ঢাকা ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদি আরবে মার্কিন কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ছাড়ার নির্দেশ সম্প্রীতির বাংলাদেশ: অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অন্ধকার থেকে ফেরাতে শিশু-কিশোরদের পাশে চাই সচেতন অভিভাবক ও সমাজ মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনের আগে ইরান তেলের দাম বাড়াচ্ছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদিতে দণ্ডপ্রাপ্ত আরও ২০ বাংলাদেশির সাজার তথ্য চেয়ে চিঠি কনস্যুলেটের তিন লক্ষ্য নিয়ে জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী, গুরুত্ব পাচ্ছে ইপিএ নিবন্ধনের শর্তে জীবিকা হারানোর শঙ্কায় ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ইনিংসের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন অভিষেক শর্মা মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পালিত হলো জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস

সৌদিতে দণ্ডপ্রাপ্ত আরও ২০ বাংলাদেশির সাজার তথ্য চেয়ে চিঠি কনস্যুলেটের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবের কারাগারে বন্দী ২২ জন বাংলাদেশির নামের পাশে সরকারি তালিকায় ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ লেখা থাকলেও, তাঁদের কী শাস্তি হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। এই তালিকায় থাকা নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাঁদের মতো আরও ২০ জনের সাজা বা রায়ের কোনো সারসংক্ষেপ সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো তালিকায় উল্লেখ নেই। এই বন্দীদের প্রকৃত অবস্থা ও সাজার ধরণ জানতে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে।

গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জেদ্দা শাখায় এই চিঠি পাঠায়। কনসাল জেনারেল মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, বাংলাদেশের দণ্ডিত নাগরিকদের কনস্যুলার সুবিধা নিশ্চিত করার স্বার্থেই সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে এই সুস্পষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২ হাজার ৪৬১ জন বাংলাদেশির একটি তালিকা পাঠায়, যেখানে কয়েকজনের ক্ষেত্রে ‘রায়ের সারসংক্ষেপ’ কলামটি ফাঁকা পাওয়া গেছে।

কনস্যুলেটের সূত্র অনুযায়ী, তালিকায় থাকা ২২ জনের মধ্যে ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, ৫ জনের বিরুদ্ধে মাদক পাচার এবং ৫ জনের বিরুদ্ধে ‘ব্যক্তিগত অধিকার’ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এছাড়া দুজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন, একজনের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ এবং একজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ রয়েছে। বন্দীদের মধ্যে ছয়জন জেদ্দার জাহবান কারাগারে, ছয়জন শুমাইসিতে, চারজন জেদ্দা জেনারেল কারাগারে এবং বাকি ছয়জন নাজরান, খামিস, আল-বাহা, হাদ্দাহ ও জেদ্দার নারী কারাগারে বন্দী আছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আইনে হত্যা মামলায় কিসাস বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে, আবার রক্তপণ বা কারাদণ্ডেও মীমাংসা হতে পারে। তাই সুনির্দিষ্ট রায়ের তথ্য ছাড়া কার কী শাস্তি হয়েছে তা অনুমান করা সম্ভব নয়। রায়ের সারসংক্ষেপ না থাকায় কনস্যুলেটের পক্ষে আইনি সহায়তা, আপিলের সুযোগ বা রক্তপণের মীমাংসার মতো পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একই অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন দেশে থাকা বন্দীদের পরিবারগুলো।

তথ্যভান্ডার হালনাগাদ করা এবং নাগরিকদের সর্বোত্তম কনস্যুলার সেবা প্রদানের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কনস্যুলেট জানিয়েছে। এছাড়া ১৯ অক্টোবর আরেকটি চিঠিতে কনস্যুলেট ২ হাজার ৪৬১ জন বন্দীকে পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করে দ্রুত মুক্তি, রাজকীয় ক্ষমা এবং বিচারাধীন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এসব চিঠির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। এছাড়া আরও দুজন বাংলাদেশির বিষয়ে কনস্যুলেট তথ্য চেয়েছে, যাদের নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেপ্তার করলেও তাদের আটকের কারণ বা স্থান সম্পর্কে পরিবারগুলো অন্ধকারে রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদিতে দণ্ডপ্রাপ্ত আরও ২০ বাংলাদেশির সাজার তথ্য চেয়ে চিঠি কনস্যুলেটের

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের কারাগারে বন্দী ২২ জন বাংলাদেশির নামের পাশে সরকারি তালিকায় ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ লেখা থাকলেও, তাঁদের কী শাস্তি হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। এই তালিকায় থাকা নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাঁদের মতো আরও ২০ জনের সাজা বা রায়ের কোনো সারসংক্ষেপ সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো তালিকায় উল্লেখ নেই। এই বন্দীদের প্রকৃত অবস্থা ও সাজার ধরণ জানতে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে।

গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জেদ্দা শাখায় এই চিঠি পাঠায়। কনসাল জেনারেল মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, বাংলাদেশের দণ্ডিত নাগরিকদের কনস্যুলার সুবিধা নিশ্চিত করার স্বার্থেই সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে এই সুস্পষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২ হাজার ৪৬১ জন বাংলাদেশির একটি তালিকা পাঠায়, যেখানে কয়েকজনের ক্ষেত্রে ‘রায়ের সারসংক্ষেপ’ কলামটি ফাঁকা পাওয়া গেছে।

কনস্যুলেটের সূত্র অনুযায়ী, তালিকায় থাকা ২২ জনের মধ্যে ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, ৫ জনের বিরুদ্ধে মাদক পাচার এবং ৫ জনের বিরুদ্ধে ‘ব্যক্তিগত অধিকার’ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এছাড়া দুজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন, একজনের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ এবং একজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ রয়েছে। বন্দীদের মধ্যে ছয়জন জেদ্দার জাহবান কারাগারে, ছয়জন শুমাইসিতে, চারজন জেদ্দা জেনারেল কারাগারে এবং বাকি ছয়জন নাজরান, খামিস, আল-বাহা, হাদ্দাহ ও জেদ্দার নারী কারাগারে বন্দী আছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আইনে হত্যা মামলায় কিসাস বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে, আবার রক্তপণ বা কারাদণ্ডেও মীমাংসা হতে পারে। তাই সুনির্দিষ্ট রায়ের তথ্য ছাড়া কার কী শাস্তি হয়েছে তা অনুমান করা সম্ভব নয়। রায়ের সারসংক্ষেপ না থাকায় কনস্যুলেটের পক্ষে আইনি সহায়তা, আপিলের সুযোগ বা রক্তপণের মীমাংসার মতো পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একই অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন দেশে থাকা বন্দীদের পরিবারগুলো।

তথ্যভান্ডার হালনাগাদ করা এবং নাগরিকদের সর্বোত্তম কনস্যুলার সেবা প্রদানের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কনস্যুলেট জানিয়েছে। এছাড়া ১৯ অক্টোবর আরেকটি চিঠিতে কনস্যুলেট ২ হাজার ৪৬১ জন বন্দীকে পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করে দ্রুত মুক্তি, রাজকীয় ক্ষমা এবং বিচারাধীন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এসব চিঠির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। এছাড়া আরও দুজন বাংলাদেশির বিষয়ে কনস্যুলেট তথ্য চেয়েছে, যাদের নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেপ্তার করলেও তাদের আটকের কারণ বা স্থান সম্পর্কে পরিবারগুলো অন্ধকারে রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo