ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক: প্রেস কাউন্সিল ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে একদিনে গ্রেপ্তার ৪৬৫, মামলা ৭৩ কয়রার যোগাযোগ সংকট কাটাতে ৬০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ দেশে ২ কোটি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা, লক্ষ্য আরও ৩৫ লাখ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি ভাঙ্গুড়ায় নৈশ প্রহরী পদে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সিসিটিভিতে ধরা পড়ল প্রিজন ভ্যান থেকে পিচ্চি রাজার পালানোর দৃশ্য বাংলাদেশ সফরে আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শহীদ মনোযোগের রাশ কার হাতে, আপনার নাকি ফোনের স্ক্রিনের? যুক্তরাষ্ট্রে ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকর হবে সাবেক মেজরের মৃত্যুদণ্ড

পাঠ্যবইয়ের মানে কোনো ছাড় নয়: কঠোর হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, পাঠ্যবইয়ের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ঢাকাস্থ কচুয়া উপজেলা সমিতি আয়োজিত ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো ছাপাখানা যদি নিম্নমানের বই সরবরাহ করে কিংবা প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তবে পরবর্তী বছর থেকে তাকে আর বই ছাপার কাজ দেওয়া হবে না। তিনি জানান, ইতোমধ্যে যেসব নিম্নমানের পাঠ্যবই পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিল করে নষ্ট করা হয়েছে। বই প্রণয়ন, ছাপা ও বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে মান নিশ্চিত করা হবে এবং কাগজ, কালি ও ছাপার গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

স্থানীয় মুদ্রণশিল্পের বিকাশে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মুদ্রণশিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বছর কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে পাঠ্যবই ছাপার কাজ দেওয়া হয়নি। স্থানীয় ছাপাখানাগুলো দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চলমান মিড ডে মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে কুপন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ক্যান্টিন থেকে খাবার সংগ্রহ করতে পারবে। এছাড়া খাবারের তালিকায় নতুন আইটেম যুক্ত করা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে খাবার সরবরাহ ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কারিগরি ও উৎপাদনমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতায় দক্ষ জনশক্তির কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং দেশের প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালুর পাশাপাশি সৌদি আরবেও টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে স্পোর্টস ও কালচারাল বই অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র দুই সেটে দুই স্থান থেকে প্রস্তুত করা হবে এবং এ জন্য বিজি প্রেস ও আর্মি সিকিউরিটি প্রেস ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্ষাকালীন দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি খাতা পুনর্মূল্যায়ন ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বাংলাদেশকে ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ক্রস-বর্ডার এডুকেশন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থাকা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশে শাখা স্থাপন করতে চাইলে অনুমোদনের সুযোগ তৈরি করা হবে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কচুয়ার সার্বিক অগ্রগতিতে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কচুয়ার শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং এ অঞ্চলের উন্নয়নে ‘শ্যাডো মিনিস্টার’ ও কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন নাজমুন নাহার বেবি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

পাঠ্যবইয়ের মানে কোনো ছাড় নয়: কঠোর হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৩:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, পাঠ্যবইয়ের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ঢাকাস্থ কচুয়া উপজেলা সমিতি আয়োজিত ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো ছাপাখানা যদি নিম্নমানের বই সরবরাহ করে কিংবা প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তবে পরবর্তী বছর থেকে তাকে আর বই ছাপার কাজ দেওয়া হবে না। তিনি জানান, ইতোমধ্যে যেসব নিম্নমানের পাঠ্যবই পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিল করে নষ্ট করা হয়েছে। বই প্রণয়ন, ছাপা ও বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে মান নিশ্চিত করা হবে এবং কাগজ, কালি ও ছাপার গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

স্থানীয় মুদ্রণশিল্পের বিকাশে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মুদ্রণশিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বছর কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে পাঠ্যবই ছাপার কাজ দেওয়া হয়নি। স্থানীয় ছাপাখানাগুলো দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চলমান মিড ডে মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে কুপন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ক্যান্টিন থেকে খাবার সংগ্রহ করতে পারবে। এছাড়া খাবারের তালিকায় নতুন আইটেম যুক্ত করা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে খাবার সরবরাহ ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কারিগরি ও উৎপাদনমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতায় দক্ষ জনশক্তির কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং দেশের প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালুর পাশাপাশি সৌদি আরবেও টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে স্পোর্টস ও কালচারাল বই অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র দুই সেটে দুই স্থান থেকে প্রস্তুত করা হবে এবং এ জন্য বিজি প্রেস ও আর্মি সিকিউরিটি প্রেস ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্ষাকালীন দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি খাতা পুনর্মূল্যায়ন ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বাংলাদেশকে ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ক্রস-বর্ডার এডুকেশন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থাকা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশে শাখা স্থাপন করতে চাইলে অনুমোদনের সুযোগ তৈরি করা হবে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কচুয়ার সার্বিক অগ্রগতিতে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কচুয়ার শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং এ অঞ্চলের উন্নয়নে ‘শ্যাডো মিনিস্টার’ ও কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন নাজমুন নাহার বেবি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh