বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জাপান
- আপডেট সময় : ০৩:৩৫:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৭৭ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা (১ ডলার ১২২ টাকা ধরে)। জাপানের গণমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে, যা বার্তা সংস্থা রয়টার্সও তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই বিশাল বিনিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। জাপানের এই বিনিয়োগের প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, এশীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব হ্রাস করা এবং বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
এই অর্থ বাংলাদেশের অটোমোবাইল, অন্যান্য উৎপাদন শিল্প এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে, জাপানি ট্রেডিং হাউস সুমিতোমো করপোরেশনসহ অন্যান্য অংশীদারদের উদ্যোগে গড়ে তোলা ‘বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন’-এ জাপানি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করবে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি সই করেছে জাপান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার দিনের সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান যাবেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজেও তিনি অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হবে। গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার বিষয়ে জাপানের সঙ্গে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন-চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রসচিব আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, গবেষণা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে মেট্রোরেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত ও যোগাযোগ প্রকল্প নির্মাণ ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে আসছে। জাপানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদারের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



























