ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌন্দর্যের ভেতর ইতিহাসের শরীর: হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের তুলনামূলক পাঠ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে: এস এম জিলানী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বনশ্রীতে কুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে তরুণীকে মারধর, থানায় অভিযোগ ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

ভারত মহাসাগরের তলদেশে বিশ্বের প্রাচীনতম তিমির কবরস্থান আবিষ্কার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:২১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভারত মহাসাগরের তলদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড়, গভীর এবং প্রাচীন তিমির কবরস্থানের সন্ধান পেয়েছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার মিটার গভীরে চালানো অভিযানে প্রায় ৫০০টি তিমির কঙ্কাল শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব কঙ্কালের মধ্যে কিছু ৫৩ লাখ বছরেরও বেশি পুরনো। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী 'নেচার'-এ প্রকাশিত এই গবেষণাকে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের পাশাপাশি তিমির বিবর্তন ও গভীর সমুদ্রের প্রাণবৈচিত্র্য বোঝার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেসের বিজ্ঞানী শিয়াওতং পেংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ২০২৩ সালে 'ফেনদৌঝে' নামের গভীর সমুদ্রগামী ডুবোজাহাজ ব্যবহার করা হয়। ডুবোজাহাজটি ৩২টি অভিযানে রোবটিক বাহুর মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করেছে। শিয়াওতং পেং জানান, সমুদ্রের তলদেশে একের পর এক তিমির কঙ্কাল দেখে তারা বিস্মিত হয়েছিলেন, কারণ এত বিশাল পরিসরে কবরস্থানের অস্তিত্ব তাদের কল্পনার বাইরে ছিল। ভারত মহাসাগরের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এসব কঙ্কালের বেশিরভাগই বিকড হোয়েল বা ঠোঁটওয়ালা তিমি। এছাড়া বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নতুন একটি তিমির প্রজাতিও সেখানে পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞানীরা এই এলাকাটিকে 'ডায়ামান্টিনা জোন' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং ধারণা করছেন, এখানে মোট এক কোটিরও বেশি তিমির মৃতদেহ থাকতে পারে। গবেষক পেং ঝৌয়ের মতে, সমুদ্রের হিমশীতল ও অন্ধকার পরিবেশে এমন প্রাণবন্ত বাস্তুতন্ত্র দেখা জীবনের এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। মৃত তিমিগুলো সমুদ্রের তলদেশে 'হোয়েল ফল' বা তিমির পতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের প্রাণীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করছে। সেখানে জেলিফিশ, কৃমি, শামুক, চিংড়ি, ব্রিটল স্টার ও মোলাস্কসহ এমন অনেক প্রাণীর দেখা মিলেছে, যা বিজ্ঞানীদের কাছে নতুন।

গবেষকদের ধারণা, এই এলাকায় বিপুল সংখ্যক কঙ্কাল জমার পেছনে সমুদ্রের তলদেশের ভি-আকৃতির খাদ এবং তিমিদের খাদ্য সংগ্রহের প্রবণতা ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া মৃত তিমির দেহে থাকা প্রায় ৬৭ লাখ টন কার্বন সমুদ্রের তলদেশে আটকে রয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রাকৃতিকভাবে কার্বন সংরক্ষণের একটি বড় উদাহরণ। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানী ক্রেইগ স্মিথ এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর বলে অভিহিত করেছেন। তবে ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক অ্যামি ব্যাকো-টেলর মনে করেন, একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কেন এত বিপুল সংখ্যক তিমি মারা গেছে, তা এখনো রহস্যময়। ভবিষ্যতে আরও অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও এমন কবরস্থানের সন্ধান পাওয়ার আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানী ক্রেইগ স্মিথ, যিনি ১৯৮৭ সালে বিশ্বের প্রথম ‘হোয়েল ফল’ শনাক্ত করেছিলেন, এই আবিষ্কারকে “অত্যন্ত রোমাঞ্চকর” বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এটি তিমির বিবর্তন এবং কোটি কোটি বছর ধরে তাদের বিস্তৃতি সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারত মহাসাগরের তলদেশে বিশ্বের প্রাচীনতম তিমির কবরস্থান আবিষ্কার

