ঢাকা ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

কোম্পানি বন্ধ করে অর্থনীতি চালানো সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জাতীয় সংসদে রোববার এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিলামে না তুলে নতুন করে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, কোনো কোম্পানি বন্ধ করে দিয়ে দেশের অর্থনীতি চালানো যায় না। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, অর্থনীতি আবেগের ওপর চলে না, বরং এটি আইনের ওপর ভিত্তি করে চলতে হয়।

এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ তার সম্পূরক প্রশ্নে এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ এবং এসএস পাওয়ারকে ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ ডলারের এলসি খোলার অনুমতি দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানতে চান, সরকার এসব প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করছে কি না। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যক্তির পরিচয় ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ভিন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংক আইন ভঙ্গ করে কাউকে ঋণ দিচ্ছে না এবং যেখানে পুনঃ তফসিলের সুযোগ আছে, সেখানে আইনের আওতায় তা করতে দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, যারা আইনের শর্ত পূরণ করতে পারবে না, তারা সুবিধা পাবে না। তবে যারা ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত, তাদের বিচার চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি থাকলে তার বিচার হবে, প্রয়োজনে কারাদণ্ড বা ফাঁসিও হতে পারে, কিন্তু কোম্পানি একটি আইনি সত্তা হওয়ায় তার কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। তিনি বলেন, কোম্পানিতে কর্মরত মানুষের কর্মসংস্থান, কোম্পানির দায়বদ্ধতা ও অর্থনীতিতে তাদের অবদানের বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়।

একই দিনে অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রমালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের তথ্য তুলে ধরেন। ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, সোনালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি, যার পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ, সোনালী ব্যাংকের ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ, বেসিক ব্যাংকের ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের বিষয়ে কুষ্টিয়া-১ আসনের রেজা আহাম্মেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। জনগণের মাথাপিছু ঋণের বোঝা কমানোর লক্ষ্যে সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানি বা অন্যান্য খাতে সব ধরনের ভর্তুকি একযোগে প্রত্যাহারের কোনো নীতি গ্রহণ করেনি। সংরক্ষিত আসনের মোসা. ফরিদা ইয়াসমিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চোরাচালানিদের কাছ থেকে ২ হাজার ৫১৮ কেজি ৬৬৮ গ্রাম স্বর্ণ ও ৩৭৭ কেজি ৩৪৮ গ্রাম রৌপ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

কোম্পানি বন্ধ করে অর্থনীতি চালানো সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:২৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় সংসদে রোববার এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিলামে না তুলে নতুন করে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, কোনো কোম্পানি বন্ধ করে দিয়ে দেশের অর্থনীতি চালানো যায় না। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, অর্থনীতি আবেগের ওপর চলে না, বরং এটি আইনের ওপর ভিত্তি করে চলতে হয়।

এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ তার সম্পূরক প্রশ্নে এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ এবং এসএস পাওয়ারকে ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ ডলারের এলসি খোলার অনুমতি দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানতে চান, সরকার এসব প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করছে কি না। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যক্তির পরিচয় ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ভিন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংক আইন ভঙ্গ করে কাউকে ঋণ দিচ্ছে না এবং যেখানে পুনঃ তফসিলের সুযোগ আছে, সেখানে আইনের আওতায় তা করতে দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, যারা আইনের শর্ত পূরণ করতে পারবে না, তারা সুবিধা পাবে না। তবে যারা ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত, তাদের বিচার চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি থাকলে তার বিচার হবে, প্রয়োজনে কারাদণ্ড বা ফাঁসিও হতে পারে, কিন্তু কোম্পানি একটি আইনি সত্তা হওয়ায় তার কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। তিনি বলেন, কোম্পানিতে কর্মরত মানুষের কর্মসংস্থান, কোম্পানির দায়বদ্ধতা ও অর্থনীতিতে তাদের অবদানের বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়।

একই দিনে অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রমালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের তথ্য তুলে ধরেন। ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, সোনালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি, যার পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ, সোনালী ব্যাংকের ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ, বেসিক ব্যাংকের ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের বিষয়ে কুষ্টিয়া-১ আসনের রেজা আহাম্মেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। জনগণের মাথাপিছু ঋণের বোঝা কমানোর লক্ষ্যে সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানি বা অন্যান্য খাতে সব ধরনের ভর্তুকি একযোগে প্রত্যাহারের কোনো নীতি গ্রহণ করেনি। সংরক্ষিত আসনের মোসা. ফরিদা ইয়াসমিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চোরাচালানিদের কাছ থেকে ২ হাজার ৫১৮ কেজি ৬৬৮ গ্রাম স্বর্ণ ও ৩৭৭ কেজি ৩৪৮ গ্রাম রৌপ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo