ইমরানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের পদযাত্রা, ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা
- আপডেট সময় : ১২:০৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই)। আগামী ৪ অক্টোবর এই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর পদযাত্রার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও তা এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে বর্তমান সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে দলটি।
২০২৩ সাল থেকে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে বন্দি ইমরান খান। কারাগারে তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ ও শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি নিয়ে দলের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ রয়েছে। সম্প্রতি ইমরান খানের বোনসহ দলীয় নেতারা কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি, বরং তার দুই বোনকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই পিটিআই তাদের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
পিটিআইয়ের এই পদযাত্রা সামরিক বাহিনী সমর্থিত বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকারকে জনসমর্থনহীন ও দুর্বল মনে করা হলেও ইমরান খান এখনো জনসমাবেশে বিপুল সমর্থন আদায়ে সক্ষম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতিমধ্যে পিটিআইয়ের কয়েক ডজন নেতা ও মন্ত্রীকে আটক করেছে বা তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। সোমবার ইমরান খানের তিন বোনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরির অভিযোগে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
খাইবার পখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি জানিয়েছেন, প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ার থেকে হাজার হাজার সমর্থক ইসলামাবাদের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। তিনি বলেন, সরকার আতঙ্কিত বলেই রাজধানী অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং আমাদের মন্ত্রীদের অপহরণ করছে। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি ইমরানের মামলাগুলোর ন্যায্য শুনানি ও কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে উল্লেখযোগ্য ছাড় না দেয়, তবে এই পদযাত্রা অব্যাহত থাকবে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল মোতায়েনের কারণে যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কাও রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
সরকার ইতিমধ্যে খাইবার পখতুনখোয়ার প্রধান মহাসড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে এবং ইসলামাবাদকে একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত দুর্গের রূপ দিয়েছে। রাজধানীতে ২২ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। শহরজুড়ে এক হাজারের বেশি পণ্যবাহী কন্টেইনার বসানো হয়েছে, যার অনেকগুলোতে কাঁটাযুক্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এছাড়া সেতুগুলোতে বালুর বস্তা রাখা হয়েছে এবং জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
খাইবার পখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি সরকারের এই পদক্ষেপকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করে পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ তুলেছেন। এদিকে সরকারের এই অবরোধমূলক পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে এবং অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে পারছে না।




























