ফ্যাসিবাদী হাসিনার মতো গুমের সংস্কৃতি চালু করবো না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০২:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার মতো ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে গুমের সংস্কৃতি চালু করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এমন কাজ এ দেশে আর কাউকে করতে দেওয়া হবে না। রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দায়িত্ব পালন করছি মাত্র, ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে আসিনি। তিনি বলেন, পাশে জুলাই যাদুঘর রয়েছে। যারা শাসন ক্ষমতায় আসবেন, তাদের বলব সেখান থেকে ঘুরে আসতে। ফ্যাসিবাদী আচরণ করলে কী পরিণতি হয়, তা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্ত যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রত্যাশা তৈরি করেছে, সেই ধারায় সরকার কাজ করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, এই জাতির প্রত্যাশা অনেক, হয়তো পাঁচ বছরে সব পূরণ করা সম্ভব হবে না। তবে এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। পরবর্তী সরকারগুলো জনচাহিদা অনুযায়ী আইন সংশোধন ও পরিবর্তন করবে। বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওয়াকআউট কোনো সমাধান নয়। সংসদে বিল উত্থাপনের সময় বক্তৃতার মাধ্যমে বা স্থায়ী কমিটিতে আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর নিয়ম রয়েছে।
নিজেও গুমের শিকার হওয়া সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তথ্যানুযায়ী প্রায় ১৪০০ শহীদের তালিকা পাওয়া গেছে, তবে বিভিন্ন হাসপাতাল ও মিডিয়ার রেকর্ড অনুযায়ী এই সংখ্যা ২০০০ ছাড়িয়ে যাবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্বজনরা কবরের সন্ধান চাইলেও আমরা তা দিতে পারি না, কারণ লাশ গুম ও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং হাসপাতালের রেকর্ডও ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই; উল্টো তারা জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের জঙ্গিবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করছে।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগে গুম কমিশন গঠন করা হলেও ভুক্তভোগীরা সরাসরি আদালতে যেতে পারতেন না। বর্তমানে আইসিটি অ্যাক্টের বিধান অনুযায়ী ‘ওয়াইড স্প্রেড সিস্টেমেটিক এনফোর্স ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’-এর অভিযোগে সরাসরি আইসিটি কোর্টে যাওয়া সম্ভব, যেখানে যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তিনি নিজেও এমন একটি মামলার বাদী হয়েছেন এবং তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।




























