সালথায় মুরগি নিয়ে বিরোধের জেরে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০৪:২৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পোষা মুরগি নিয়ে বিরোধের জেরে ডালিম বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের তুগোলদিয়া গ্রামের নিজ বসতঘরের টয়লেট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ডালিম বেগম ওই গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুল মোল্যার স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী কামরুল মোল্যার বাড়িতে ডালিম বেগমের পোষা মুরগি যাওয়া-আসা করত। এ নিয়ে মাসখানেক আগে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবেশীরা ডালিম বেগমের দুটি মুরগি বিষ খাইয়ে এবং বেশ কয়েকটি পিটিয়ে মেরে ফেলে। ওই সময় মৃত মুরগিগুলো অন্য প্রতিবেশীদের দেখিয়ে প্রতিবাদ করেন ডালিম বেগম। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাতি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য একটি সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
গত বুধবার বিকেলে ডালিম বেগম আরেক অসুস্থ প্রতিবেশী বকুল মোল্যাকে দেখতে যাওয়ার সময় কামরুল মোল্যার উঠান ব্যবহার করেন। এ নিয়ে আবারও কথা-কাটাকাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রতিবেশী কামরুল মোল্যা (৪০), তাঁর ভাবি কল্পনা বেগম (৪৫) এবং ভাতিজা ইমামুল মোল্যা (২৪) ডালিম বেগমকে বেধড়ক মারধর করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় সালিশ বৈঠক বসলেও কামরুল ও তাঁর লোকজন বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তখন ডালিম বেগম জানান, পরের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেবেন।
এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ঘরের টয়লেট থেকে ডালিম বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা ডালিম বেগমকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কামরুল মোল্যা, কল্পনা বেগম ও ইমামুল মোল্যা পলাতক রয়েছেন। বাড়িতে তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি এবং তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরগুলোও বন্ধ রয়েছে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে আসে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।



























