ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌন্দর্যের ভেতর ইতিহাসের শরীর: হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের তুলনামূলক পাঠ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে: এস এম জিলানী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বনশ্রীতে কুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে তরুণীকে মারধর, থানায় অভিযোগ ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফা হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩৬:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় দফার লংমার্চ সম্পন্ন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির বিভিন্ন পথসভা ও সমাপনী সমাবেশে সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রথম দফায় ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পর আজ দ্বিতীয় দফার লংমার্চ দেখে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। তিনি সরকারকে মাথা গরম না করে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় আট দফা দাবি যেকোনো সময় ৯-১০ দফা কিংবা এক দফায় রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আন্দোলন যখন এক দফায় ঠেকবে, তখন পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে এবং কোনো চক্রান্তই আর কাজে আসবে না।

লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শুরু হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আট দফা দাবি কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের দাবি। লড়াই শুরু হয়েছে এবং দাবি আদায় না করে তারা ঘরে ফিরবেন না। সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্ধারণ করতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন—হাসিনার মতো হেলিকপ্টারে চড়ে নাকি সম্মানের সঙ্গে। বিভিন্ন স্থানে লংমার্চের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, এসব করে গণজোয়ার ঠেকানো যাবে না।

উদ্বোধনী সমাবেশে এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অভিযোগ করেন, দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিএনপিকর্মীদের ঘরে ঘরে হাহাকার শুরু হয়েছে। তিনি বর্তমান সরকারকে 'হাসিনার সরকার' বলে অভিহিত করেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে বলেন, তা না হলে ইতিহাস তাদের বিশ্বাসঘতক হিসেবে চিহ্নিত করবে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার যে প্রতারণা করেছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতেই এই লংমার্চ। ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র সাত মাসের মাথায় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্বাগত বক্তব্যে ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সকাল ৮টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করার পর তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, উত্তরা ও টঙ্গী এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ ফুল ও স্লোগান দিয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান। সকাল সাড়ে ৯টায় গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সেখানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই লংমার্চ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার লড়াই। এ সময় কর্নেল অলি আহমদ ও মামুনুল হকও বক্তব্য দেন। এরপর বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাসে দ্বিতীয় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নতুন কোনো স্বৈরাচারের জন্য দেশের মানুষ জীবন দেয়নি, সব দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।

লংমার্চের বহর সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকায় পৌঁছালে সেখানে প্রখর রোদ উপেক্ষা করে তৃতীয় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা জামায়াতের আমির শাহীনুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ডা. শফিকুর রহমান আগামীতে ঢাকায় লংমার্চ করার ঘোষণা দেন। তবে এই লংমার্চে অংশ নিতে যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকায় জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি জানান, সয়দাবাদ এলাকায় গাড়িবহর অতিক্রম করার পর জোহরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়া জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর ও নুরুন্নবীকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় আব্দুস সবুরকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

বিকাল ৪টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে লংমার্চের পথসভাটি বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সেখানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করত তবে এই লংমার্চ করতে হতো না। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিভিন্ন স্থানে নিজেদের ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের বসিয়ে জনগণকে শোষণ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জাতিকে নিরাপত্তা দিন এবং বাংলাদেশকে বাঁচতে দিন। একই সভায় নাহিদ ইসলাম বগুড়াবাসীকে আগামী দিনের গণঅভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। এরপর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথায় শেষ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সন্ধ্যায় রংপুরের ঐতিহাসিক জিলা স্কুল মাঠে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে লাখো মানুষের ঢল নামে। ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত দীর্ঘ পথজুড়ে ছিল ভ্রাম্যমাণ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। খোলা ট্রাকে শিল্পীরা দেশাত্মবোধক ও ইসলামি সংগীত পরিবেশন করেন। পুরো কর্মসূচিতে পুরুষ কর্মীদের পাশাপাশি নারী কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও ছিল ইতিবাচক।

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১: ৩৭আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১: ৪৩

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফা হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ০২:৩৬:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় দফার লংমার্চ সম্পন্ন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির বিভিন্ন পথসভা ও সমাপনী সমাবেশে সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রথম দফায় ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পর আজ দ্বিতীয় দফার লংমার্চ দেখে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। তিনি সরকারকে মাথা গরম না করে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় আট দফা দাবি যেকোনো সময় ৯-১০ দফা কিংবা এক দফায় রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আন্দোলন যখন এক দফায় ঠেকবে, তখন পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে এবং কোনো চক্রান্তই আর কাজে আসবে না।

লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শুরু হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আট দফা দাবি কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের দাবি। লড়াই শুরু হয়েছে এবং দাবি আদায় না করে তারা ঘরে ফিরবেন না। সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্ধারণ করতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন—হাসিনার মতো হেলিকপ্টারে চড়ে নাকি সম্মানের সঙ্গে। বিভিন্ন স্থানে লংমার্চের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, এসব করে গণজোয়ার ঠেকানো যাবে না।

উদ্বোধনী সমাবেশে এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অভিযোগ করেন, দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিএনপিকর্মীদের ঘরে ঘরে হাহাকার শুরু হয়েছে। তিনি বর্তমান সরকারকে 'হাসিনার সরকার' বলে অভিহিত করেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে বলেন, তা না হলে ইতিহাস তাদের বিশ্বাসঘতক হিসেবে চিহ্নিত করবে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার যে প্রতারণা করেছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতেই এই লংমার্চ। ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র সাত মাসের মাথায় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্বাগত বক্তব্যে ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সকাল ৮টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করার পর তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, উত্তরা ও টঙ্গী এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ ফুল ও স্লোগান দিয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান। সকাল সাড়ে ৯টায় গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সেখানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই লংমার্চ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার লড়াই। এ সময় কর্নেল অলি আহমদ ও মামুনুল হকও বক্তব্য দেন। এরপর বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাসে দ্বিতীয় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নতুন কোনো স্বৈরাচারের জন্য দেশের মানুষ জীবন দেয়নি, সব দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।

লংমার্চের বহর সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকায় পৌঁছালে সেখানে প্রখর রোদ উপেক্ষা করে তৃতীয় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা জামায়াতের আমির শাহীনুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ডা. শফিকুর রহমান আগামীতে ঢাকায় লংমার্চ করার ঘোষণা দেন। তবে এই লংমার্চে অংশ নিতে যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকায় জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি জানান, সয়দাবাদ এলাকায় গাড়িবহর অতিক্রম করার পর জোহরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়া জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর ও নুরুন্নবীকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় আব্দুস সবুরকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

বিকাল ৪টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে লংমার্চের পথসভাটি বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সেখানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করত তবে এই লংমার্চ করতে হতো না। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিভিন্ন স্থানে নিজেদের ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের বসিয়ে জনগণকে শোষণ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জাতিকে নিরাপত্তা দিন এবং বাংলাদেশকে বাঁচতে দিন। একই সভায় নাহিদ ইসলাম বগুড়াবাসীকে আগামী দিনের গণঅভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। এরপর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথায় শেষ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সন্ধ্যায় রংপুরের ঐতিহাসিক জিলা স্কুল মাঠে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে লাখো মানুষের ঢল নামে। ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত দীর্ঘ পথজুড়ে ছিল ভ্রাম্যমাণ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। খোলা ট্রাকে শিল্পীরা দেশাত্মবোধক ও ইসলামি সংগীত পরিবেশন করেন। পুরো কর্মসূচিতে পুরুষ কর্মীদের পাশাপাশি নারী কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও ছিল ইতিবাচক।

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১: ৩৭আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১: ৪৩

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh