমান স্পেস টেলিস্কোপের নির্মাণ ও পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য টেলিস্কোপটি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ আগস্ট মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা করবে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। এটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ ও কার্যক্রম শুরু করতে পারলে মহাবিশ্বের গঠন, ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি এবং বহির্গ্রহ অনুসন্ধানে নতুন যুগের সূচনা হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

নাসার মহাকাশ অভিযানে নেতৃত্বে বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী লামীয়া

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
print news

মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে নতুন এক অভিযানে নামছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি এবং সৌরজগতের বাইরের নতুন গ্রহের সন্ধানে প্রস্তুত করা হয়েছে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকল্পে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী লামীয়া আশরাফ মওলা। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি কলেজের হুইটিন অবজারভেটরিতে জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে ২০২১ সালে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের গবেষণা দলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এবার নাসার নতুন প্রজন্মের রোমান স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পে নেতৃত্ব দিয়ে মহাকাশ গবেষণায় বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন তিনি।

বিজ্ঞানীদের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, মহাবিশ্বের মোট ভর ও শক্তির মাত্র ৫ শতাংশ দৃশ্যমান বস্তু—যেমন গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যাস ও ধুলিকণা। বাকি ৯৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির সঙ্গে সম্পর্কিত, যার প্রকৃত স্বরূপ এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে পুরোপুরি অজানা। মহাবিশ্ব কীভাবে তৈরি হয়েছে, কীভাবে এর সম্প্রসারণ ঘটছে এবং ভবিষ্যতে এর গতিপথ কী হতে পারে—এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে রোমান টেলিস্কোপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় রোমান টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত হবে, যার মাধ্যমে একই সময়ে মহাকাশের বিশাল অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট সন্ধান করা। মহাকর্ষীয় মাইক্রোলেন্সিংসহ বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে দূরবর্তী নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা এমন গ্রহ শনাক্ত করা হবে, যেগুলো প্রচলিত পদ্ধতিতে খুঁজে পাওয়া কঠিন। লামীয়া আশরাফ মওলা জানান, রোমান স্পেস টেলিস্কোপ শুধু ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির রহস্য অনুসন্ধানেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; মহাবিশ্বে কত ধরনের গ্রহ রয়েছে এবং কীভাবে এসব গ্রহের সৃষ্টি ও বিকাশ ঘটেছে, সে সম্পর্কেও নতুন তথ্য দেবে। এর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান আরও বিস্তৃত হবে। তিনি মনে করেন, প্রয়োজনীয় সুযোগ, গবেষণা অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা গেলে বাংলাদেশ থেকেও ভবিষ্যতে আরও বেশি বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে অবস্থিত গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে রোমান স্পেস টেলিস্কোপের নির্মাণ ও পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য টেলিস্কোপটি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ আগস্ট মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা করবে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। এটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ ও কার্যক্রম শুরু করতে পারলে মহাবিশ্বের গঠন, ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি এবং বহির্গ্রহ অনুসন্ধানে নতুন যুগের সূচনা হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor