মোরগ কেন ভোরে ডাকে? এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ
- আপডেট সময় : ১১:০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

ভোরবেলায় মোরগের গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ওঠাকে আমরা সচরাচর মোরগের ডাক বলে থাকি। কিন্তু এই ডাকের পেছনে রয়েছে জৈবঘড়ি বা দেহঘড়ির সরাসরি সংশ্লিষ্টতা। মোরগের ফজরের আগে ডাক এবং মুরগির না ডাকা একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা তাদের জৈবিক এবং সামাজিক ভূমিকার কারণে ঘটে থাকে। এটি কেবল মানুষের কাছে দিন শুরুর সংকেত নয়, বরং প্রাকৃতিক ভারসাম্যের একটি অংশ।
বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রভাতে মোরগ ডাকার মূল কারণ তাদের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম এবং নিজ এলাকা বা আধিপত্যকে জানান দেওয়া। জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী মোরগের ডাক নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, মোরগের ফজরের আগের ডাক মূলত তাদের জৈবিক ঘড়ি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এমনকি সম্পূর্ণ অন্ধকার ঘরে রাখলেও মোরগ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ডাকবে। গবেষকরা আরও দেখেছেন যে, একটি মোরগের ডাক অন্য মোরগদেরও ডাকতে উদ্বুদ্ধ করে।
জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈবঘড়ি বিশেষজ্ঞ তাকাশি ইউশিমুরা ও তাঁর সহকর্মী শুয়োশি শিমুরা এক পরীক্ষায় দেখিয়েছেন যে, এই ডাক দেয়ার সঙ্গে একটি জিনগত যোগসূত্র রয়েছে। মোরগ সাধারণত চার মাস বয়স হওয়ার আগে ডাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে। তাদের এই ডাক দেওয়ার অন্যতম অর্থ হলো নিজ এলাকার সার্বভৌমত্ব দাবি করা। কারণ, তাকে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ডিম পাড়া মুরগির পালের দেখাশোনা করতে হয়। ডাক দিয়ে সে তার উপস্থিতি জানান দেয় এবং অন্য কাউকে ওই এলাকায় প্রবেশে নিরুৎসাহিত করে।
মোরগ কেন ফজরের আগে ডাকে, তার প্রধান কারণগুলো হলো: প্রথমত, জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম, যা সূর্যের আলো ও দিনের সময়ের ওপর নির্ভর করে। এটি তাদের পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তনের অংশ হিসেবে এসেছে। দ্বিতীয়ত, প্রধানত্ব ঘোষণা করা। মোরগ তার নিজের এলাকা ও মুরগির প্রতি তার প্রাধান্য বোঝাতে ডাকে। তৃতীয়ত, আলোতে সংবেদনশীলতা। মোরগের চোখে বিশেষ আলোক-সংবেদনশীল প্রোটিন থাকে, যা সূর্য ওঠার আগেই আলোকে শনাক্ত করতে পারে। এমনকি চাঁদের আলোর মতো হালকা আলোও তাদের ডাকতে উদ্দীপিত করে।
অন্যদিকে, মুরগি কেন ডাকে না, তার পেছনেও জৈবিক ভিন্নতা কাজ করে। মোরগ ও মুরগির আচরণগত ও জৈবিক কার্যক্রম ভিন্ন। মুরগি সাধারণত শান্ত থাকে এবং তাদের ডাকের প্রবণতা মোরগের মতো এলাকা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত নয়। মূলত মুরগির দায়িত্ব ডিম পাড়া ও বাচ্চা তোলার দিকে বেশি মনোযোগী হওয়া। প্রায় ৪ হাজার বছর আগে মোরগ-মুরগি মানুষের পোষ মেনে গৃহপালিত হয়েছিল এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ডেকে ওঠার বিষয়টি তাদের জিনগতভাবে প্রোগ্রাম করা।





























