মেট্রোরেলের ৪৬ পিয়ারে ফাটল, সংস্কারে বুয়েটকে নিয়োগের ঘোষণা
- আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, মেট্রোরেল রুটের ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রায় ফাটল বা ক্র্যাক চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া রুটের ২৭টি বেয়ারিং প্যাডকে 'ক্রিটিক্যাল' হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
সেফটি অডিট কমিটির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মন্ত্রী জানান, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটের ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাডের মধ্যে সবকটি ঝুঁকিপূর্ণ নয়। এর মধ্যে ১৪৭টি প্যাডের ত্রুটি 'মাইনর' বা সাধারণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ২৯৭টি প্যাডের ত্রুটি মূলত স্থাপনা বা ওয়ার্কম্যানশিপ–সংক্রান্ত। তবে ২৭টি প্যাডকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অডিট কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বেয়ারিং প্যাডের স্থানচ্যুতির ঝুঁকি এড়াতে ১০টি ক্ষেত্রে স্টিল ব্র্যাকেট বসানো হয়েছে এবং ২৭টি প্যাডের ক্ষেত্রে সেটেলমেন্ট মার্কার স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ২৭টি ক্রিটিক্যাল বেয়ারিং প্যাড প্রতিস্থাপনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
পিয়ারের ফাটল প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ৪৬টি পিয়ারের ঝুঁকি নিরূপণ ও মেরামতের কৌশল নির্ধারণের জন্য বুয়েটকে স্ট্রাকচারাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ফাটল পর্যবেক্ষণের জন্য ১০২টি স্থানে ‘স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ’ বসানো হচ্ছে।
নারীদের জন্য বাস সার্ভিস সম্প্রসারণের বিষয়ে শওকত আরা আক্তারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রাম শহরে ১৩টি রুটে ১৪টি মহিলা বাস (পিংক বাস) সার্ভিস চলছে। সারা দেশে এই সেবা বাড়াতে আরও ১০০টি ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) আমদানির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সানজিদা ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিআরটিসির বহরে মোট ১ হাজার ২৯৮টি বাস ও ৫২৫টি ট্রাক রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৭২টি বাস ও ৪৯৪টি ট্রাক সচল রয়েছে। অচল অবস্থায় আছে ১২৬টি বাস ও ৩১টি ট্রাক।
সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগের সম্ভাবনাগুলো নানা কারণে যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা যায়নি। তবে বর্তমান সরকার এটিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক ও পর্যটন উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। টানেল নির্মাণে ১০ হাজার ২৫৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে এবং এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে।
আবদুল রাবী সরদারের প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী জানান, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ অনুমোদিত নয় এবং এটি বন্ধে কারিগরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের পরিবারের জন্য রেলওয়ের আইনে ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে। এছাড়া নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানান, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তা বন্ধ করা হচ্ছে।




