আপডেট সময় : ০৩:২১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

ভারত মহাসাগরের তলদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড়, গভীর এবং প্রাচীন তিমির কবরস্থানের সন্ধান পেয়েছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার মিটার গভীরে চালানো অভিযানে প্রায় ৫০০টি তিমির কঙ্কাল শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব কঙ্কালের মধ্যে কিছু ৫৩ লাখ বছরেরও বেশি পুরনো। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী 'নেচার'-এ প্রকাশিত এই গবেষণাকে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের পাশাপাশি তিমির বিবর্তন ও গভীর সমুদ্রের প্রাণবৈচিত্র্য বোঝার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেসের বিজ্ঞানী শিয়াওতং পেংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ২০২৩ সালে 'ফেনদৌঝে' নামের গভীর সমুদ্রগামী ডুবোজাহাজ ব্যবহার করা হয়। ডুবোজাহাজটি ৩২টি অভিযানে রোবটিক বাহুর মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করেছে। শিয়াওতং পেং জানান, সমুদ্রের তলদেশে একের পর এক তিমির কঙ্কাল দেখে তারা বিস্মিত হয়েছিলেন, কারণ এত বিশাল পরিসরে কবরস্থানের অস্তিত্ব তাদের কল্পনার বাইরে ছিল। ভারত মহাসাগরের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এসব কঙ্কালের বেশিরভাগই বিকড হোয়েল বা ঠোঁটওয়ালা তিমি। এছাড়া বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নতুন একটি তিমির প্রজাতিও সেখানে পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞানীরা এই এলাকাটিকে 'ডায়ামান্টিনা জোন' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং ধারণা করছেন, এখানে মোট এক কোটিরও বেশি তিমির মৃতদেহ থাকতে পারে। গবেষক পেং ঝৌয়ের মতে, সমুদ্রের হিমশীতল ও অন্ধকার পরিবেশে এমন প্রাণবন্ত বাস্তুতন্ত্র দেখা জীবনের এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। মৃত তিমিগুলো সমুদ্রের তলদেশে 'হোয়েল ফল' বা তিমির পতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের প্রাণীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করছে। সেখানে জেলিফিশ, কৃমি, শামুক, চিংড়ি, ব্রিটল স্টার ও মোলাস্কসহ এমন অনেক প্রাণীর দেখা মিলেছে, যা বিজ্ঞানীদের কাছে নতুন।

গবেষকদের ধারণা, এই এলাকায় বিপুল সংখ্যক কঙ্কাল জমার পেছনে সমুদ্রের তলদেশের ভি-আকৃতির খাদ এবং তিমিদের খাদ্য সংগ্রহের প্রবণতা ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া মৃত তিমির দেহে থাকা প্রায় ৬৭ লাখ টন কার্বন সমুদ্রের তলদেশে আটকে রয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রাকৃতিকভাবে কার্বন সংরক্ষণের একটি বড় উদাহরণ। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানী ক্রেইগ স্মিথ এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর বলে অভিহিত করেছেন। তবে ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক অ্যামি ব্যাকো-টেলর মনে করেন, একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কেন এত বিপুল সংখ্যক তিমি মারা গেছে, তা এখনো রহস্যময়। ভবিষ্যতে আরও অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও এমন কবরস্থানের সন্ধান পাওয়ার আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানী ক্রেইগ স্মিথ, যিনি ১৯৮৭ সালে বিশ্বের প্রথম ‘হোয়েল ফল’ শনাক্ত করেছিলেন, এই আবিষ্কারকে “অত্যন্ত রোমাঞ্চকর” বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এটি তিমির বিবর্তন এবং কোটি কোটি বছর ধরে তাদের বিস্তৃতি সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin