ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করার আহ্বান মাহদী আমিনের
- আপডেট সময় : ০৩:২০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এই আহ্বান জানান।
মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমেই এই অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল। সেই সময় থেকে গণতন্ত্রকামী প্রতিটি শক্তির একমাত্র পরিচয় হয়ে উঠেছিল যে তারা বাংলাদেশের পক্ষে। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে তখন 'ফ্যাসিবাদ বনাম বাংলাদেশ' এক নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে ঐক্যের মাঝে এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দূরত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে ইতিবাচক সমালোচনা বা তর্ক-বিতর্ক থাকতে পারে, তবে অশালীন আচরণ পরিহার করে প্রজ্ঞা ও ইতিবাচকতার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা সম্ভব। ভিন্নমতকে ধারণ করেই জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যারা আত্মনিয়োগ করেছিলেন, সেই মুক্তিকামী জনগণের কাছে ৫ আগস্ট এক অবিস্মরণীয় বিজয়ের দিন এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে, আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনবদ্য অধ্যায়ের সূচনা করে।
মাহদী আমিন বলেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের রক্তে রঞ্জিত এই দিন আজ জাতীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে অনিঃশেষ সংগ্রাম করে এসেছে এবং ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের অন্যতম অগ্রযাত্রী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় নেতৃত্ব, সাহস এবং দিকনির্দেশনা আন্দোলনকে শক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত শক্তি ছিল বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ। সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক, আইনজীবী-সাংবাদিকসহ সকল পেশাজীবী মানুষ, কৃষক, পোশাকশ্রমিক থেকে শুরু করে সকল শ্রমজীবী মানুষ, গণতান্ত্রিক সকল রাজনৈতিক দলসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ দল-মত-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে গণঅভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যেখানে নারী ও প্রবাসীদেরও ছিল ব্যাপক ও তাৎপর্যপূর্ণ অংশগ্রহণ।
মাহদী আমিন বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। শত-শত মানুষ স্থায়ীভাবে অঙ্গহানি ও দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এখনো অনেক পরিবার তাদের স্বজন খুঁজে বেড়াচ্ছেন, এখনো আমাদের অনেক সহযোদ্ধা হাসপাতালে কিংবা বাড়িতে আঘাতের ব্যথা নিয়ে কাতরাচ্ছেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে অনিঃশেষ সংগ্রাম করে এসেছে এবং ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের অন্যতম অগ্রযাত্রী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য যদি কেউ প্রতিযোগিতায় নামে, তা ক্রমেই আমাদের পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। আমরা দেখেছি, একটি রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধকে একক অর্জন হিসেবে কুক্ষিগত করতে গিয়ে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। সেই শিক্ষাকে পাথেয় করে, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে দেশ এগিয়ে যাবে, জুলাইকে হৃদয়ে ধারণ করব।
মাহদী আমিন আরও বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা নির্বাচিত বিএনপি সরকারের লক্ষ্য। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে আন্তরিকভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিন্তা, রূপকল্প ও দেশ পুনর্গঠন কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ এবং সংবিধান সংস্কারের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণের অদম্য ঐক্যের মুখে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট অপশক্তির পতন ঘটে। রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রগুলো থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরেরা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশে সূচিত হয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন অধ্যায়। ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়; এই অভ্যুত্থানের প্রকৃত নায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ। জুলাই আমাদের সবার। অথচ জুলাইয়ের কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য যদি কেউ প্রতিযোগিতায় নামে, তা ক্রমেই আমাদের পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। আমরা দেখেছি, একটি রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধকে একক অর্জন হিসেবে কুক্ষিগত করতে গিয়ে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। সেই শিক্ষাকে পাথেয় করে, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে দেশ এগিয়ে যাবে, জুলাইকে হৃদয়ে ধারণ করব। আমাদের জাতীয় জীবনে যে সংগ্রাম ও লড়াইয়ের ইতিহাসগুলো আছে, তা চির অমলিন হয়ে থাকবে।
জনগণ যেমন ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ভুলেনি, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও কখনো ভুলবে না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বারবার ১৯৭১ আসবে না, বারবার ২০২৪ সালের জুলাইও আসবে না। আমরা চাইও না, এমন রক্তাক্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আর হোক, যেখানে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য হাজারো মায়ের বুক খালি হবে। কিন্তু একাত্তর, চব্বিশের পাশাপাশি নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ সকল সংগ্রামকে ধারণ করে জাতি আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ নির্ণয় করবে। ফ্যাসিবাদের প্রথম পনেরো বছর ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হামলা-মামলার শিকার যে দল, সেই বিএনপি আজ রাষ্ট্র পরিচালনায়। আর তাই বিগত সময়ের মানবাধিকার লংঘনের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে, ইনশাআল্লাহ।


























