ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

জিম্বাবুয়েতে ২১ কোটি বছরের পুরনো নতুন ডাইনোসর প্রজাতির সন্ধান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জিম্বাবুয়েতে নতুন আবিষ্কৃত একটি ডাইনোসর প্রজাতি এসব প্রাণীর বৈচিত্র্য ও বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের নতুন ধারণা দিচ্ছে। এই আবিষ্কার থেকে ধারণা করা যাচ্ছে যে, অতীতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ডাইনোসররা আলাদা আলাদা বাস্তুতন্ত্রে স্বতন্ত্রভাবে বিস্তার লাভ করেছিল।

বিজ্ঞানীরা নতুন এই প্রজাতিটির নাম দিয়েছেন ‘মুসাঙ্গো মাতুসাডোনেনসিস’। ২০১৮ সালে উত্তর জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদের তীরে খনন কাজের সময় প্রাপ্ত একটি কঙ্কালের ভিত্তিতে প্রজাতিটি শনাক্ত করা হয়েছে। এটি জিম্বাবুয়েতে পাওয়া পঞ্চম ডাইনোসর প্রজাতি। স্থানীয় শোনা ভাষার ‘মুসাঙ্গো’ শব্দের অর্থ ‘ঝোপঝাড়ে বসবাসকারী’, যা থেকেই এই নামকরণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জীবাশ্মবিদদের দল জানিয়েছে, প্রায় ২১ কোটি বছর আগে লেট ট্রায়াসিক যুগে এই ডাইনোসর পৃথিবীতে বসবাস করত। ওই সময় ডাইনোসররা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলেও, তারা তখনও স্থলভাগের প্রধান প্রাণী হয়ে ওঠেনি। গবেষকদের মতে, এটি জিম্বাবুয়েতে পাওয়া একই সময়কালের ডাইনোসর জীবাশ্মগুলোর মধ্যে অন্যতম সম্পূর্ণ কঙ্কাল, যার মধ্যে মেরুদণ্ড, পাঁজর, সামনের ও পেছনের পা এবং পায়ের হাড় সংরক্ষিত রয়েছে।

লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষক পল ব্যারেট জানিয়েছেন, আগে ধারণা করা হতো দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে বসবাসকারী ডাইনোসরগুলো মূলত একই ধরনের ছিল। কিন্তু এই আবিষ্কার থেকে বোঝা যাচ্ছে, ওই অঞ্চল আসলে একাধিক আলাদা বাস্তুতন্ত্রে বিভক্ত ছিল এবং প্রতিটি বাস্তুতন্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির ডাইনোসর বসবাস করত। ব্যারেটের মতে, এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এখন পর্যন্ত আমরা যা আবিষ্কার করেছি, তা সম্ভবত বিশাল এক অজানা জগতের সামান্য অংশ মাত্র।

মুসাঙ্গো ছিল অপেক্ষাকৃত ছোট ও হালকা গড়নের। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিটার (১৫ ফুট) এবং ওজন আনুমানিক ২২২ কিলোগ্রাম (৪৯০ পাউন্ড), যা একটি পূর্ণবয়স্ক শূকরের ওজনের কাছাকাছি। যদিও এর মাথার খুলি এখনো পাওয়া যায়নি, গবেষকরা ধারণা করছেন এটি তৃণভোজী বা সর্বভুক ছিল এবং নদী ও জলধারার পাশে জন্মানো উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকত। হাড়ের পরীক্ষায় জানা গেছে, মৃত্যুর সময় এর বয়স ছিল প্রায় আট বছর এবং জীবদ্দশায় এটি গুরুতর আঘাত বা সংক্রমণ থেকে সেরে উঠেছিল।

গবেষণার ফলাফল জার্নাল অব সিস্টেম্যাটিক প্যালিওন্টোলজি-তে প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে জিম্বাবুয়ের বিজ্ঞানীরা ‘মবিরেসরাস রাথি’ নামের আফ্রিকার সবচেয়ে প্রাচীন ডাইনোসরের দেহাবশেষ আবিষ্কার করেছিলেন, যা প্রায় ২৩ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

