উন্নয়নকাজে বাধা ও হামলার অভিযোগ জামায়াত এমপি আব্দুল বাতেনের
- আপডেট সময় : ০৫:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-১৬ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে পরাজিত প্রার্থীর দল বিএনপির সমর্থকরা বাধা প্রদান ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ওই আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন। মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুরের ফুডভ্যালি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি বিহারি ক্যাম্পে মৃতদেহ গোসলখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে সেখানে বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনে এমপি বাতেন বলেন, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বিহারি ক্যাম্পের নেতাদের অনুরোধে মৃত ব্যক্তিদের গোসলের সুবিধার্থে ময়লা ফেলার একটি জায়গা পরিষ্কার করে সেখানে গোসলখানা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ব্যক্তিগত আর্থিক সহায়তায় দেয়াল নির্মাণের সময় সরকারি দলের সমর্থক কয়েকজন সেখানে পানির পাম্প বসাতে চাইলে এলাকাবাসী তার বিরোধিতা করেন, কারণ পাশেই পানির পাম্প বিদ্যমান ছিল। গত ২৯ আগস্ট সরকারি দলের লোকেরা উসকানি দিলে তিনটি মোটরসাইকেলে বিএনপির কর্মীরা এসে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দারা শক্ত অবস্থান নিলে বিএনপির অস্ত্রধারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনায় প্রায় ২৫-৩০ জন আহত হন এবং নির্মাণাধীন স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এমপি আব্দুল বাতেন অভিযোগ করেন, হামলার সময় পুলিশ সেখানে উপস্থিত থাকলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো আহতরা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের দুটি মামলায় বিহারি নেতাকে আটক করা হয় এবং আহত সাধারণ বিহারি ও স্থানীয় জামায়াত নেতাদের নাম জড়ানো হয়েছে। তিনি প্রশাসন ও সরকারি দলের এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সরকারি বা অন্য কোনো অনুদানের টাকায় উন্নয়নকাজ করতে গেলে তাকে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্যমতে, পরাজিত প্রার্থী একজন প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় তিনি পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না এবং তাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে রূপনগরে মসজিদে থাকা অবস্থায় তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।
এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে এমপি চারটি দাবি উত্থাপন করেন: বাংলাদেশী বিহারি পুনর্বাসন সংসদের সভাপতি নেওয়াজ আহমেদ খানকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা, সহিংসতায় জড়িত প্রকৃত অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রশাসনের পেশাদার ভূমিকা নিশ্চিত করা। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পল্লবী মধ্য থানা আমির রইসুল ইসলাম, উত্তর থানা আমির সাইফুল কাদের ও সেক্রেটারি জুবায়ের আহমেদ রাজনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ০১আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ২৫





























