ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সালথায় মুরগি নিয়ে বিরোধের জেরে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার ফুলহামের বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহান থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং: চার আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নাম জমা হানি ট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার রাজবাড়ীতে আমবাগান থেকে ৪২টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার ম্যারাডোনার চিকিৎসায় অবহেলা: ৭ স্বাস্থ্যকর্মীর ১২ বছরের কারাদণ্ড চাইলেন আইনজীবীরা রায়পুরায় ম্যারাথন: অংশ নিলেন দেশ-বিদেশের প্রায় ১ হাজার দৌড়বিদ মতিঝিলে ভবন দখলের অভিযোগ: যুব অধিকার পরিষদ থেকে সানি সারোয়ার বহিষ্কার রিকশাচালক হিসেবে হাজির হয়েছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা: চিফ হুইপ শনিবার শুভ মহালয়া, শুরু হচ্ছে দেবীপক্ষ ও দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা

যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ দিনের কারাবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে মাহমুদ খলিলের স্মৃতিকথা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত অধিকারকর্মী মাহমুদ খলিল যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ১০৪ দিন বন্দি থাকার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘নো ল্যান্ড টু স্ট্যান্ড অন’ (দাঁড়ানোর কোনো দেশ নেই) নামে একটি স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এই বইটিতে তিনি তার জীবনের বিভিন্ন কঠিন অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কারাবাসের স্মৃতি তুলে ধরেছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর পর বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর অংশ হিসেবে নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে নামেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিল এই আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার এই ভূমিকার কারণে তিনি ইসরাইলপন্থি রক্ষণশীল গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। সিরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নুর আবদুল্লাহর সঙ্গে বিয়ের সুবাদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেলেও, তাকে বহিষ্কারের জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারীদের দমনের অংশ হিসেবে গত বছরের ৮ মার্চ নিউ ইয়র্কের ম্যানহ্যাটানের ফ্ল্যাট থেকে মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস তদারককারী বাহিনী আইস। কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই গর্ভবতী স্ত্রীর সামনে থেকে তাকে হাতকড়া পরিয়ে একটি নম্বরবিহীন গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। লুইজিয়ানার আটক কেন্দ্রে তাকে ১০৪ দিন বন্দি রাখা হয়। এই সময়ে তাকে কোনো ফোন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা তাকে আসাদ শাসিত সিরিয়ার বন্দি জীবনের কথা মনে করিয়ে দেয়। ১১ জুন মার্কিন ফেডারেল জজ আদালত তার আটককে অবৈধ ঘোষণা করলে ২০ জুন তিনি মুক্তি পান।

বইটিতে মাহমুদ তার জীবনের নানা সংগ্রামের কথা লিখেছেন। সিরিয়ার খান আলশিহ শরণার্থী শিবিরে ১৯৯৫ সালে জন্ম নেওয়া মাহমুদ ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় লেবাননে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং ২০২২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। এর আগে ২০১১ সালের মে মাসে গোলান মালভূমি সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনে গিয়ে ইসরাইলি বাহিনীর পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তিনি আহত হয়েছিলেন। সেই শার্পনেল এখনো তার বাম পায়ে রয়ে গেছে।

কারাগারে থাকাকালীন নিজের প্রথম সন্তানের জন্মের সময় উপস্থিত থাকার আবেদন জানালেও তা মঞ্জুর করা হয়নি। ফলে স্ত্রী নুর একাকীই সন্তানের জন্ম দেন। পরে লুইজিয়ানার আটক কেন্দ্রে পরিবারের সাথে মাত্র এক ঘণ্টার সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। মাহমুদ উল্লেখ করেন, তার দাদা ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন এবং তার বাবা ২০১৫ সালে সিরিয়া ছেড়েছিলেন। এখন তিনি নিজেও তার বক্তব্য ও পরিচয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে বহিষ্কারের মুখোমুখি হয়েছেন। আদালতের রায়ে মুক্তি পেলেও ট্রাম্প প্রশাসন এখনো তাকে বহিষ্কারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ দিনের কারাবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে মাহমুদ খলিলের স্মৃতিকথা

আপডেট সময় : ১০:৫৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত অধিকারকর্মী মাহমুদ খলিল যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ১০৪ দিন বন্দি থাকার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘নো ল্যান্ড টু স্ট্যান্ড অন’ (দাঁড়ানোর কোনো দেশ নেই) নামে একটি স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এই বইটিতে তিনি তার জীবনের বিভিন্ন কঠিন অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কারাবাসের স্মৃতি তুলে ধরেছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর পর বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর অংশ হিসেবে নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে নামেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিল এই আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার এই ভূমিকার কারণে তিনি ইসরাইলপন্থি রক্ষণশীল গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। সিরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নুর আবদুল্লাহর সঙ্গে বিয়ের সুবাদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেলেও, তাকে বহিষ্কারের জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারীদের দমনের অংশ হিসেবে গত বছরের ৮ মার্চ নিউ ইয়র্কের ম্যানহ্যাটানের ফ্ল্যাট থেকে মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস তদারককারী বাহিনী আইস। কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই গর্ভবতী স্ত্রীর সামনে থেকে তাকে হাতকড়া পরিয়ে একটি নম্বরবিহীন গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। লুইজিয়ানার আটক কেন্দ্রে তাকে ১০৪ দিন বন্দি রাখা হয়। এই সময়ে তাকে কোনো ফোন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা তাকে আসাদ শাসিত সিরিয়ার বন্দি জীবনের কথা মনে করিয়ে দেয়। ১১ জুন মার্কিন ফেডারেল জজ আদালত তার আটককে অবৈধ ঘোষণা করলে ২০ জুন তিনি মুক্তি পান।

বইটিতে মাহমুদ তার জীবনের নানা সংগ্রামের কথা লিখেছেন। সিরিয়ার খান আলশিহ শরণার্থী শিবিরে ১৯৯৫ সালে জন্ম নেওয়া মাহমুদ ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় লেবাননে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং ২০২২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। এর আগে ২০১১ সালের মে মাসে গোলান মালভূমি সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনে গিয়ে ইসরাইলি বাহিনীর পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তিনি আহত হয়েছিলেন। সেই শার্পনেল এখনো তার বাম পায়ে রয়ে গেছে।

কারাগারে থাকাকালীন নিজের প্রথম সন্তানের জন্মের সময় উপস্থিত থাকার আবেদন জানালেও তা মঞ্জুর করা হয়নি। ফলে স্ত্রী নুর একাকীই সন্তানের জন্ম দেন। পরে লুইজিয়ানার আটক কেন্দ্রে পরিবারের সাথে মাত্র এক ঘণ্টার সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। মাহমুদ উল্লেখ করেন, তার দাদা ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন এবং তার বাবা ২০১৫ সালে সিরিয়া ছেড়েছিলেন। এখন তিনি নিজেও তার বক্তব্য ও পরিচয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে বহিষ্কারের মুখোমুখি হয়েছেন। আদালতের রায়ে মুক্তি পেলেও ট্রাম্প প্রশাসন এখনো তাকে বহিষ্কারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh