শামীম ওসমানের বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে দুই গুলিবিদ্ধ সাক্ষীর জবানবন্দি
- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন গুলিবিদ্ধ দুই প্রত্যক্ষদর্শী। জবানবন্দি শেষে তারা সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান ও ভাতিজা আজমেরী ওসমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির হয়ে জবানবন্দি দেন হাসান গাজী ও আল আমিন নামের ওই দুই সাক্ষী। নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তারা যথাক্রমে একাদশ ও দ্বাদশ সাক্ষী হিসেবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
জবানবন্দিতে ৩৯ বছর বয়সী হাসান গাজী জানান, গত ১৯ জুলাই তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। ওই সময় শামীম ওসমানের নেতৃত্বে তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, ভিকি, ডিস বাবু, শাহ নিজাম, টিটু, সাজনু ও শুভ্রসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা মিছিল লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি ছুড়লে পুরো মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। হামলার একপর্যায়ে একটি গুলি হাসান গাজীর বাম হাঁটুতে লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে চিকিৎসা নিলেও তিনি চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন।
হাসান গাজী আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেও শামীম ওসমানের গুণ্ডাবাহিনী হাসপাতালটি ঘিরে রেখেছিল। একপর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসে তাদের অনুরোধ করে বলে, ‘আপনারাও বাঁচেন, আমাদেরও বাঁচান।’ এমন পরিস্থিতিতে তিনি বাধ্য হয়ে বাসায় চলে যান। অর্থাভাব বা সঠিক চিকিৎসার অভাবে তিনি আর সুস্থ হতে পারেননি এবং চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। তিনি জানান, ওই দিন নারায়ণগঞ্জে আরও অনেক মানুষ হতাহত হয়েছেন। জবানবন্দি শেষে তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে দোষীদের বিচারের জোর দাবি জানান।
অনুরূপভাবে, আনুমানিক ২৪ বছর বয়সী অপর সাক্ষী আল আমিন জবানবন্দিতে বলেন, তিনি আগে অটোরিকশা চালাতেন, তবে পঙ্গুত্বের কারণে এখন তিনি বেকার। গত ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি ব্রিজের নিচে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। আন্দোলন চলাকালে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া দেয়। এরপরই শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে। এতে তার পায়ের গোড়ালিতে গুলি লাগে। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। ওই দিন তার চোখের সামনে অসংখ্য ছাত্র-জনতা হতাহত হয়েছেন উল্লেখ করে আল আমিনও ট্রাইব্যুনালের কাছে আসামিদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।



























