তিন লক্ষ্য নিয়ে জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী, গুরুত্ব পাচ্ছে ইপিএ
- আপডেট সময় : ০৭:৪৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন, তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো এবং দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের তিন লক্ষ্য সামনে রেখে টোকিও সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর এই সফরে জাপানের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি ইপিএ কার্যকর করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ইপিএ কার্যকর হলে জাপানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে। এটি এলডিসি উত্তরণ সামনে রেখে দুদেশের জন্যই একটি সম্ভাবনাময় চুক্তি। আগামী সংসদ অধিবেশনেই চুক্তিটি অনুমোদন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সফরে ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কৃষি, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হবে।
জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপনে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে। গত ৬ অক্টোবর টয়োটা তসুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ২০২৭ সালে হাইব্রিড বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানায়। ইপিএ’র আওতায় শুল্ক সুবিধা ও বিনিয়োগের নিয়ম সহজ হওয়ার সুযোগ থাকায় এটি দেশের আমদানিনির্ভর গাড়ি বাজারকে উৎপাদনমুখী শিল্পে রূপান্তরের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে স্বাক্ষরিত এই ইপিএ বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া আলোচনা শেষে এ চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন কাঠামোয় নিয়ে এসেছে। এর আওতায় বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়ির ৯৭ শতাংশ বা ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। বিপরীতে বাংলাদেশ জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে। চুক্তিতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ই-কমার্স এবং মেধাস্বত্বের মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিজিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপানে প্রায় ১১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা ৩০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া চামড়া, পাট, হিমায়িত মাছ ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, জাপানি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য উত্তরায় ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে এবং হংকংয়ে রোডশোর আয়োজন করা হচ্ছে।
২০২৬-৩১ মেয়াদে প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ১৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজ প্রস্তাব করার প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। এই তহবিলের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবহন অবকাঠামো, মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বন্দর ও জ্বালানি খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের সময় জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী ঢাকায় থাকছেন। কূটনৈতিক বিষয়াবলি ও সফরের সার্বিক সমন্বয় করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপীয় বিষয়ক সচিব এম নজরুল ইসলামকে টোকিও পাঠানো হয়েছে।
