জিম্বাবুয়েতে ২১ কোটি বছরের পুরনো নতুন ডাইনোসর প্রজাতির সন্ধান

আপডেট সময় : ০২:৩১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

জিম্বাবুয়েতে নতুন আবিষ্কৃত একটি ডাইনোসর প্রজাতি এসব প্রাণীর বৈচিত্র্য ও বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের নতুন ধারণা দিচ্ছে। এই আবিষ্কার থেকে ধারণা করা যাচ্ছে যে, অতীতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ডাইনোসররা আলাদা আলাদা বাস্তুতন্ত্রে স্বতন্ত্রভাবে বিস্তার লাভ করেছিল।

বিজ্ঞানীরা নতুন এই প্রজাতিটির নাম দিয়েছেন ‘মুসাঙ্গো মাতুসাডোনেনসিস’। ২০১৮ সালে উত্তর জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদের তীরে খনন কাজের সময় প্রাপ্ত একটি কঙ্কালের ভিত্তিতে প্রজাতিটি শনাক্ত করা হয়েছে। এটি জিম্বাবুয়েতে পাওয়া পঞ্চম ডাইনোসর প্রজাতি। স্থানীয় শোনা ভাষার ‘মুসাঙ্গো’ শব্দের অর্থ ‘ঝোপঝাড়ে বসবাসকারী’, যা থেকেই এই নামকরণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জীবাশ্মবিদদের দল জানিয়েছে, প্রায় ২১ কোটি বছর আগে লেট ট্রায়াসিক যুগে এই ডাইনোসর পৃথিবীতে বসবাস করত। ওই সময় ডাইনোসররা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলেও, তারা তখনও স্থলভাগের প্রধান প্রাণী হয়ে ওঠেনি। গবেষকদের মতে, এটি জিম্বাবুয়েতে পাওয়া একই সময়কালের ডাইনোসর জীবাশ্মগুলোর মধ্যে অন্যতম সম্পূর্ণ কঙ্কাল, যার মধ্যে মেরুদণ্ড, পাঁজর, সামনের ও পেছনের পা এবং পায়ের হাড় সংরক্ষিত রয়েছে।

লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষক পল ব্যারেট জানিয়েছেন, আগে ধারণা করা হতো দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে বসবাসকারী ডাইনোসরগুলো মূলত একই ধরনের ছিল। কিন্তু এই আবিষ্কার থেকে বোঝা যাচ্ছে, ওই অঞ্চল আসলে একাধিক আলাদা বাস্তুতন্ত্রে বিভক্ত ছিল এবং প্রতিটি বাস্তুতন্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির ডাইনোসর বসবাস করত। ব্যারেটের মতে, এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এখন পর্যন্ত আমরা যা আবিষ্কার করেছি, তা সম্ভবত বিশাল এক অজানা জগতের সামান্য অংশ মাত্র।

মুসাঙ্গো ছিল অপেক্ষাকৃত ছোট ও হালকা গড়নের। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিটার (১৫ ফুট) এবং ওজন আনুমানিক ২২২ কিলোগ্রাম (৪৯০ পাউন্ড), যা একটি পূর্ণবয়স্ক শূকরের ওজনের কাছাকাছি। যদিও এর মাথার খুলি এখনো পাওয়া যায়নি, গবেষকরা ধারণা করছেন এটি তৃণভোজী বা সর্বভুক ছিল এবং নদী ও জলধারার পাশে জন্মানো উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকত। হাড়ের পরীক্ষায় জানা গেছে, মৃত্যুর সময় এর বয়স ছিল প্রায় আট বছর এবং জীবদ্দশায় এটি গুরুতর আঘাত বা সংক্রমণ থেকে সেরে উঠেছিল।

গবেষণার ফলাফল জার্নাল অব সিস্টেম্যাটিক প্যালিওন্টোলজি-তে প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে জিম্বাবুয়ের বিজ্ঞানীরা ‘মবিরেসরাস রাথি’ নামের আফ্রিকার সবচেয়ে প্রাচীন ডাইনোসরের দেহাবশেষ আবিষ্কার করেছিলেন, যা প্রায় ২৩ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin