ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে শ্রেণিকক্ষ সংকট, বটগাছের নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান আফগানদের বিপক্ষে দুর্দান্ত শুরু বাংলাদেশের, লাঞ্চের আগে সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৩৪ রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে দুই দফা হামলায় নিহত ৩ দুর্গাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে পরিচিত মুখ শামীম আহমেদ দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যের উপনির্বাচনে হেরে গেলেন গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি ঢাকার পাশে রূপগঞ্জ: উন্নয়নের সম্ভাবনা ও নাগরিক চ্যালেঞ্জের সন্ধিক্ষণে সংবিধান সংশোধনে সরকারের পথে আপত্তি জামায়াতের, রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি প্যারিসে ব্যাংক অব আমেরিকায় হামলার নেপথ্যে ইরানপন্থি নেটওয়ার্ক ধ্রুব রাঠি: ইউটিউবের জনপ্রিয় মুখ থেকে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় তরুণ

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ ট্রাম্প, ৮২ শতাংশ মার্কিনি অসন্তুষ্ট

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আসন্ন নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির প্রতি ১০ জন নাগরিকের মধ্যে আটজনই নিত্যপণ্যের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আধুনিক মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এ ধরনের নজিরবিহীন জনরোষ একেবারেই বিরল।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এপি-এনওআরসি-এর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ৮২ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পের ওপর অনাস্থা জানিয়েছেন, বিপরীতে সমর্থন দিয়েছেন মাত্র ১৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের চরম মেরুকৃত রাজনীতিতে যেকোনো বিষয়ে ৭০ শতাংশ মানুষের একমত হওয়াই যেখানে কঠিন, সেখানে মুদ্রাস্ফীতির মতো জাতীয় বিষয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ একাট্টা হয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধাচরণ করছেন। এর আগে রয়টার্স-ইপসোস এবং মারকেট ল স্কুলের জরিপেও দেখা যায়, জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ট্রাম্পের পক্ষে অনুমোদন নেমে এসেছে মাত্র ১৭ থেকে ১৯ শতাংশে। এমনকি রিপাবলিকান দলের সমর্থকদের মধ্যেও অন্তত ৫০ শতাংশ এবং নিজেকে ‘মাগা’ সমর্থক দাবি করা কট্টর রিপাবলিকানদের ২৯ শতাংশ ট্রাম্পের এই ব্যর্থতায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশটির অতীতের বহু অজনপ্রিয় যুদ্ধ বা রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির চেয়েও ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পদক্ষেপে জনরোষের মাত্রা বেশি। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার সময় প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের বিরুদ্ধে ৭৭ শতাংশ এবং ১৯৮০ সালে জিমি কার্টারের উচ্চ বেকারত্ব নিয়ে অসন্তোষ ছিল ৭৪ শতাংশ। এমনকি ভিয়েতনাম যুদ্ধ, বুশের ইরাক যুদ্ধ বা প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির চরম মুহূর্তেও এমন মাত্রার বিরূপ জনমত দেখা যায়নি।

এদিকে টাইম ম্যাগাজিনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সাধারণ মানুষকে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য তাঁকে দায়ী না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং পূর্বসূরি বাইডেন প্রশাসনের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তবে জরিপের তথ্য বলছে, ট্রাম্পের এ কৌশল কাজে আসছে না। এপি-এনওআরসির তথ্যমতে, ৬৫ শতাংশ মার্কিনি বর্তমান চড়া মূল্যের জন্য ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকেই দায়ী করছেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া রিপাবলিকানদের জন্য জনগণের এই বিপুল অর্থনৈতিক হতাশা এখন অস্তিত্বের সংকটে রূপ নিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ ট্রাম্প, ৮২ শতাংশ মার্কিনি অসন্তুষ্ট

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

আসন্ন নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির প্রতি ১০ জন নাগরিকের মধ্যে আটজনই নিত্যপণ্যের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আধুনিক মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এ ধরনের নজিরবিহীন জনরোষ একেবারেই বিরল।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এপি-এনওআরসি-এর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ৮২ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পের ওপর অনাস্থা জানিয়েছেন, বিপরীতে সমর্থন দিয়েছেন মাত্র ১৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের চরম মেরুকৃত রাজনীতিতে যেকোনো বিষয়ে ৭০ শতাংশ মানুষের একমত হওয়াই যেখানে কঠিন, সেখানে মুদ্রাস্ফীতির মতো জাতীয় বিষয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ একাট্টা হয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধাচরণ করছেন। এর আগে রয়টার্স-ইপসোস এবং মারকেট ল স্কুলের জরিপেও দেখা যায়, জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ট্রাম্পের পক্ষে অনুমোদন নেমে এসেছে মাত্র ১৭ থেকে ১৯ শতাংশে। এমনকি রিপাবলিকান দলের সমর্থকদের মধ্যেও অন্তত ৫০ শতাংশ এবং নিজেকে ‘মাগা’ সমর্থক দাবি করা কট্টর রিপাবলিকানদের ২৯ শতাংশ ট্রাম্পের এই ব্যর্থতায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশটির অতীতের বহু অজনপ্রিয় যুদ্ধ বা রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির চেয়েও ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পদক্ষেপে জনরোষের মাত্রা বেশি। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার সময় প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের বিরুদ্ধে ৭৭ শতাংশ এবং ১৯৮০ সালে জিমি কার্টারের উচ্চ বেকারত্ব নিয়ে অসন্তোষ ছিল ৭৪ শতাংশ। এমনকি ভিয়েতনাম যুদ্ধ, বুশের ইরাক যুদ্ধ বা প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির চরম মুহূর্তেও এমন মাত্রার বিরূপ জনমত দেখা যায়নি।

এদিকে টাইম ম্যাগাজিনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সাধারণ মানুষকে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য তাঁকে দায়ী না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং পূর্বসূরি বাইডেন প্রশাসনের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তবে জরিপের তথ্য বলছে, ট্রাম্পের এ কৌশল কাজে আসছে না। এপি-এনওআরসির তথ্যমতে, ৬৫ শতাংশ মার্কিনি বর্তমান চড়া মূল্যের জন্য ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকেই দায়ী করছেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া রিপাবলিকানদের জন্য জনগণের এই বিপুল অর্থনৈতিক হতাশা এখন অস্তিত্বের সংকটে রূপ নিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin