সরকারের সাথে আলোচনা ব্যর্থ, ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের লংমার্চ শুরু
- আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পূর্বঘোষিত ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। রোববার (৪ অক্টোবর) দলটির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর ফলে পাকিস্তানজুড়ে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৪টায় দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পিটিআই নেতাদের বৈঠক শুরু হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কোনো সমঝোতা ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়। বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় সিনেট নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস জানান, আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং কারাবন্দি ইমরান খানের সঙ্গে পিটিআই প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের বিষয়টিও সমাধান করা যায়নি।
সরকারের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিতে না পারায় মূলত এই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল, কোনো রাজনৈতিক ছাড় বা আলোচনার আগে ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ প্রত্যাহার করতে হবে। তবে পিটিআই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কর্মসূচি প্রত্যাহারের আগে তাদের প্রতিনিধিদের অবশ্যই ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি জানিয়েছেন, পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আজ রোববার থেকেই তাদের লংমার্চ শুরু হচ্ছে। লাক্কি মারওয়াতের গান্দি চৌক থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলটি ট্যাংক, ডেরা ইসমাইল খান, বান্নু, কারাক, কোহাট, পেশোয়ার ও চারসাদ্দা হয়ে আগামী ৮ অক্টোবর খাইরাবাদে পৌঁছাবে। সেখানে পৌঁছানোর পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর আগে এই লংমার্চটি গত ২৭ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এদিকে পিটিআইয়ের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে পাকিস্তানজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদিসহ পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে দলটির বেশ কয়েকজন নেতা ও মন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে এবং গত সপ্তাহে ইমরান খানের তিন বোনকেও গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইমরান খান বর্তমানে কারাগারে থাকলেও সমর্থকদের মাঝে তার বিপুল রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রয়েছে। সোহাইল আফ্রিদি দাবি করেছেন, সরকার মূলত পুরো Islamabad অবরুদ্ধ করে তাদের আন্দোলন দমাতে চাইছে। তবে ইমরান খানের সমর্থনে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামবে এবং তাদের থামানো সম্ভব হবে না। বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতির কারণে পিটিআই কর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
























