মন্ত্রিপরিষদে রদবদলের দাবি জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্যের
- আপডেট সময় : ১০:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্য দাবি করেছে যে, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ছয় মাসে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে মন্ত্রিপরিষদে বড় ধরনের রদবদল আনা প্রয়োজন বলে মনে করছে জোটটি। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে এই অভিমত তুলে ধরেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান মন্ত্রিপরিষদের পরিকল্পনা ও হোমওয়ার্ক যথাযথ ছিল না, যার ফলে ছয় মাসের মাথায়ই মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, বেশির ভাগ মন্ত্রীই তাদের কার্যক্রমে ব্যর্থ হবেন। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মোটেও উন্নতি হয়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা অন্তর্বর্তী সরকার বা বিপ্লব-পরবর্তী সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দল প্রয়োজনে সরকারকে নীতিগতভাবে সহায়তা করতে প্রস্তুত আছে।
সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে ১৮০ দিনে জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে এবং জনআস্থা তলানিতে নেমেছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, লোডশেডিং বেড়েছে, সারের সংকট ও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক শ কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সরকারের উচিত ব্যর্থতা স্বীকার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং বিরোধী দলের কাছে সহায়তা কামনা করা। এছাড়া তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া অঙ্গীকার পূরণ ও সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে জনগণকে কোনো সুস্পষ্ট বার্তা দিতে পারছে না। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে আওয়ামী লীগের প্রেস ব্রিফিং এবং সীমান্ত হত্যা, গঙ্গা চুক্তি ও পানি বণ্টন নিয়ে নতুন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের দাবি জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনার বিচার এবং ওসমান হাদির খুনিদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর জাতির জন্য কল্যাণকর হবে না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে গোপন ব্যালটে ভোটের ব্যবস্থা না করলে এই নির্বাচন প্রহসনের শামিল।
সংবাদ সম্মেলনে ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ লংমার্চ ও সমাবেশের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হবে। এছাড়া ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরমুখী লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। খুলনামুখী লংমার্চ পূর্বঘোষিত ১০ অক্টোবরের পরিবর্তে ৩১ অক্টোবর এবং সিলেটমুখী লংমার্চ ২৪ অক্টোবরের পরিবর্তে ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান। এছাড়া ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা থাকলেও সেটি ওই তারিখে হচ্ছে না। বিভাগভিত্তিক লংমার্চের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।





























