ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে দুই দফা হামলায় নিহত ৩ দুর্গাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে পরিচিত মুখ শামীম আহমেদ দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যের উপনির্বাচনে হেরে গেলেন গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি ঢাকার পাশে রূপগঞ্জ: উন্নয়নের সম্ভাবনা ও নাগরিক চ্যালেঞ্জের সন্ধিক্ষণে সংবিধান সংশোধনে সরকারের পথে আপত্তি জামায়াতের, রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি প্যারিসে ব্যাংক অব আমেরিকায় হামলার নেপথ্যে ইরানপন্থি নেটওয়ার্ক ধ্রুব রাঠি: ইউটিউবের জনপ্রিয় মুখ থেকে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় তরুণ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৬৬ রানে আটকে গেল বাংলাদেশ নারী দল খুলনায় ছিনতাইকারীদের চাপাতির কোপে জখম পুলিশ কর্মকর্তা

প্যারিসে ব্যাংক অব আমেরিকায় হামলার নেপথ্যে ইরানপন্থি নেটওয়ার্ক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকার কার্যালয়ে গত মার্চ মাসে সংঘটিত ব্যর্থ বোমা হামলার ঘটনায় নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। সংস্থাটির তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই হামলাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং এর পেছনে ইরানপন্থি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিস্তৃত নেটওয়ার্কের যোগসূত্র রয়েছে। ২৯ জুলাই একটি বিচারিক অনুরোধের মাধ্যমে এফবিআই এই তদন্তের তথ্য ফরাসি সন্ত্রাসবিরোধী বিচারকদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

তদন্ত অনুযায়ী, এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ইরাকি নাগরিক মোহাম্মদ এ.-এস.-কে শনাক্ত করা হয়েছে, যাকে মে মাসে তুরস্কে গ্রেপ্তার করা হয়। এফবিআইয়ের তথ্যমতে, মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের লক্ষ্যবস্তুতে ১৮টি হামলা বা হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, এই ব্যক্তি ইরাকভিত্তিক শিয়া সশস্ত্র সংগঠন কাতায়েব হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুক্ত, যাদের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে ফরাসি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সরাসরি ইরান সরকারকে এই হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে চিহ্নিত করার মতো কোনো তথ্য পায়নি; তাদের মনোযোগ মূলত ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও তাদের মধ্যস্থতাকারীদের ওপর কেন্দ্রীভূত।

ঘটনার সূত্রপাত ২৭ থেকে ২৮ মার্চের রাতে, যখন প্যারিসের অষ্টম অ্যারোন্ডিসমেন্টে ব্যাংক অব আমেরিকার কার্যালয়ের সামনে দুই কিশোর একটি হাতে তৈরি শক্তিশালী বিস্ফোরক সক্রিয় করার চেষ্টা করে। পুলিশের টহলদল তাদের আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই কিশোররা জানায়, তারা একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কয়েকশ ইউরোর বিনিময়ে এই কাজে নিয়োজিত হয়েছিল এবং তারা যে একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অংশ, সে সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তদন্তে হারাকাত আশাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া (এইচএওয়াইআই) নামের একটি সংগঠনের নামও উঠে এসেছে, যা কাতায়েব হিজবুল্লাহর একটি ফ্রন্ট সংগঠন হিসেবে কাজ করে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের মতে, হামলাকারীরা স্থানীয় অপরাধজগতের লোকজনকে, বিশেষ করে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহারের কৌশল নিয়েছিল, যাতে মূল পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় আড়াল করা যায়। এফবিআইয়ের সূত্রের মাধ্যমে পাওয়া সন্দেহভাজন মোহাম্মদ এ.-এস.-এর কথোপকথনের রেকর্ড এবং মার্কিন এক গোপন এজেন্টের সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য এই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ওই এজেন্ট মেক্সিকোর অপরাধী চক্রের সদস্য সেজে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ ছাড়াও, জুলাই ও আগস্ট মাসে বেলজিয়াম থেকে বিস্ফোরক পরিবহনের অভিযোগে দুই বেলজিয়ান নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন সন্দেহভাজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

প্যারিসে ব্যাংক অব আমেরিকায় হামলার নেপথ্যে ইরানপন্থি নেটওয়ার্ক

আপডেট সময় : ০১:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকার কার্যালয়ে গত মার্চ মাসে সংঘটিত ব্যর্থ বোমা হামলার ঘটনায় নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। সংস্থাটির তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই হামলাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং এর পেছনে ইরানপন্থি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিস্তৃত নেটওয়ার্কের যোগসূত্র রয়েছে। ২৯ জুলাই একটি বিচারিক অনুরোধের মাধ্যমে এফবিআই এই তদন্তের তথ্য ফরাসি সন্ত্রাসবিরোধী বিচারকদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

তদন্ত অনুযায়ী, এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ইরাকি নাগরিক মোহাম্মদ এ.-এস.-কে শনাক্ত করা হয়েছে, যাকে মে মাসে তুরস্কে গ্রেপ্তার করা হয়। এফবিআইয়ের তথ্যমতে, মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের লক্ষ্যবস্তুতে ১৮টি হামলা বা হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, এই ব্যক্তি ইরাকভিত্তিক শিয়া সশস্ত্র সংগঠন কাতায়েব হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুক্ত, যাদের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে ফরাসি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সরাসরি ইরান সরকারকে এই হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে চিহ্নিত করার মতো কোনো তথ্য পায়নি; তাদের মনোযোগ মূলত ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও তাদের মধ্যস্থতাকারীদের ওপর কেন্দ্রীভূত।

ঘটনার সূত্রপাত ২৭ থেকে ২৮ মার্চের রাতে, যখন প্যারিসের অষ্টম অ্যারোন্ডিসমেন্টে ব্যাংক অব আমেরিকার কার্যালয়ের সামনে দুই কিশোর একটি হাতে তৈরি শক্তিশালী বিস্ফোরক সক্রিয় করার চেষ্টা করে। পুলিশের টহলদল তাদের আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই কিশোররা জানায়, তারা একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কয়েকশ ইউরোর বিনিময়ে এই কাজে নিয়োজিত হয়েছিল এবং তারা যে একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অংশ, সে সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তদন্তে হারাকাত আশাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া (এইচএওয়াইআই) নামের একটি সংগঠনের নামও উঠে এসেছে, যা কাতায়েব হিজবুল্লাহর একটি ফ্রন্ট সংগঠন হিসেবে কাজ করে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের মতে, হামলাকারীরা স্থানীয় অপরাধজগতের লোকজনকে, বিশেষ করে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহারের কৌশল নিয়েছিল, যাতে মূল পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় আড়াল করা যায়। এফবিআইয়ের সূত্রের মাধ্যমে পাওয়া সন্দেহভাজন মোহাম্মদ এ.-এস.-এর কথোপকথনের রেকর্ড এবং মার্কিন এক গোপন এজেন্টের সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য এই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ওই এজেন্ট মেক্সিকোর অপরাধী চক্রের সদস্য সেজে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ ছাড়াও, জুলাই ও আগস্ট মাসে বেলজিয়াম থেকে বিস্ফোরক পরিবহনের অভিযোগে দুই বেলজিয়ান নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন সন্দেহভাজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin